করোনার সম্মুখযোদ্ধা ও প্রাসঙ্গিক ভাবনা

Staff Reporter Staff Reporter
প্রকাশিত: ০৫:০৯ পিএম, ১৪ মে ২০২০

:দেশে মহামারি করোনা মোকাবেলা, লকডাউন কার্যকর ও ত্রাণ বিতরণে সার্বিক সহযোগিতা করতে গিয়ে ইতোমধ্যে ৪ জন পুলিশ সদস্য করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন, ৫০০ শতাধিক আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। যা সার্বিক বিবেচনায় পুলিশ সদস্যদের মনোবল দুর্বল করে দিতে পারে। এদিকে মূলত ডাক্তার ও স্বাস্থ্য কর্মীরাই করোনা যুদ্ধে সামনের কাতারের মূল সৈনিক। আক্রান্তদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে ইতোমধ্যে ১জন ডাক্তার ও ১ জন স্বাস্থ্যকর্মী প্রাণ হারিয়েছে। আক্রান্ত হয়েছে ৮৮১জন। আক্রান্তের সংখ্যা দিনদিন বাড়ছে। তথ্যানুযায়ী করোনা মোকাবেলায় আক্রান্ত স্বাস্থ্যকর্মী ও আইন-শৃংখলা বাহিনীর এই সংখ্যা পৃথিবীর যে কোন দেশের চেয়ে বেশী। যা সংশ্লিষ্ট সবাইকে ভাবিয়ে তুলেছে। এই অবস্থা চলমান থাকলে দেশের চিকিৎসা সংকট প্রকট হতে পারে। এখন প্রশ্ন হলো তাহলে কি তারা সুরক্ষা সামগ্রী ছাড়াই দায়িত্ব পালন করছিলেন? নাকি মানহীন অপর্যাপ্ত সুরক্ষা সামগ্রীর জন্য এটা ঘটেছে। তবে আজ সেই বিতর্কে না গিয়ে এত অধিক সংখ্যক আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্য ও ডাক্তারসহ স্বাস্থ্যকর্মী কেন এবং কিভাবে আক্রান্ত হলো তা দ্রুত চিহ্নিত করে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করে এই হারকে অবশ্যই শূন্যের কোটায় নামিযে আনতে হবে। তা করতে না পারলে তাঁদের মনোবলে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। যা সামগ্রিক বিবেচনায় মোটেই প্রত্যাশিত নয়।

সংবাদপত্র বা মিডিয়া হলো সমাজের দর্পণ। সংবাদকর্মীরা প্রতিদিন মাঠে ঘাটে ছুটে জীবনের মায়া ত্যাগ করে পরিবারের সদস্যদের কথা না ভেবে স্বাস্থ্য বিভাগের সফলতা ও ব্যর্থতার গল্প শোনাচ্ছেন, ত্রাণ বিতরণের খুঁটিনাটি প্রচার করছেন। ত্রাণ বিতরণে গ্রাম গঞ্জের সংগতি অসংগতি তুলে ধরে সরকারসহ সংশ্লিষ্টদের সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। ভয়হীন চিত্তে মিডিয়াকর্মীরা জনগণকে প্রতিনিয়ত সচেতনতামূলক বিভিন্ন সংবাদ ও অনুষ্ঠান প্রচার করছেন। ইতোমধ্যে একজন সিনিয়র সাংবাদিক করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। অনেকের মধ্যে তাঁকে সময়মত হাসপাতালে ভর্তি না করতে পারার আক্ষেপও রয়ে গেছে। সারাদেশে করোনা আক্রান্ত সাংবাদিক ৩৯জন। অথচ দুঃখজনক হলেও সত্য যে রাষ্ট্রীয়ভাবে সাংবাদিকদেরকে কোন প্রকার সুরক্ষা সামগ্রী অদ্যাবধি প্রদান করা হয়নি। এমনকি সরকার ঘোষিট লক্ষাধিক কোটি টাকার একটি প্রশংসনীয় প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হলেও সেখানে নেই সাংবাদিকের নাম। অথচ শত সীমাবদ্ধতার মাঝেও জাতির প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন সংগ্রাম ও দুর্যোগ মোকাবেলায় সাংবাদিকদের ভুমিকা অনস্বীকার্য ।

এদিকে স্বাস্থ্য বিভাগের যেসব দায়িত্বশীল কর্তাব্যক্তি করোনা নিয়ে গোটা জাতিকে অন্ধকারে রেখে সময়ে সময়ে অসত্য তথ্য দিয়ে বা কখনও কখনও অর্ধসত্য তথ্য দিয়ে জাতিকে বিভ্রান্ত করে পুরো করোনা যুদ্ধটাকেই হযবরল অবস্থায় দাঁড় করালো, মানহীন পিপিইও মাস্ক ক্রয় করলো বা যাদের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন কেনাকাটায় অনিয়মের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠলো, যাদের অযোগ্যতা ও ব্যর্থতার কারণে স্বাস্থ্য ব্যবস্হায় দৃশ্যমান দৈন্যতা পরিলক্ষিত হলো তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করে মানহীন মাস্ক প্রাপ্তির অভিযোগ করায় যখন মুগদা হাসপাতালের পরিচালককে চাকুরি জীবনের শেষ সময়ে ওএসডি করা হলো তখন কিন্তু পুরো জাতি হতাশ হয়েছে। লজ্জিত হয়েছে। ক্ষুব্ধ হয়েছে। এদিকে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র কর্তৃক উদ্ভাবিত “কিট” নিয়ে ঔষধ প্রশাসন যা করলো তা নিঃসন্দেহে অগ্রহণযোগ্য। বীর মুক্তিযোদ্ধা ডাক্তার জাফরুল্লাহ চৌধুরী স্যারকে নিয়ে কিছু মানুষের নোংরামি ও কটুক্তি দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষকে চরম বিরক্ত করেছে। আসলে করোনা নিয়ে দেশবাসী কোন পক্ষের কাছ থেকেই আর কোন অপরাজনীতি প্রত্যাশা করে না।

করোনা মহামারিতে সারাবিশ্বে আজ পর্যন্ত ২ লাখ ৩৪ হাজার মানুষ মারা গেছে, আক্রান্ত হয়েছে ৩৩ লক্ষাধিক। আমাদের দেশেও আক্রান্ত ও নিহতের সংখ্যা বাড়ছে। কিন্তু লকডাউন কার্যকর করা যাচ্ছেনা। মানুষকে ঘরে রাখা কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে। খেটে খাওয়া মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে, চাকুরি হারানোর ভয়ে ঢাকামুখী শ্রমিকদের ঢল সামলানো যাচ্ছে না। স্বাস্থ্যকর্মী ও আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্য আক্রান্ত হচ্ছে, নিজ দেশে ১৭০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে, ৮২৩১ জন আক্রান্ত, তখন কিছু দায়িত্বশীল মানুষের কান্ডজ্ঞানহীন ও বিবেক বর্জিত কাজ দেশের অধিকাংশ জণগণকে ক্ষুব্ধ করেছে। দেশে লকডাউন আর দলবলসহ কয়েকজন মন্ত্রী ও এমপি’র ধান কাটার দৃশ্য দেখে দেশবাসী বিরক্ত। এটা দেশের কৃষকের সাথে তামাশা করার শামিল।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যথার্থই বলেছেন দেশের কৃষিখাতই আমাদেরকে বাঁচিয়ে দিতে পারে। তাই কৃষি মন্ত্রণালয়কে কৃষকবান্ধব পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে। কৃষি সহায়ক উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। ফড়িয়া বা মধ্যসত্বভোগীরা যাতে কৃষি প্রণোদনার অর্থ ভাগবাটোয়ারা করতে না পারে সে বিষয়ে তৎপর থাকতে হবে। আসলে করোনা পরবর্তীতে কৃষি ও কৃষক বাঁচলে দেশ থেকে খাদ্য সংকটের সম্ভাবনা দূরিভুত হবে। অর্থনীতি বাঁচবে। বাঁচবে দেশের মানুষ।
লেখক ঃ আইবিএ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
[email protected]