দেশের জাতীয় উন্নয়ন ও গণমাধ্যম

OnlineStaff OnlineStaff
প্রকাশিত: ০২:০৯ পিএম, ২২ এপ্রিল ২০২১

ওসমান গনি: জাতীয় অর্থনীতির উন্নয়নে দেশের প্রতিটি খাত কোন না কোনভাবে যার যার অবস্থান থেকে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। কারণ কোন একক বা একক খাতের উন্নয়নে একটা দেশের জাতীয় উন্নয়ন সম্ভব না। দেশের সকল খাতের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে একটা দেশের জাতীয় অর্থনীতি পুরোপুরিভাবে পূর্ণাঙ্গতা লাভ করে থাকে। দেশের উন্নয়নের কথা বলতে গেলেই চলে আসবে গণমাধ্যমের কথা। গণমাধ্যমের আগে উন্নয়ন বাস্তবায়নের ভাবনা গাছ লাগানোর আগে ফল চাওয়ার মতো। উন্নয়ন ও গণমাধ্যম এ দুটি শব্দের উপস্থিতি অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। একটি অপরটি ছাড়া ভারসাম্যহীন। গণতন্ত্র, সুশাসন ও উন্নয়নের সাথে গণমাধ্যমের নিবিড়তম সম্পর্ক রয়েছে। গণযোগাযোগ ও অবাধ তথ্যপ্রবাহকে উপেক্ষা করে জাতীয় উন্নয়ন ও অগ্রগতি শুধুই কল্পনাবিলাস বৈ আর কিছু নয়। আর নিয়ন্ত্রিত ও শৃঙ্খলিত সংবাদ মাধ্যম কোন জাতির জন্য মোটেই ইতিবাচক নয়। সার্বিক দিক বিবেচনায় আধুনিক গণমাধ্যম রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে। মূলত সংবাদপত্র আর সংবাদকর্মীর মাধ্যমে জনগণের আশা-আকাংক্ষা, চাহিদা, জনমত সৃষ্টি ও সমাজের ভালোমন্দের প্রতিফলন ঘটে। তাই আধুনিককালে গণযোগাযোগ এবং সাংবাদিকতাকে উন্নয়ন ও অগ্রগতির প্রতিভুও বলা হয়। 
একজন আত্মসচেতন ও বিবেকবান সংবাদকর্মি দেশ ও জাতির জন্য পথপ্রদর্শক। মূলত সংবাদকর্মিরা মানুষের আশা-আকাংখা, চাহিদা, প্রয়োজন ও স্বপ্নকে জাগিয়ে তোলার ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করেন। গণমাধ্যম তার স্ফূরণ ঘটাতে সহায়ক হয়। আর তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব জনপ্রতিনিধি, সরকার বা রাষ্ট্রের। কোন অবহেলিত ও অনগ্রসর জনপদের সমস্যা, সম্ভাবনা ও প্রতিকার লেখনির মাধ্যমে চিহ্নিত করতে সংবাদকর্মি ও সংবাদপত্রে ভূমিকার গুরুত্ব উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। আধুনিক প্রচার মাধ্যম সমাজে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর মধ্যে চিন্তা ও দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ঘটিয়ে দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে। সুবিধাবঞ্চিত জনপদ ও নাগরিকদের অধুনিক ও সমৃদ্ধ মানুষে পরিণত করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে। আর গণমাধ্যমই পারে মানুষকে নতুন নতুন চিন্তা, ধারণা ও পদ্ধতি সম্পর্কে গণসচেতনতা সৃষ্টি করে উন্নত সমাজ প্রতিষ্ঠায় সহায়ক ভূমিকা পালন করতে। 
অতীতে সাংবাদিকতার পরিসর সীমিত থাকলেও আধুনিকতাত্তোরকালে তা শিক্ষা, যোগাযোগ, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি, রাজনীতি, চিকিৎসা, প্রযুক্তি, আইসিটি, চাষাবাদ, ক্রয়-বিক্রয় থেকে শুরু করে নাগরিক জীবনের প্রয়োজনীয় সকল চাহিদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় অগ্রদূতের ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। কিন্তু নেতিবাচক ও ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতির কারণেই আমাদের দেশে রাষ্ট্রের এই অতিগুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গের পথচলা মোটেই নির্বিঘœ হয়নি। অপরাজনীতি ও ক্ষমতালিপ্সার কারণে বরাবরই আধুনিক রাষ্ট্রের এই গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গের অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত হয়েছে এবং এখনও হচ্ছে। রাজনৈতিক সঙ্কীর্ণতার কারণে আমাদের দেশে অনেক সময় সংবাদপত্র ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া বন্ধ করে দেয়ার ঘটনা ঘটেছে এবং গণমাধ্যমকর্মিরা বারবার জুলুম-নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। ফলে তাদের জীবন-জীবিকার ক্ষেত্রে সৃষ্টি হয়েছে নানাবিধ অনিশ্চয়তা ও প্রতিকূলতা। কিন্তু নানা সীমাবদ্ধতা, বাধা-প্রতিবন্ধকতা আর সংকীর্ণতা সত্ত্বেও আমাদের দেশের সংবাদকর্মি ও সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা ইতিবাচকই বলতে হবে। একথা অস্বীকার করা যাবে না যে, সাধারণ নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমের কার্যকর অংশগ্রহণ ছাড়া রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। মূলত, যে দেশে প্রচার মাধ্যম স্বাধীন-শক্তিশালী সে দেশে গণতন্ত্র উন্নত এবং উন্নয়নও গতিশীল। সুশাসনও মজবুত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। এক্ষেত্রে অনগ্রসরতার কারণেই আমরা রীতিমত পশ্চাৎপদ। গণমাধ্যমের বহুমাত্রিক ভূমিকা এবং গণমাধ্যম ও উন্নয়ন পারস্পরিক সম্পর্ক অত্যন্ত সুনিবিড়। এ জন্য রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে সংবাদ মাধ্যমকে বিবেচনা করা হয়। শক্তিশালী গণমাধ্যম রাষ্ট্রযন্ত্রকে সঠিকভাবে পরিচালনার চালিকাশক্তি। সংবাদপত্রের মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশা, অর্জন, চাহিদা, জনমত সৃষ্টি ও সমাজের ভালোমন্দ প্রতিফলিত হয়। গণমাধ্যমকে উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের প্রতিনিধি বলা চলে। মানবজীবন ও সমাজ উন্নয়নের একমাত্র মাধ্যম হলো গণমাধ্যম। গণমাধ্যম দ্বারা সমাজের বাস্তব প্রতিচ্ছবি তুলে ধরেন সাংবাদিক। আর উপজেলা পর্যায়ে একজন সংবাদকর্মির চোখ থাকে সমাজের ঘটে যাওয়া একেবারে পিন থেকে কামান, ছোট থেকে বড়, ভালোমন্দ, সমস্যা-সম্ভাবনা সবকিছুতে। একজন সাংবাদিক নিজের স্বার্থের কথা না ভেবে রাতদিন জীবনের সোনালি সময় ব্যয় করে গণমানুষের সমস্যা ও সম্ভাবনার খোঁজে কান পেতে থাকেন। দিনের শেষে তার পাঠানো সংবাদ যখন পরদিন পত্রিকার পাতায় পাঠক হাতে পেলে বাস্তবের প্রতিফলন ঘটে। তখন হারানো সন্তান ফিরে পাওয়ার মতো আনন্দ লাগে সে সংবাদকর্মির মনে। এটাই সংবাদকর্মির সফলতা। 
লেখক ঃ সাংবাদিক-কলামিস্ট
[email protected] 
০১৮১৮-০৩৬৯০৯