সড়কে বাড়ছে লাশের সংখ্যা

Staff Reporter Staff Reporter
প্রকাশিত: ০৭:৫৮ পিএম, ১৪ জানুয়ারি ২০২১

ওসমান গনি: সড়কে লাশের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। কোনভাবেই যেন থামানো যাচ্ছে না। সড়ক দুর্ঘটনা এখন মনে হয় আমাদের দেশে একটা নিয়মে পরিনত হয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনা এখন একটা জাতীয় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশে এমন কোন দিন নেই যে, দেশের কোন না কোন জায়গায় সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে না। সকালে ঘুম থেকে উঠলেই সংবাদ মাধ্যমে দেখে সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যুর খবর। সড়কে মৃত্যুর মিছিল থামছে না। বেপরোয়া বাস-ট্রাকের ধাক্কায় বা চাপায় মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে, মিছিল দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। করোনার কারণে গত বছরের অন্তত ৯ মাস যান চলাচল স্বাভাবিক ছিল না। এখনো স্বাভাবিক নয়। কিন্তু দুর্ঘটনা ও মৃত্যুর সংখ্যা কমেনি বরং বেড়েছে। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্য, গত বছরের ডিসেম্বরে সারাদেশে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ৪০২টি। তাতে মৃত্যু হয়েছে ৪৬৪ জনের।

 আগের মাসে অর্থাৎ নভেম্বরে দুর্ঘটনা ঘটেছে ৪১৭টি। তাতে মৃত্যু হয়েছে ৪৩৯ জনের। দু’মাসের এই পরিসংখ্যান থেকে দেখা যাচ্ছে, নভেম্বরে দুর্ঘটনার সংখ্যা ডিসেম্বরের চেয়ে কিছুটা বেশি হলেও মৃত্যুর সংখ্যা ডিসেম্বরের তুলনায় কম। আর ডিসেম্বরে দুর্ঘটনার সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম হলেও মৃত্যুর সংখ্যা বেশি। এই ধারা নতুন বছরেও অব্যাহত আছে। বছরের প্রথম তিন দিনে দুর্ঘটনা ঘটেছে সর্বমোট ১৬টি। তাতে মৃত্যু হয়েছে ২৯ জনের। দুর্ঘটনা ও মৃত্যুর সংখ্যা আরো বেশি হতে পারে। কারণ, সব দুর্ঘটনা ও মৃত্যুর খবরই পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয় না। দেখা যাচ্ছে, তিন দিনের প্রতিদিনে গড়ে প্রায় ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আবার দুর্ঘটনার হিসাবে প্রতি দুর্ঘটনায় প্রায় দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রতি বছর এভাবে কয়েক হাজার সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে এবং তাতে হাজার হাজার মানুষ মারা যায়। একই সঙ্গে হাজার হাজার মানুষ আহত হয়। দুর্ঘটনা ও মৃত্যু-দুই-ই মর্মান্তিক ও বেদনাদায়ক। এর মধ্যে এমন কিছু দুর্ঘটনা ও মৃত্যু ঘটতে দেখা যায়, যা মানুষকে অধিক মাত্রায় মর্মাহত ও বেদনার্ত করে। এমনও দেখা যায়, দুর্ঘটনায় একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তি কিংবা পরিবারের সকলেরই মৃত্যু ঘটে। এ ধরনের মৃত্যু মানুষকে হতবিহবল এবং গভীর শোকের মধ্যে নিক্ষেপ করে। চলতি বছরের প্রথম ও তৃতীয় দিনে এরূপ দুটি দুর্ঘটনা ঘটেছে। প্রথম দিনের ঘটা দুর্ঘটনায় একই সঙ্গে তিন বোন মারা গেছে। তৃতীয় দিনের দুর্ঘটনায় একই পরিবারের ছয় জন মারা গেছে।

তৃতীয় দিনের দুর্ঘটনাটি ঘটেছে ময়মনসিংহের গাছতলা এলাকায় নেত্রকোনা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে। বাস ও অটোরিকশার মুখোমুখী সংঘর্ষে একই পরিবারের ছয় জন চালকসহ ঘটনাস্থলেই মারা যায়। নিহতদের একজন ছিল সদ্য প্রসূত। হাসপাতাল থেকে তাকে নিয়ে বাড়ি আসার পথে ঘটে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। তিন দিন আগে যার জন্ম, দুর্ঘটনা তাকে স্বজনসহ নিয়ে গেছে মৃত্যুর ওপারে যেখানে একবার গেলে কেউ ফিরে আসে না। সড়ক দুর্ঘটনায় এরকম পরিবারের একাধিক সদস্যের মৃত্যু বা পরিবারহানীর ঘটনা, বলা বাহুল্য, মোটেই নতুন নয়। গত বছরও এমন বেশ কিছু ঘটনা ঘটেছে। আগেও ঘটতে দেখা গেছে। প্রাইভেটকার, সিএনজি- এধরনের ছোট যানের সঙ্গে বাস-ট্রাকের মুখোমুখী সংঘর্ষ হয়েছে। তাতেই মৃত্যু হয়েছে যাত্রীদের। বাস-ট্রাক রাস্তা-ঘাটে যেভাবে চলাচল তাতে যে কোনো সময় প্রাণহানীকর দুর্ঘটনা ঘটার আশংকা থাকে।

 কখনো কখনো এ আশংকা সত্যে পরিণত হয়। চালকরা এতটাই বেপরোয়া যে, কোনো কিছুতেই তারা তোয়াক্কা করে না। একথা সকলেরই জানা, সড়ক দুর্ঘটনার অধিকাংশের জন্য দায়ী বেপরোয়া চালক। তাদের এই পরোয়াহীন আচরণ ও প্রবণতা কোনো কিছুতেই বন্ধ করা যাচ্ছে না। চালকদের একটি বড় অংশ প্রশিক্ষিত ও দক্ষ নয় এবং তাদের বৈধ লাইসেন্সও নেই। তারাই বেশিরভাগ দুর্ঘটনার জন্য দায়ী। কয়েক লাখ এমন যানবাহন রয়েছে, যাদের ফিটনেস নেই। লাইসেন্স বিহীন চালক ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন বন্ধ করতে পারলে দুর্ঘটনা অনেক কমে যেতে পারে। চালকের লাইসেন্স দেয়া ও যানবাহনের ফিটনেস সার্টিফিকেট দেয়ার কর্তৃপক্ষ আছে। তাদের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এই অভিযোগের প্রতিকার এবং তাদের কাজের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা যায়নি।
লেখক ঃ সাংবাদিক-কলামিস্ট
[email protected]
০১৮১৮-৯৩৬৯০৯