নীরবে নিভৃতে কাঁদছে যাদের মন

OnlineStaff OnlineStaff
প্রকাশিত: ০৭:৪৬ এএম, ০৫ এপ্রিল ২০২১

ওসমান গনি : তলাবিহীন ঝুড়ি  থেকে হাটি হাটি পা পা করে বাংলাদেশ আজ বিশ্ব দরবারে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে। যা সত্যিই একটি প্রশংসনীয় ব্যাপার। এই উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় স্থান পাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি প্রশংসার দাবিদার দেশের জনগণ ও দেশের রাষ্ট্র প্রধান। দেশের ১৬ কোটি জনগণের ৩২ কোটি হাতের কর্ম সম্পাদনার মাধ্যমে ও দেশের সফল রাষ্ট্র পরিচালকের সমন্বয়ের মাধ্যমে আজ সফলতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ আজ বিশ্বের কাছে রোল মডেল হয়ে উঠছে। অনেক দেশ এখন বাংলাদেশকে ফলো করে সামনের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করছে। কিভাবে শূন্য অবস্থান থেকে বাংলাদেশ আজকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হলো? বাংলাদেশ আজ বিশ্বের ৫৮তম উন্নয়নশীল দেশের তালিকায়। বাংলাদেশ আজ উন্নয়নশীল দেশ হওয়াতে দেশের মানুষ আনন্দে উল্লাসে উদ্ভাসিত। 
ধন্যবাদ দেশের সফল রাষ্ট্রনায়ক ও কর্মোদ্যোগী জনগণকে। বাংলাদেশসহ  বিশ্বের অনেক দেশকে উন্নয়নশীল  হিসাবে গণ্য করা হয় সাধারণত দেশের মোট জনগোষ্ঠীর মাথা পিছু আয়ের ওপর ভিত্তি  করে।  বিশ্বের প্রতিটি দেশে তিন শ্রেণির মানুষ বসবাস করে থাকে। উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত। এই তিন শ্রেণির মানুষের উপার্জনের অর্থের গড় পরিমানের হিসাবে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ। এখন কথা হলো তিন শ্রেণির মানুষের মধ্যে উচ্চবিত্ত লোকদের অর্থনৈতিক অবস্থা স্বচ্ছল। আর নিম্নবিত্ত লোকদের অর্থনৈতিক অবস্থা অস্বচ্ছল। দেশকে উন্নয়নশীল ঘোষণা  করতে গিয়ে তিনের গড় আয়ের সমতার ভিত্তিতে হিসাব করা হয়েছে। আসলে উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষের সম্পদ তাদের নিজ নিজ। এ সম্পদ কারোটা কারও কাজে আসবে না বা নিজ নিজ সম্পদ হতে কেউ কাউকে দিবে না। যার জন্য দেশের উচ্চবিত্ত লোকেরা তাদের সম্পদকে অর্থাৎ অর্থকে গতিশীল করে হুহু করে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তাদের পিছনে রয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাপোর্ট। তাদের আর পিছনে ফিরে তাকানোর সময় নাই। তাদের রয়েছে প্রচুর পরিমাণ অর্থবিত্ত, রাজনৈতিক শক্তি, পেশীশক্তিসহ আরও অন্যান্য আনুষঙ্গিক। আর নিম্নবিত্ত শ্রেণীর লোকজন তারাও কারো দিকে ফিরে তাকানোর সময়ক্ষেপণ না করে কর্ম করে কচ্ছপ গতিতে সামনে বাড়ছে। কায়ক্লেশে কেটে যাচ্ছে তাদের দিন। তারা মানসম্মানের দিকে না তাকিয়ে সমাজের যেকোন কাজ করতে পারছে। এটা তাদের দ্বারা সম্ভব। আর মধ্যবিত্ত শ্রেণীর লোকজন সমাজে, দেশে অচেতন অবস্থায় পড়ে রয়েছে। তাদের তেমন কোন উচ্চ শিক্ষা, চাকরি,অর্থ বা কর্ম নেই। এই শ্রেণীর লোকজন জীবনযাত্রার মানটা কোন রকমে চলছে। তারা সমাজে বা দেশে নিজের মান সম্মানের কারণে কোন কাজও করতে পারছে না। রাষ্ট্রও তাদের কোন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারছে না। তারা লোকলজ্জার ভয়ে কারও কাছে হাত পাত্তে পারছে না। রাষ্ট্র ও তাদের জন্য আলাদা কিছু করে দিচ্ছে না। তাই দেশে যখন কোন দুর্যোগ বা মহামারি দেখা দেয় তখন তাদের উপর নেমে আসে অমানিশার ঘোর অন্ধকার।  তখন তারা সন্তান ও স্ত্রী সামনে লজ্জায় মাথা নিচু করে বিভিন্ন অশ্লীল কথাবার্তা শুনতে হয়। এ অবস্থায় তারা নীরবে নিভৃতে কাঁদা ছাড়া আর কোন উপায় নেই। তাদের সাথে রয়েছে সমাজের নিম্নশ্রেনির একটা অংশ। তাদের একই অবস্থা। আরও রয়েছে বৃদ্ধা, বিভিন্ন বয়সের অকর্মণ্য লোক।  যারা বিভিন্ন  রকম রোগে আক্রান্ত। তাদের পেটপিঠ রয়েছে। তারা খায় কি, পড়ে কি?  কেউ কি কোনদিন খবর নিয়েছে? নেয় না। সরকারিভাবে বয়স্ক ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা সহ আরও অন্যান্য ভাতা রয়েছে। দেশের কতজন লোক সরকারের এই সুবিধা পায়?  সরকারি বিভিন্ন সুযোগ পেতে গেলেও রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় না থাকলে পাওয়া যায় না। আবার পেতে গেলে মেম্বার, চেয়ারম্যান ও দলের নেতাকর্মিদের বিভিন্নভাবে হাসিখুশি রাখতে হয়। তা না হলে আপনি যতবড় বয়স্ক বা প্রতিবন্ধী হন না কেন ভাতার কার্ড পাবেন না। 
আপনি বাঁচেন কি মরেন সেটা দেখার কেউ নেই। সরকারি সুবিধা গ্রহণকারি লোকের সংখ্যা খুবই নগণ্য। তারাও না খেয়ে না পড়ে নীরবে বোবা কান্না করছে। তাদের কান্না কেউ দেখে না, দেখলেও কারও খবর নেই। সরকারের কোন সুযোগ সুবিধা তাদের কপালে জোটে না। তাদের নেই কোন মামু খালু, রাজনৈতিক পেশিশক্তি। এই শ্রেণির লোকজন সবসময় অবহেলিত থেকেই গেল। ডিজিটাল দেশ, উন্নয়নশীল দেশ হয়েও যদি দেশের মানুষের এমন অবস্থা হয়, তাহলে এই অসহায় লোকগুলো কি করবে। গেল ২০২০ সাল করোনার মহামারির সময়ে সরকারিভাবে যে সাহায্য সহযোগিতা দেশের জনগণকে দেয়া হলো সে সাহায্য সহযোগিতা কতজন কাঙ্খিত লোকজন পেয়েছে? আমরা বিভিন্ন সাংবাদ মাধ্যমে দেখলাম সাহায্য সহযোগিতার বেশিরভাগ অংশই নিয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও কর্মিরা। দেশের গরিব মানুষ কিছুই পায়নি। গরিব লোকেরা পেয়েছে স্থানীয় ব্যক্তিদের দেয়া সাহায্য সহযোগিতা। 
লেখক ঃ সাংবাদিক ও কলামিস্ট 
[email protected]
০১৮১৮-৯৩৬৯০৯