বৈশাখী মেলা

OnlineStaff OnlineStaff
প্রকাশিত: ০২:০৬ পিএম, ২২ এপ্রিল ২০২১

তৌফিক হাসান ময়না:পুন্ড্রজন, বৈশাখী শুভেচ্ছা। স্বপ্ন জাগানিয়া মুক্তির অবিনাশী সুর নিয়ে এসেছে বৈশাখ, ছয় ঋতুর অটুট বন্ধনে বেঁধেছে বাংলার জলবায়ু। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আর সাংস্কৃতিক সৃজনেরসাথে আমাদের বন্ধন। এ বন্ধন শিথিল নয়, অটুট শক্তিময়ী। বৈশাখের মনন থেকে জন্ম নেয়া শিল্পের ছবি হৃদয়ে জেগে থাকে লক্ষ মানুষের। সেইছবি বহন করে তারা নি:শ্বাসে। নিজেকে সাজায় বৈশাখী দ্রোহের অলংকারে। বৈশাখী হাওয়ায় পত্রহীন বৃক্ষ শাখা ভরে যায় সবুজে। হয়ে ওঠে যোদ্ধার তলোয়ার। বৈশাখের আগমনের চৈত্রের পোড়া ঘাসের জমিনে গোলাপ ফোটে। বৈশাখের শিল্প আয়োজন এক মানুষের মধ্যে জন্ম নেয় অপর মানুষ। ভালবাসার বন্ধন আর সম্প্রীতির রুদ্র ভৈরব জাগে মননে। ১লাখ বৈশাখে ১৪২৮, এবারের বৈশাখ যেন এক ভিন্ন সাজে, ভিন্ন রূপে আমাদের মাঝে এসেছিল। ছিল না কোন বরণী সঙ্গীতের সুর, নেই বাংলা ঢোলের ধুম ধাম ধ্বনি। বৈশাখীর মানস নেত্রে উদ্ভাসিত ঘন কালো আঁধার। জমাট বাধা বেদনা, কষ্ট, মলিন তার শরীর। বসেনি মেলা, আসেনি কেউ, মুখরিত হবে না মানুষের ভিড়ে। বাঁশের বাশি, মাটির হাড়ি, ঝুড়ি তালপাতার রঙিন পাখি, ছিল না বায়োস্কোপের ঝুনঝুনি গানের সুর। আর কি সুন্দর দেখা গেল, ঢাকা শহর আইসা গেল’। নাগর দোলায় দোল খায়নি কোন শিশু কিশোর হৈ হৈ রৈ রৈ কার আকাশ বাতাস কাঁপাবে না। বিরান মাঠ জনশূন্য যেন মরুভূমি। এক ভয়ঙ্কর নোভেল করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত সারা পৃথিবী। অজানা এই রোগে ভীত, সন্ত্রস্ত্র সকল মানুষ। ধরিত্রী আজ যেন মৃতপুরী অশরীরী ছায়া ঘেরা। আকাশ লোকে পাড়ি দিচ্ছি ঘোলাটে চাঁদ, গোটা শরীর তার লুকিয়ে গেছে মেঘের গর্তের ভিতর। রাতের আঁধারে তারার চেরাগ দেয় না আলো তার। প্রতিদিন যমদূত পৃথিবীর দরজায় কড়া নাড়ায়, গভীর সমুদ্রের গর্জনের মতো শোনা যায় মানুষের ক্রন্দন। তাদের হাহাকারে ভারী হয়ে ওঠেছে আকাশ। ভীত পথের কুকুর একটানা ডেকে ওঠে প্রেতের মতোন। ডানা ঝাপটা দিয়ে উড়ে যায় পাখ পাখিরা আঁধারের পথ ধরে। যেন নরকের আগুন জ্বুলে, মৃত ভয়ঙ্কর। হে রুদ্ধ বৈশাখ, এমনি কুহেলী আঁধার মাখানো ক্ষণে কি করে স্বাগত জানাই তোমাকে ? আতঙ্কিত চিত্তে কি করে দিবো তোমায় স্বর্গের প্রসাদ ? শোকার্ত বিহবন মনে কি করে বাজাবো বৈশাখী বীণার সুর? সাজাবো কি ডালা, মালা গাঁথাবো কি করে ? রুদ্ধ সকল বাণী। ক্ষমা করো হে বৈশাখে ; তোমাকে দিতে পারিনি কোন অর্ঘ, কোন অঞ্জলি, ধূসরবন হে বৈশাখ, ক্ষমা করো তুমি। 
আজ সুবিশাল পৃথিবীতে মৃতের মিছিল, নি:শব্দে হারিয়ে যাচ্ছে এই চরাচরে। চারিদিক ভয়ঙ্কর প্রেতের দল করে তান্ডব নৃত্য, সুন্দর বিনাশে হানে মরণ বান। হে বৈশাখ ১৪২৮ তুমি এসেছেন সাহসী বার্তা নিয়ে। সকল সংখ্যা হতাশা দূর করে দাও। আলো আনন্দের প্লাবন, বিজয়ীর সুধা দাও। মৃত্যুভয় দূরে ফেলে চঞ্চল পাখায় ভর করে উড়ে যাক নব জীবনের গানে। বিশ্বাস স্পন্দিত বক্ষে বলো মানুষ পরাজিত হয়নি কোন দিন, মানুষের জয় হবেই। পিতা বঙ্গবন্ধু, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ, দ্রোহের নজরুল, আচার্য সেলিম আল দীন আরো অনেক শিল্পী বন্ধুর নির্দেশিত পথে এ জনপদের হাজার বছরের শিকড় সন্ধানি বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার এগিয়ে যাচ্ছে সম্মুখে। বগুড়া থিয়েটার সেই চর্চিত শিল্পরীতির আলোকে নতুন শিল্পতত্ত্ব এবং সৃষ্টি নিয়ে নতুন অভিযাত্রার অন্যতম প্রধান সূত্রধর। হে শিল্পী বন্ধুগণ, উত্তাপ উষ্ণতা আর বিদ্রোহের কারিগর বৈশাখের উদরে যে বীজ বপন হবে এই মৃত্তিকায় সেই উত্তাপে জন্ম নেবে কালের স্বপ্ন নায়কেরা। সকল বৈষম্য, সংঘাত, নরঘাতকের তান্ডব, নাশকতা, সাম্প্রদায়িকতা ধ্বংস হোক। বাংলার জনপদের হাজার বছরের সভ্যতা, সংস্কৃতি, ইতিহাস, সঙ্গীতের উচ্ছ্বলতায় নৃত্যের উদ্দাম মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় জাগ্রত হোক সকল মানুষ। কবি মহাদেব সাহার কবিতায় বলি পৃথিবী, আবার তুমি ভালো হয়ে ওঠো, ভালো হোক তোমার অসুখ আবার উচ্ছ্বল হোক তোমার হৃদয় /আবার তোমার হাত প্রসারিত হোক, অমর তোমার বুক, হোক গদ্যময় /পৃথিবী আবার তুমি সুখী হও /ভালো হয়ে ওঠো। /সকলের মঙ্গল কামনা করি। জয়তু: বগুড়া থিয়েটার, জয়তু বৈশাখী মেলা। বগুড়া থিয়েটারের আয়োজনে প্রতি বছর বগুড়া পৌর উদ্যানে বৈশাখী মেলা উদ্বোধনী দিনে পঠিত হয় এই মঙ্গলপত্র। ১ লা বৈশাখ ১৪২৮, ১৪ এপ্রিল ২০২১ করোনাভাইরাসের জন্য ভার্চুয়াল বৈশাখী অনুষ্ঠানে পাঠ করা হয় এই মঙ্গলপত্র। 
লেখক : নাট্যকার-নাট্যসংগঠক 
০১৭১১-৮৬৯৭৪৯