মহামারিরকালেও বই বিতরণ উৎসব

Staff Reporter Staff Reporter
প্রকাশিত: ০৭:৪১ পিএম, ১১ জানুয়ারি ২০২১

আব্দুল হাই রঞ্জু : বৈশ্বিক মহামারি করোনার ছোবলে গোটা মানবজাতিই আজ বিপর্যস্ত। মৃত্যুর কাছে মানুষ আজ অসহায়, দিশেহারা। এমন ভাইরাস, ছুলেই যেন সামনে মৃত্যুদুত হাজির। শুধুই আতংক আর মানুষের বিলাপ। প্রিয় সন্তান, বাবা, মা, ভাই বোন আক্রান্ত হলেই মহাবিপদ। সেবা করা কিম্বা মারা গেলে কবরস্থ কিম্বা সৎকারে কেউ যেন এগিয়ে আসে না। এ মহামারি আতংক থেকে মানবজাতি কবে মুক্তি পাবে, তাও নিশ্চিত করে চিকিৎসা বিজ্ঞানও বলতে পারছে না। যদিও ইতিমধ্যেই করোনা প্রতিরোধক ভ্যাকসিন উদ্ভাবন হওয়ায় উন্নত দেশগুলোতে প্রাথমিক পর্যায়ে ভ্যাকসিন দেয়া শুরু হয়েছে। এ ভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃত্যু কোনটাই যেন থামতেই চায় না। একমাত্র প্রাথমিক কৌশল ‘ঘরে থাকুন’, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখুন, জনসমাগম এলাকা পরিহার করুন, এই শ্লোগানে গোটা বিশ্বই আজ স্থবির। ফলে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসাসহ সকল ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শুধু বাংলাদেশেই নয়, পৃথিবী জুড়ে বন্ধ হয়ে গেছে। কোন কোন দেশে পড়াশুনার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে নানাভাবে উদ্যোগ নিলেও কার্যত কোন সুফল মিলছে না। এরই মধ্যে সীমিত আকারে স্কুল, কলেজসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আগামী ফেব্রুয়ারি থেকে খুলে দেয়া হবে, এমন মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপুমনি। তিনি গত ২৯ ডিসেম্বর পাঠ্যপুস্তক বিতরণ-২০২১ ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে ভার্চুয়াল এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন। তবে ৩১ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) সকাল সাড়ে ৯টায় বই উৎসব অনুষ্ঠান শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকাল ১০টার পর গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভার্চুয়াল অনুষ্ঠান হতে ২০২১ শিক্ষাবর্ষের প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক স্তর, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যের পাঠ্যপুস্তক বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। ভার্চুয়াল এই বই উৎসব বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রাথমিক স্তরের ১৪ জন ও মাধ্যমিক স্তরের ৯ জনের হাতে বই তুলে দেয়া হয়। এসময় শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সচিব ও উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) চেয়ারম্যানসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জানুয়ারি পর্যন্ত বন্ধ রেখেছি, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে স্কুল, কলেজ খোলা হবে। এখানে স্পষ্ট, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপুমনি ফেব্রুয়ারি থেকে স্কুল-কলেজ খোলা হবে, এমন ঘোষণার মতো প্রধানমন্ত্রী কিছু না বলে বরং তিনি বলেছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা হবে না। অর্থাৎ এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর ইঙ্গিতই যথার্থ।
কারণ আমাদের গন্তব্য অনিশ্চিত। মহামারির শুরুতে শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই নয়, বিমান, স্থল, নদী বন্দর থেকে শুরু করে গণপরিবহন, ব্যক্তিগত পরিবহন, এমনকি বিভিন্ন চিকিৎসা কেন্দ্র পর্যন্ত দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল। অবস্থার উন্নতি হওয়ায় ধীরে ধীরে যখন সবকিছুই স্বাভাবিক হচ্ছে, তখন নতুন উপসর্গ নিয়ে আবির্ভূত হয়েছে, করোনার দ্বিতীয় আঘাত। ফলে আবার পৃথিবীর নানা দেশে পুনরায় লকডাউন, কারফিউ, শহর-বন্দর, হাট-বাজার বন্ধ, সীমিত সময়ের জন্য কেনাকাটা করার সময়সীমা নির্ধারণ করা হচ্ছে। আর এক অজানা কোন আতংকের পথে যেন আমাদের পুনরায় যাত্রা শুরু। তখন পরিস্থিতি না দেখে হঠাৎ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার মতো সিদ্ধান্তের পথে  পা বাড়ানোর আগে আরো পর্যবেক্ষণ করা উচিত। তবে শত প্রতিকূলতার মাঝে সরকার যথাসময়ে প্রায় ৩৫ কোটি পাঠ্যবই ছাপার কাজ শেষ করে নববর্ষের শুরুর দিনে গোটা দেশে একসঙ্গে বই বিতরণ উৎসবের আয়োজন করেছে শিক্ষার্থীদের মাঝে। বই বিতরণের এই ঘটনা যে নজিরবিহীন, যা আমাদের অকপটেই স্বীকার করতেই হবে। সাথে সাথেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শিক্ষামন্ত্রী, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সকলকেই অভিনন্দন জানাচ্ছি।

কথায় আছে, ‘আজকের শিশুই আগামী দিনের ভবিষ্যত’। সেই ভবিষ্যত প্রজন্মের সোনামনিদের নিরাপত্তা আজ হুমকির মুখে। এই ভাইরাসে ওরাও আক্রান্ত হচ্ছে। বিশেষ করে নতুন উপসর্গের ক্ষেত্রে কম বয়সিদের আক্রান্তের হার বেশি। আমার প্রাণপ্রিয় কলিজার টুকরা বড় নাতনি সুবাহ্, মাধুর্য ও নাতি প্রাচুর্যের স্কুলমুখী পড়াশুনা একেবারেই বন্ধ বছর খানিক থেকেই। যদিও বাসায় ওদের টিউশন শিক্ষক এসে পড়িয়ে যাচ্ছে। কিন্তু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আসা যাওয়া না থাকলে পড়াশুনার পূর্ণতা যে আসে না, তা কি অস্বীকার করা যাবে? আর কবে সোনামনিরা স্কুলে ক্লাস করা কিম্বা ভর্তি হতে পারবে, তা অনেকটাই অনিশ্চিত! অর্থাৎ সার্বিকভাবে পড়াশুনার যে ক্ষতি হচ্ছে, তা অপূরণীয়। বিশেষ করে পড়াশুনার বছর শেষে পরীক্ষা, তাও বন্ধ, আবার শিক্ষাবোর্ড, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন সকল পরীক্ষাও বন্ধ। অনেক ক্ষেত্রে অটোপাসের ব্যবস্থা নিতে কর্তৃপক্ষ বাধ্য হচ্ছেন। অটোপাসের পর উচ্চ শিক্ষার জন্য ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে নানা জটিলতার কারণে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম যে ব্যাহত হচ্ছে, যা বলাই বাহুল্য। এত প্রতিকূল অবস্থার মাঝেও এসএসসি ও সমমান এবং এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতির জন্য সীমিত আকারে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে মর্মে অতি সম্প্রতি বলেছেন, শিক্ষা মন্ত্রী ডা. দীপুমনি। তিনি আরো বলেন, পরিস্থিতি কিছুটা ভালো হলে যদি ফেব্রুয়ারিতে সীমিত আকারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা সম্ভব হয়, তাহলে আগামী জুনে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা এবং জুলাই-আগস্টে এইচএসসি পরীক্ষার আয়োজন করা হবে। এমনকি দীর্ঘদিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের সিলেবাস সংক্ষিপ্ত করে পাঠদানের প্রস্তুতিও নেয়া হচ্ছে। তবে সবকিছু নির্ভর করছে করোনা পরিস্থিতির ওপর। মূলত শিক্ষা ক্ষেত্রে করোনা পরিস্থিতির কারণে যে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে, তাতো স্বীকার করতেই হবে।

 কিন্তু প্রকৃত অর্থে শিক্ষা অর্জনের ক্ষেত্রে স্বাধীনতার যে স্বপ্ন ছিল, সে স্বপ্ন যে পূরণ হয়নি, তা অস্বীকার করবেন কি করে? স্বপ্ন ছিল, দেশ স্বাধীন হবে, শিক্ষা ব্যবস্থার আমুল পরিবর্তন হবে। শিক্ষা হবে সার্বজনিন। শিক্ষা ক্ষেত্রে কোন বৈষম্য থাকবে না। বাস্তবে স্বাধীনতা অর্জনের ৪৯ বছরেও শিক্ষার ক্ষেত্রে আমুল পরিবর্তন এলেও তা সার্বজনিন আদলে না হয়ে বরং শিক্ষার বাণিজ্যকরণের আদলে হয়েছে। শিক্ষা অর্জন এখন বিত্তশালী ব্যতিত স্বল্প আয়ের মানুষ, শ্রমজীবিদের ভাগ্যে ‘সোনার হরিণের’ মতো। প্রাথমিক শিক্ষা ক্ষেত্রে এখনও শতভাগ ভর্তি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এখনও অনেক পথশিশু, যারা টোকাই নামে পরিচিত, তাদের শিক্ষার কোন সুযোগ নেই। জীবিকার তাগিদে ওরা শ্রম বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে। যদিও শ্রম বিক্রি আমাদের দেশের আইনে নিষিদ্ধ। কিন্তু জঠর জ্বালা যে বড় জ্বালা, এ জ্বালা কাজ না করলে তো নিবারণ হবে কি করে? ফলে ওরা শিক্ষা গ্রহণের বয়সে রুজি রোজগারে নেমে পড়েছে। তাহলে স্বীকার করতেই হবে, ক্ষুধা নিবারণের পরিকল্পিত ব্যবস্থা এখনও আমাদের দেশে নিশ্চিত হয়নি। ফলে প্রাথমিক স্তরে শতভাগ শিশুর শিক্ষার সুযোগ এখনও সুদূর পরাহত। যদিও সরকার প্রতিটি শিশুকে স্কুলমুখী করতে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ, টিফিনে বিস্কুট, এমনকি এখন দুপুরের খাবারের ব্যবস্থার কথা ভাবা হচ্ছে, তবুও শতভাগ শিশু শিক্ষার আলো পাচ্ছে না। ভর্তি হলেও নানা কারণে তারা আবার ঝরেও পড়ছে। ফলে প্রাথমিক স্তর থেকে শুরু করে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার প্রবণতা কমার বদলে বরাবরই বৃদ্ধি পাচ্ছে। মূলত শিক্ষা শেষে উপযুক্ত কর্মসংস্থানের অভাব, বেকারত্বের অভিশাপের কারণে শিক্ষা গ্রহণের ওপর আগ্রহ অনেকাংশেই কমে যাচ্ছে। ফলে এইচএসসি ও ¯œাতক পর্যায়েও শিক্ষার্থী ঝরে পড়ছে।

যদিও শিক্ষাকে সার্বজনিন করে সকলের জন্য শিক্ষার সুযোগ সমান করার শ্লোগানে শ্লোগানে প্রকম্পিত হয়েছিল রাজপথ। দেশ স্বাধীন হলে এ সুযোগ নিশ্চিত হবে ভেবে, এ স্বপ্ন নিয়ে দেশের ছাত্র-জনতা পাকিস্তানী স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রাম করলেও সে স্বপ্ন আজও পূরণ হয়নি। বরং শিক্ষার বাণিজ্যিকরণ এমন ভাবে হয়েছে, যেখানে নার্সারি স্তর থেকে সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত বেসরকারিভাবে কিন্ডার গার্টেন, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, বিশ্ববিদ্যালয়, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, মেডিক্যাল কলেজ পর্যন্ত স্থাপন করে চুটিয়ে ব্যবসা করছে দেশের বিত্তশালী শিল্প ও ব্যবসায়ী গ্রুপ। আবার এসব প্রতিষ্ঠানে ভর্তি, টিউশন ফি, পরীক্ষার ফিসসহ নানাবিধ ফিস অনেক বেশি। সেখানে অর্থ-বিত্তশালীদের সন্তান ব্যতিত সাধারণ মানুষের সন্তানরা পড়াশুনার সুযোগ পাবে কি করে? যদিও মহান স্বাধীনতা অর্জনের পর বঙ্গবন্ধু প্রাথমিক শিক্ষাকে জাতীয়করণের ঘোষণা দিয়ে প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। এরপর প্রাথমিক শিক্ষার প্রসারে সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদ ক্ষমতা গ্রহণ করে রেজিঃ বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এসব প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিয়োজিত শিক্ষকদের মাঝে ৫০০ টাকা ভাতা প্রদান করেন তিনি। যেখানে এক দিনের একজন মজুরের মূল্য ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, সেখানে একজন প্রাথমিক শিক্ষক মাত্র ৫০০ টাকা মাসিক ভাতার বিনিময়ে শিক্ষার্থীদের পাঠ্যদান করেছেন। এই সামান্য ভাতার বিনিময়ে বছরের পর বছর ধরে এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান কার্যক্রম চালু ছিল। কি নির্মম অবস্থা! এখান থেকেই প্রমাণ হয়, শিক্ষা ব্যবস্থার কি করুণ অবস্থা! যদিও ২৬ হাজার রেজিঃ প্রাথমিক বিদ্যালয়কে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক ঘোষণার মাধ্যমে জাতীয়করণ করেন। শুধু রেজিঃ বেসরকারি প্রাথমিক স্কুলই নয়, প্রতিবন্ধী স্কুল থেকে শুরু করে যেখানে যে নামে বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছিল, সবগুলোকেই জাতীয়করণ করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সকল সুযোগ সুবিধা সদ্যঘোষিত এসব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের মধ্যেও নিশ্চিত করেন। এমনকি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রাথমিক পর্যায়ের এবতেদায়ী মাদ্রাসা ও কওমী মাদ্রাসাকে জাতীয়করণ করে বিজ্ঞান ভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছেন। বলতে গেলে, স্বাধীনতা অর্জনের ৪৯ বছরের মধ্যে শুধুই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রাথমিক শিক্ষার প্রসারে যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছেন, যা স্বীকার করতেই হবে।

তবে এটাও সত্য, একটি পুঁজিবাদি সমাজ কাঠামোর অধিনে চাইলেই শিক্ষাকে সার্বজনিন করা সম্ভব হয় না। কারণ শিক্ষার পুরোপুরি আমুল পরিবর্তন করতে হলে অবশ্যই ভোগবাদি পুঁজিবাদি সমাজব্যবস্থার বদলে সমাজতান্ত্রিক অর্থনৈতিক সমাজ ব্যবস্থাকে নিশ্চিত করতে হবে। কারণ আপনি আম গাছে আমই পাবেন, চাইলেই কাঁঠাল পাবেন না। অর্থাৎ যে সমাজব্যবস্থায় আমরা বসবাস করবো, সেই সমাজ ব্যবস্থার রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক আইন কাঠামোর মধ্যেই জনগণকে বসবাস করতে হবে। ফলে একটি ভোগবাদি সমাজব্যবস্থায় শোষণ, বঞ্চনা, বেকারত্ব, অতিরিক্ত শিক্ষা খরচে সন্তানদের লেখাপড়া শিখিয়েও কর্মহীন থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। কারণ পুঁজিবাদি রাষ্ট্রে দুর্নীতি, লুটপাটের অর্থ দেশে বিনিয়োগ হয় না। ফলে কর্মসংস্থানের দ্বার সংকুচিতই থেকে যায়। ফলে বেকারত্বের অভিশাপ নিয়ে তরুণ-তরুণী, যুবক-যুবতিরা বিপথগামী হয়। এ জন্য একটি শোষণমুক্ত উন্নত রাষ্ট্রব্যবস্থার জন্য এখন শিক্ষিত, আধা শিক্ষিত, অশিক্ষিত, শ্রমজীবি, কর্মহীন এবং কৃষক-শ্রমিককে এক পতাকাতলে সমবেত হয়ে ঘুঁনে ধরা এই পচা সমাজব্যবস্থার পরিবর্তন করেই রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক মুক্তির স্বাদ গ্রহণ করতে হবে, যার কোন বিকল্প নেই। আর বর্তমান এই সমাজব্যবস্থায় হয়ত জনস্বার্থের কথা বলে বক্তৃতা, বিবৃতি দেয়া যাবে, সুন্দর সুন্দর আশ্বাসের বাণী শোনা যাবে সত্য, কিন্তু তা আর বাস্তবায়ন করা আদৌ সম্ভব হবে না। আর কেউ যদি তা আশা করেন, তাহলে সেটা হবে, “সোনার তৈরি পাথর বাটির” ন্যায় কল্পনাপ্রসুত ও অবাস্তব।
লেখক : প্রাবন্ধিক
[email protected]
০১৯২২-৬৯৮৮২৮