তালেবানের বিজয় বিস্ময়কর হলেও লক্ষণীয়

OnlineStaff OnlineStaff
প্রকাশিত: ০৭:৩৪ পিএম, ২৬ আগষ্ট ২০২১

রায়হান আহমেদ তপাদার: গত দুই দশকে যুক্তরাষ্ট্রের ওপরে বাইরে থেকে যে সন্ত্রাসী হামলা সংঘটিত হয়নি, সেটাকেই যুক্তরাষ্ট্র সাফল্য বলে দাবি করতে পারে। এর চেয়ে বেশি কিছু দাবি করা যাবে না। তার জন্য যে ব্যয় হয়েছে অর্থ ও জীবনের হিসাবে সেটা কি আনুপাতিক? অবশ্যই তা আনুপাতিক নয়। যুক্তরাষ্ট্র যে আফগানিস্তানে ঊনবিংশ শতাব্দীতে ব্রিটেনের কিংবা বিংশ শতাব্দীতে সোভিয়েত ইউনিয়নের পরাজয় থেকে শিক্ষা নেয়নি, সেটিই কেবল তাদের ব্যর্থতা নয়; এমনকি তারা যে ভিয়েতনামে তাদের নিজেদের পরাজয় থেকেও শিক্ষা নেয়নি, সেটাই লক্ষণীয়। আমেরিকা যখন বিশ বছর আগে আফগানিস্তান আক্রমণ করল তখন তার কী অধিকার ছিল এভাবে একটি স্বাধীন দেশের মানুষের ওপর বিমান হামলা চালিয়ে হাজার হাজার মানুষ হত্যা করার। আমেরিকার নেতৃত্বে তৈরি করা বিশ্ব সর্বজনীন মানবাধিকারের ঘোষণা কি তাদের এ আক্রমণকে বৈধতা দিতে পারবে? তাহলে কি আমেরিকা নিজে এর ভক্ষক হয়নি? তারা কি নিজেরাই বিশ্বাসঘাতক হয়ে যায়নি? আফগানিস্তানে যারা তাদের সহযোগী হয়েছে তারা কি বিশ্বাসঘাতক নয়? এখন অনেক শোরগোল শোনা যাচ্ছে যে আমেরিকা তার বন্ধুদের রক্ষা না করেই আফগানিস্তান থেকে পালিয়েছে। অনেকে তথ্য প্রমাণ উত্থাপন করছেন, কিভাবে দোভাষী হিসেবে কাজ করা আফগান নাগরিকদের দরখাস্তকে আমেরিকান দূতাবাস প্রত্যাখ্যান করেছে। আমেরিকা কি তাদের সহযোগীদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেনি? একই ধরনের বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ করা হয়েছে ভিয়েতনামে যারা তাদের কলাবরেটর হিসেবে কাজ করেছিল তাদের পক্ষ থেকেও কাবুল বিমানবন্দরে সৃষ্ট নজিরবিহীন দৃশ্যের কথা মানুষ শতাব্দীর পর শতাব্দী ভুলবে না। 
অনেকেই আফগান বিমানবন্দরে সায়গন থেকে আমেরিকার পালিয়ে যাওয়ার শেষ চিত্রটি দেখতে পাচ্ছেন। পার্থক্য হচ্ছে, সেখানে আমেরিকার সাথে যারা কলাবরেটর ছিল তারা পালানোর এ ধরনের কসরত করেনি। কিংবা তাদের সে সুযোগ হয়তো ছিল না। কাবুলে আশ্রয় নেয়া বিদেশী বাহিনীর সহযোগীরা আমেরিকান প্লেনে করে তাদের সাথেই চলে যেতে চাইছে। তারা হয়তো ভাবছে, এতদিন দেশ ও দেশের মানুষের বিরুদ্ধে যে অপরাধ তারা করেছে তার একটা মাশুল তাদের দিতে হবে। কারণ তাদের অন্যায় কর্মের হয়তো অনেক সাক্ষী রয়েছে। তারা একদিন মুখ খুলবে। সেই ভয় থেকে পালাতে গিয়ে সম্ভবত বিশৃঙ্খলা। আফগানিস্তানে বর্তমানে যারা বিজয়ী তাদের কারণে এই বিশৃঙ্খলা নয়, ব্যাপারটি পরিষ্কার। কাবুল থেকে প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানির পালানোর পর ‘জঙ্গি’ শব্দটি পরিবর্তন হয়ে ‘যোদ্ধা’ হয়ে গেল। এটা ঠিক যে জঙ্গি বলতে যেসব উগ্রতা ও সীমালঙ্ঘনের দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করা হচ্ছে সেসবের বিবরণ সত্যিই আর পাওয়া যাচ্ছে না। 
আফগান সরকারি বাহিনী’ পালিয়ে গেছে, তাদের অনেকে হয়তো বিজয়ী দলের সাথে মিশে গেছে। অথচ এই বাহিনীকে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়েছিল। তাদের শেখানো হয়েছিল মানবাধিকার, নারীর মর্যাদা ও দেশপ্রেম ইত্যাদি। অন্য দিকে এ ধরনের নৈতিক মানবিক অবস্থান নেই তালেবানের। তার পরেও ‘উন্নত মূল্যবোধ’ নিয়ে সরকারি বাহিনী তালেবানের সামনে দাঁড়াতে পারেনি। তাহলে এতদিন প্রচারিত ঘটনাগুলো কি মিথ্যা; না মূল্যবোধ এখন অন্য কোনো অর্থ ধারণ করছে? 
আমেরিকান সৈন্য নিয়ন্ত্রিত কাবুল বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলার মধ্যে অনেক রহস্য রয়েছে। দেখা যাচ্ছে হাজার হাজার মানুষ দৌড়াচ্ছে বিমানে ওঠার জন্য। রানওয়েতে যখন বিমান উড্ডয়নের প্রস্তুতি নিচ্ছে সেখানে তারা ঝাঁপিয়ে পড়ছে। কেউ কেউ ডানা ঝাপটে ধরে ঝুলে আছে। বিমান যখন আকাশ উঠছে তাদের কেউ কেউ খসে পড়ে গেছে। কেউ কেউ বিমানের পাখার ঘূর্ণনে মোমের মত গলে ছিন্নভিন্ন হয়েছে। এভাবে যারা বিমানে উঠতে চেয়েছে তারা কেউ বিদেশী নয়। সবাই আফগান। তালেবানের কর্মকাে র মধ্যে কোনো ধরনের প্রতিশোধ স্পৃহা এখনো দেখা যাচ্ছে না। তারা সবার জন্য ক্ষমা ঘোষণার পরও কেন এসব লোক পালিয়ে যাওয়ার জন্য জীবন দিয়ে দিচ্ছে? সেই প্রশ্নের উত্তর জানা দরকার। তাহলে এরা কি সেই সব লোক যারা আসলে দেশের মানুষের জন্য বিগত বিশ বছরে কিছু করেনি বরং সুযোগ পেলেই ক্ষতি করেছে। আগ্রাসী শক্তির সব সময় ওরা সহযোগী হয়েছে। রাষ্ট্র হিসেবে আফগানিস্তানের বেশ ক’টি শক্তিমান কূটনৈতিক অংশীদার পক্ষ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে তিন বৃহৎ বৈশ্বিক শক্তি আমেরিকা, চীন ও রাশিয়া। এই তিন পক্ষের তিনটি ভিন্ন নিরাপত্তাগত উদ্বেগ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ রয়েছে আলকায়েদা ও আইএস-এর মতো উগ্রবাদী শক্তি যারা আমেরিকার স্বার্থে আঘাত হানতে চায়। এ ধরনের শক্তি যাতে আফগানিস্তানে প্রশ্রয় না পেতে পারে তার জন্য য়ুক্তরাষ্ট্রের সাথে চুক্তি হয়েছে। 
কিন্তু মার্কিন সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কাবুলে ক্ষমতা হস্তান্তরের স্বীকৃতি এখনো দেয়নি আর পররাষ্ট্র দফতরের কর্মকর্তারাও বলতে অস্বীকার করেছেন যে, আমেরিকা এখনো আশরাফ ঘানিকে আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দেয় কি না। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, ভবিষ্যতের আফগান সম্পর্ক তালেবানের কর্মের ওপর নির্ভর করবে। আফগানিস্তানে তালেবান সরকারকে কেবল তখনই স্বীকৃতি দেয়া হবে যদি সরকার নারীর অধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে এবং সন্ত্রাসীদের থেকে দূরে থাকে। চীনের প্রধান নিরাপত্তা উদ্বেগ হলো জিংজিয়াং। আফগানিস্তানের মোট জনসংখ্যার ৩৮ শতাংশ তাদের একই বৃহত্তর জাতিগোষ্ঠীর সদস্য আর ধর্মীয় বিশ্বাসের ক্ষেত্রেও রয়েছে অভিন্নতা। যুক্তরাষ্ট্র এই চীনা উইঘুরদের সমর্থনের জন্য আফগানিস্তানের ভূমিকে অতীতে ব্যবহার করেছে। সেটি যাতে সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে তার নিশ্চয়তা বিধান করতে তালেবানরা চীনের সাথে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। রাশিয়ার উদ্বেগ হলো মধ্য এশিয়া এবং তার ককেসাস অংশ নিয়ে। এই অঞ্চলের অধিকাংশ জনগোষ্ঠী তুর্কি জাতিগোষ্ঠী ধারার এবং ধর্মীয় বিশ্বাসের ক্ষেত্রে সুন্নি মুসলিম। আফগানিস্তানকে যাতে এই অঞ্চলের কোনো শক্তি ব্যবহার করতে না পারে তা নিশ্চিত হতে চায়, যেটি আমেরিকার একটি কৌশলগত কাজের অংশ হতে পারে বলে মস্কোর আশঙ্কা রয়েছে। তালেবানরা মস্কোর এই নিরাপত্তা উদ্বেগের ব্যাপারেও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অন্য দু’টি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান ও ইরানের নিরাপত্তা উদ্বেগ হলো দেশ দু’টির অন্তর্ঘাত ও বিচ্ছিন্নতাবাদী কর্মকাে  আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার সম্পূর্ণ বন্ধ হওয়া। আগের শাসনে পাকিস্তানের প্রধান উদ্বেগ ছিল আফগান ফ্রন্ট। এখান থেকে মদদ নিয়ে খাইবারপাখতুন খোয়ায় টিটিপি ও বেলুচিস্তানে বালুচ বিদ্রোহীরা অন্তর্ঘাতী কাজ চালিয়ে গেছে। তালেবান সরকার কোনোভাবেই এ ধরনের কোনো সুযোগ দেবে না বলে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আর ইরানের বেলুচদের মধ্যে যে বিদ্রোহী তৎপরতা রয়েছে তারাও যাতে কাবুল সরকারের প্রত্যক্ষ পরোক্ষ মদদ না পায় সেটি নিশ্চিত করা হয়েছে। 
তালেবানদের এবারের ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ে যে বিষয়টি বিশেষভাবে দেখা গেছে সেটি হলো, তারা ক্ষমা উদার মনোভাব অন্তর্ভুক্তিমূলক মানসিকতা আর মৌলিক বিষয়ে বিচ্যুত না হওয়ার নীতি অনুসরণ করেছে। ক্ষমতায় যাওয়ার পরও সেই নীতিই তারা অনুসরণ করবে বলে মনে হচ্ছে। তারা রাষ্ট্রের সব ধরনের পরিষেবা প্রদানকারী ব্যবস্থায় কর্মরতরা যেভাবে আছে সেভাবেই রাখবে এবং তাদের উদ্দীপ্ত করার জন্য ৫ শতাংশ বেতন বাড়িয়ে দেবে। আফগান নিরাপত্তাবাহিনীর যেসব সদস্য রয়েছেন তাদের মধ্যে যারা চাকরিতে বহাল থাকতে চাইবে তাদের তিন থেকে ছয় মাসের একটি উদ্বুদ্ধকরণ প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। এতে যারা সততা ও কমিটমেন্টের ব্যাপারে উপযুক্ত প্রমাণ হবে তারা সেনাবাহিনী বা পুলিশ বাহিনীর চাকরিতে ফিরে যেতে পারবে। আর তালেবান মিলিশিয়া বা যোদ্ধাদের মধ্যে যারা সামরিক বাহিনী বা পুলিশে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার মধ্যে বয়স ও অন্যান্য বিবেচনায় যোগ্য হবেন তারাই এর অন্তর্ভুক্ত হবেন। বাস্তবে তালেবান প্রশাসনের ধরন ঠিক কী হবে সেটি একেবারে নিশ্চিত করে বলা কঠিন। তবে তালেবানের এখন নেতৃত্বের যে কয়েকটা স্তর রয়েছে তাতে জাতিগত পশতুন, তাজিক, উজবেক, হাজারা তুর্কমেন সব পক্ষের প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। এবারের লড়াইটাও সেভাবেই হয়েছে। তালেবানদের রাষ্ট্র চালানোর আগের অভিজ্ঞতা রয়েছে। তবে ২০ বছর আগের পরিস্থিতি ও প্রেক্ষাপট এখন অনেকটাই ভিন্ন। এক দিকে চল্লিশ বছরের এক যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ, অন্য দিকে দীর্ঘ গৃহযুদ্ধে বিভক্তি এবং আন্তর্জাতিক শক্তিসমূহের নতুন করে প্রক্সি-যুদ্ধে জড়ানোর আশঙ্কা আর বৃহৎ শক্তিগুলোর মধ্যে যে বৈশ্বিক দ্বন্দ্ব সঙ্ঘাত রয়েছে তার প্রভাব পড়া। তালেবান নেতৃত্বের সাম্প্রতিক কর্মকাে  এই ক্ষেত্রে যে বিশেষ প্রভাব লক্ষণীয় সেটি হলো তারা আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর মধ্যে আফগানিস্তানে যার যতটুকু সম্পৃক্ততা ঠিক ততটুকু আলোচনা সমঝোতায় যেতে চেষ্টা করেছেন।  আমেরিকা চীন ও রাশিয়ার সাথে তালেবানদের আনুষ্ঠানিক চুক্তি বা সমঝোতা হয়েছে। 
এসব সমঝোতায় যে ক’টি মৌলিক বিষয় উঠে এসেছে তা হলো আফগানিস্তানের বাইরের কোনো দেশের বিরুদ্ধে দেশটির ভূমি ব্যবহার করে কোনো ধরনের তৎপরতা চালানোর সুযোগ দেয়া হবে না। আর আফগানিস্তানও বাইরের কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ের সাথে যুক্ত হবে না। অর্থনৈতিক বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও অন্যান্য সহযোগিতা গ্রহণের ক্ষেত্রে উন্মুক্ত হবে,এ ক্ষেত্রে কেবল আফগানিস্তানের জাতীয় স্বার্থ মুখ্য বিবেচিত হবে। আফগানিস্তানের সুশাসন প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতির মূলোৎপাটন এবং ন্যায়ভিত্তিক কর্মসংস্থানের মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে অগ্রসর করার প্রচেষ্টা চালানো হবে। অভ্যন্তরীণভাবে ইসলামী অর্থনীতি ও ব্যাংকব্যবস্থা অনুসরণ করা হবে আর আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, মানবাধিকার রক্ষা ইত্যাদি বৈশ্বিক অনুশাসনের সাথে সমন্বয় করা হবে। এখন প্রশ্ন হলো আফগানিস্তানে কী হতে যাচ্ছে। তালেবানরা সেখানে কী ধরনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চাইছেন। তাদের স্বল্প মধ্য বা দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যইবা কী? আর আফগানিস্তানের প্রতিবেশী দেশ, বিশেষত চীন রাশিয়া পাকিস্তান ইরান তুরস্ক, যেসব দেশ তালেবানের নেতৃত্বাধীন সরকারকে স্বীকৃতি দানের কথা বলছে, তারা আফগানিস্তান থেকে কী প্রত্যাশা করে। আর যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র ইউরোপ ও ন্যাটোর দেশগুলো, সেই সাথে আফগানিস্তানের নতুন পরিবর্তনে কী ভূমিকা পালন করতে পারে সেটিও একটি বড় প্রশ্ন। স্বল্প মেয়াদের যে দৃশ্যপট আফগানিস্তানে দেখা যাচ্ছে তাতে মনে হয় তালেবানের নেতৃত্বাধীন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার আফগানিস্তানে খুব শিগগির প্রতিষ্ঠিত হবে। তবে পররাষ্ট্র বিষয়ে রুশ সংসদের একজন মুখপাত্র বলেছেন মানবিক বিপর্যয় রোধ করা এখন খুবই জরুরি। ইইউর একজন মুখপাত্র বলেছেন যে, আফগানিস্তানে মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে কিনা এবং নারীর অধিকার মেনে চলা হচ্ছে কিনা তার ওপর নির্ভর করবে মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখা হবে কিনা। ভাটিকানে পোপ ফ্রান্সিস বলেছেন, একমাত্র আলোচনার মাধ্যমেই আফগানিস্তানে দীর্ঘমেয়াদে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা সম্ভব। 
লেখক: গবেষক ও কলামিস্ট 
[email protected]