দুর্যোগে দুর্নীতি দমন ও নির্মূলে আইনগত ব্যবস্থা

Staff Reporter Staff Reporter
প্রকাশিত: ০১:০৫ পিএম, ১৪ মে ২০২০

এড. বিনয় কুমার দাষ (বিশু):মহামারি করোনাভাইরাস মোকা-বিলায় সামাজিক কর্মসূচির আওতায় ত্রাণের সরকারি চাল, হত দরিদ্রদের জন্য খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির ১০ টাকা কেজি দরের সরকারি খোলা বাজারে বিক্রির জন্য টিসিবির চাল, ডাল, তেল সহ খাদ্য সামগ্রি আত্মসাতকারী কালো বাজারে বিক্রিকারিদের, অবৈধভাবে লাভবানের আশায় মজুতকারিদের বিরুদ্ধে দেশে প্রচলিত আইনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে। দুর্নীতিমুক্ত সমাজ ব্যবস্থা গড়তে ওই সমস্ত অপরাধি বা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনকে কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে।ওই ধরনের অপরাধীদের বিরুদ্ধে ১৮৬০ সালে প্রণীত দন্ডবিধি আইনে ১৯৪৭ সালে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে এবং দি ক্রিমিনাল ল এ্যামেন্ডমেন্ট এ্যাক্ট ১৯৫৮ সালের আইনে এবং পরবর্তীতে ১৯৭৪ সালের (৯ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ গেজেটে প্রকাশিত) বিশেষ ক্ষমতা আইনে এবং পরবর্তীতে দুর্নীতি দমনে ২০০৪ সালে দুর্নীতি দমনে ২০০৪ সালে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন প্রণয়ন সহ কার্যকর হয়েছে। এ ছাড়া পরবর্তীতে দুর্নীতি কমিশন আইন ২০১৩ এবং ২০১৬ সালে কিছু সংশোধন করে কঠোর করা হয় এবং সর্বশেষ ২০১৯ সালের ২০ জুন বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় দুর্নীতি দমন কমিশন বিধিমালা ২০১৯ প্রকাশিত হয়। ১৮৬০ সালের দন্ডবিধি আইনে সরকারি কর্মচারি কর্তৃক অপরাধজনক বিশ্বাস ভঙ্গের জন্য দন্ডবিধির ৪০৯ ধারায় দুর্নীতি মামলায় যাবজ্জীবন কারাদন্ড বা দশ বছর পর্যন্ত সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদন্ড ও জরিমানার শাস্তি রয়েছে। এ ছাড়াও সরকারি কর্মচারি দায়িত্ব পালনকালে প্রতারণা করিলে দন্ডবিধির ৪২০ ধারায় ৭ বছর সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদন্ড ও জরিমানার বিধান রয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের মামলার বিচার করবেন স্পেশাল জজ। স্পেশাল জজ বিচারে দি ক্রিমিনাল ল এ্যামেন্ডমেন্ট এ্যাক্ট ১৯৫৮ সালের আওতায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে মৃত্যু দন্ডাদেশ বা মেয়াদি কারাদন্ড ও জরিমানা অর্থাৎ অর্থদন্ডের আদেশ প্রদান করতে পারেন। অপরদিকে সরকারি কোন ত্রাণের চাল কালোবাজারে বিক্রি করলে অথবা অবৈধভাবে সরকারি ত্রাণের চাল বা স্বল্প মূল্যের বিক্রির চাল বা পণ্যাদি অবৈধভাবে সংগ্রহ করে কালো বাজারে বিক্রির জন্য কোন ব্যক্তি মজুত করলে মজুদদার সরকার অনুমোদিত বিক্রয়কারী বা ডিলারের বিরুদ্ধে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫ এর (১) ধারায় মৃত্যুদন্ড বা যাবজ্জীবন কারাদন্ড বা ১৪ বছরের কারাদন্ড ও জরিমানার আদেশ হতে পারে। বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলাটি বিচার করবেন স্পেশাল ট্রাইবুনাল এর বিচারক। ত্রাণের চাল কালো বাজারিদের বিরুদ্ধে মামলা পুলিশ ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে সংশ্লিষ্ট থানায় দায়ের করতে পারবেন।
অপরদিকে দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলাগুলো ২০১৯ সালের ২০ জুন তারিখে বাংলাদেশ গেজেটে প্রকাশিত দুর্নীতি দমন কমিশন বিধিমালা ২০১৯ অনুযায়ী দুদক কর্মকর্তাগণ দুর্নীতি কমিশন আইনের তফসিলভুক্ত অপরাধ সংক্রান্ত মামলা সমূহ সংশ্লিষ্ট অধিক্ষেত্র সমন্বিত দুদক জেলা কার্যালয়ে এজাহার দায়ের করেন। এ ছাড়াও এই আইনে বলা হয়েছে যে, বিধি ৪ অনুযায়ী কোন ব্যক্তি দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের বিধি মালার তফসিলিভুক্ত কোন অপরাধ কোন ব্যক্তি থানায় অভিযোগ করিলে অভিযোগটি সংশ্লিষ্ট থানা প্রাপ্তির পর ১৮৬১ সালের পুলিশ এ্যাক্টের বিধান মতে সাধারণ ডায়রীভুক্ত (জি, ডি) করে দুই কার্যদিবসের মধ্যে দুদক’এর সংশ্লিষ্ট সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে প্রেরণ করবেন। দুদক কর্তৃক এজাহার দায়েরের পর সংশ্লিষ্ট সিনিয়র স্পেশাল জজ (জেলা ও দায়রা) জজ আদালতে প্রেরণ করবেন। ওই মামলাগুলোর আসামিদের জামিন দেয়ার এখতিয়ার ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নেই। সুতরাং দুর্নীতি লাঘবে আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে।
লেখক ঃ সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর  
বগুড়া।
০১৭১১-৮৯৯৮৭৯