চাই শংকামুক্ত আমের বাজার

Staff Reporter Staff Reporter
প্রকাশিত: ০৫:০৭ পিএম, ১৫ মে ২০২০

এম আতিকুল ইসলাম বুলবুল : শিক্ষা নগরী রাজশাহী, পরিচ্ছন্ন ও শান্তির শহর রাজশাহী। সর্বোপরি আমের জন্য বিখ্যাত রাজশাহী। গ্রীষ্মের সুস্বাদু ও পুষ্টি সমৃদ্ধ ফল, আম ফলের জন্য কম-বেশী সবাই অপেক্ষা করে থাকেন। পুষ্টিবিদদের মতে, বর্তমান সময়ে করোনা মোকাবেলায় শরীরের প্রয়োজন অনেক পুষ্টির। আর প্রচুর পরিমাণে পুষ্টিসমৃদ্ধ আম যেমন ভাতের চাহিদা কমায়, তেমনি শরীরে বাড়ায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। তাই মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য সবাইকে বিষ ও ফরমালিন মুক্ত আম খেতে হবে এমনটি পরামর্শ দিচ্ছেন তারা। রাজশাহী কৃষি অধিদপ্তরের তথ্যমতে, রাজশাহীতে চলতি বছর ১৭ হাজার ৫৭৩ হেক্টর জমিতে আমের উৎপাদন ধরা হয়েছে ২ লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন। তুলনামূলক এ বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগ- ঝড় বা শিলাবৃষ্টি তেমনিটি না থাকায় আম গাছে আমের ফলন মোটামুটি ভাল হয়েছে। অবশ্য আগামী ১ মাস প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে ফলনে তেমন হেরফের ও হবে না। আর রাজশাহী অঞ্চলের বিখ্যাত আম আগামী ১৫ মে থেকে গাছ থেকে আম চাষীরা গাছ থেকে নামাতে পারবেন এমনটি সময় বেঁধে দিয়েছেন স্থানীয় জেলা প্রশাসন। কারণ আমের জাতের পাকার সময়ের তারতম্যের কারণে একেক সময় একেক জাতের আম পেকে থাকে। আর রাজশাহীর আমচাষীরা পর্যায়ক্রমে  সকল প্রকার গুটি আম নামাতে পারবেন সে প্রস্তুতি তারা নিয়ে রেখেছেন এরই মধ্যে। আমের বাজারে  গোপালভোগ, রানীপছন্দ লক্ষণভোগ বা লখনা হিমসাগর, খিরসাপাত,  ল্যাংড়া, আম্রপালি, ফজলি,  আশ্বিনা, বারী আম-৪ আম বাজারে আসতে আর বেশী দেরী নেই। অবশ্য রাজশাহী জেলা প্রশাসন অসময়ে আম পাড়া বন্ধে এবং ক্যালসিয়াম কার্বাইড, পিজিআর, ফরমালিন, ইথিলিনের মতো কেমিক্যাল ব্যবহারের মাধ্যমে যেন আম পাকানো না হয় তার জন্য গাছ থেকে আম নামানোর ক্ষেত্রে সময় বেঁধে দিয়েছেন যা প্রশংসার দাবী রাখে। একাধিক চাষীরা জানান, প্রশাসনের বেঁেধে দেওয়া সময়  তারা মেনে ১৫ মে থেকে তারা আম পেড়ে বিক্রি শুরু করবেন।  মূলত আমের মৌসুমে দেশবাসী বিষমুক্ত আমের জন্য অপেক্ষা করে থাকেন। আর রাজশাহী অঞ্চলের আম দেশের চাহিদার বড় অংশ পূরণ  করে থাকে।

তাই রাজশাহী অঞ্চলের আমের বাজার ও ব্যবসাটাও  অনেক বড় যা কোটি কোটি টাকার বিষয়। আর রাজশাহী অঞ্চল থেকেই আম চলে যায় দেশের বিভিন্ন শহর ও প্রত্যন্ত জনপদে। এমনকি রাজশাহীর বিখ্যাত আম বিদেশেও রপ্তানী করা হয়। তবে একাধিক আমচাষীরা জানান, এবার করোনার প্রভাবে আমের যতœ নিতে তেমনটি না পারলেও দেখা যাচ্ছে আমের ফলন মোটামুটি ভালই হবে ইনশাল্লাহ। তবে রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ এলাকার আমের সাথে অনেক মানুষের  রুটি রোজগারের বিষয়টি নিবির ভাবে জড়িত। যেমনঃ আমের ভাল দাম পেলে কৃষক লাভবান হন। তেমনি এর সাথে জড়িত ব্যাবসায়ী আড়ৎদার, ঝাঁকা তৈরীর কারিগর, পরিবহণ ভাড়া , কুরিয়ার সার্ভিস, কুলি শ্রমিকের সহ অনেকের মৌসুমী রোজগারের ক্ষেত্রও বটে। সেই সাথে এ বছর আম নিয়ে আম চাষীদের শংকাও রয়েছে। কারণ করোনাকালীন সময়ে উৎপাদিত বিপুল পরিমাণ আমের বাজারজাত ও ভাল দাম পাওয়া নিয়ে চাষীদের মধ্যে শংকা থাকাটাই স্বাভাবিক বলে মনে করেন আম বিশেষজ্ঞরা। তবে করোনাকালীন এই সময়ে যে কোন পরিস্থিতিতে রাজশাহী অঞ্চলের আমের ভাল বাজার আমাদের দেশের মধ্যেই সৃষ্টি করতে হবে এ রকমের ভাবনা থাকতে হবে বলে জানিয়েছেন একাধিক ফল ব্যাবসায়ী ও আমচাষী। কেননা আমের ভাল দাম পাওয়ার সাথে হাজার হাজার আমচাষীর রোজগারের বিষয়টি জড়িত। কিšুÍ এবারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন কারণ করোনা দুর্যোগে কর্মহীন দেশের অধিকাংশ মানুষ। বর্তমান সময়ে খেয়ে পরে বেঁচে থাকার চেষ্টা করতে হচ্ছে সকলকে। সেক্ষেত্রে এ সময়  বাজার থেকে আম কিনে খাওয়া মানুষের কাছে কতটুকু সম্ভব হবে তা ভাবনার বিষয়। যদি চাষী ও ব্যবসায়ীরা আমের ভাল দাম না পান সেক্ষেত্রে এমনো হতে পারে আম বাগান ব্যবসায়ীরা লাখ লাখ টাকার লোকসানের সম্মুখীন হতে পারেন। অবশ্য আম গবেষকরা এমনটি উদ্বেগের কথাটিও বার বার বলেছেন।

আবার বিগত বছরে বিদেশে আম রপ্তানী করে যে আয় আসে সেখানেও এবার প্রকট সমস্যা আছে। কারণ করোনার জন্য বিমান বন্ধ থাকায় এবার বিদেশের বাজার ধরা প্রায় অসম্ভব । এছাড়া অধিকাংশ আম প্রিয় প্রবাসীরা দেশে চলে এসেছেন। তবে বর্তমান সরকার সকল চাষীদের বিষয়ে বেশ নজর দিচ্ছেন এটা আশার দিক। যেমন ফসল পরিবহণে বাজারজাত করণে  কোন প্রকার নিষেধাজ্ঞা নেই। আর আম বাজারে বড় পরিসরে উঠতে উঠতে পরিস্থিতি ভালোর দিকে যাবে বলে ব্যবসায়ীরা আশা করছেন। সে সময় সরকারের গৃহিত পদক্ষেপ আমচাষীদের অনুকূলে চলে আসবে এমনটি প্রত্যাশা করছেন তারা। সর্বোপরি দেশের আমের বাজার স্বাভাবিক রাখতে সরকারকে পদক্ষেপ নিতে হবে এমনটি দাবীও রয়েছে আমচাষী ও ফল ব্যবাসায়ীদের। তাই  আমের দাম পেতে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারগুলোকে কাজে লাগিয়ে হলেও অনলাইনে অর্ডার নিয়ে কুরিয়ারে আম পাঠানোর উদ্যোগ নেয়ার জন্য  সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে। তাই আমের সাথে জড়িত সবাই বলছেন, চাই শংকামুক্ত আমের বাজার।
লেখক ঃ প্রভাষক-কলামিস্ট
[email protected]
০১৭১২-২৩৭৯৩৩