ভার্চুয়াল সমস্যা ও বর্তমান ক্রান্তিকাল

Staff Reporter Staff Reporter
প্রকাশিত: ০৯:৩৪ পিএম, ২১ নভেম্বর ২০২০

তাহমিনা আকতার পাতা : বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তি মানবজাতির জন্য এক বিস্ময়কর পথযাত্রা। সময়ের সাথে সাথে বিজ্ঞানের নতুন নতুন পথ আবিষ্কার আমাদের জীবন ধারাকে যেমন আধুনিক ও শাণিত করেছে তেমনি কিছু কিছু ক্ষেত্রে এর অপব্যবহারও চোখে পরে। প্রতিনিয়ত বিজ্ঞানের ভিন্নমুখী আবিষ্কারের ফলে আমাদের জীবনযাত্রায় এর প্রভাব যথেষ্ট খুজে পাচ্ছি। সবাই অতি কঠিন কাজ সহজেই সম্পন্ন করতে সক্ষম হচ্ছি। এসবই সম্ভব হচ্ছে বিজ্ঞানের নিত্য নতুন আবিষ্কারের প্রসার ও এর ব্যবহারে দক্ষতার জন্য। কিন্তু সেই সাথে এটাও মানতে হয় যে, কিছু ক্ষেত্রে এর অপব্যবহার ও কুফল দায় অশনি সংকেত দিচ্ছে। বর্তমান বিশ^ চলছে এখন ভার্চুয়াল মিডিয়ার উপর ভর করে। এই মাধ্যমে অতি দ্রুত পৃথিবীর যে কোন প্রান্তের খবর, ম্যাসেজ, ছবি এবং অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে। যেটা অতীত দিনে এতো দ্রুত সম্ভব হতো না। ফেসবুক, ইন্টারনেট, টুইটার, ¯œ্যাপচ্যাট, ইউটিউব, ভার্চুয়াল গেম, অনলাইন, শপিং সহ আরো যেসব মাধ্যম আছে সব মাধ্যম গুলোতেই কম বেশি সবাই সরব এবং এগুলো ব্যবহারে আসক্তি বাড়ছ্।ে অনেকে আজকাল এতো বেশি প্রযুক্তি নির্ভর হয়ে উঠেছে যে তাদের জীবনধারার ধরণ রীতিমতো কৃত্রিম এবং আঁৎকে ওঠার মতো। সবচেয়ে বেশি চিন্তার বিষয় শিশুদেরকে নিয়ে। বর্তমানে খেলাধুলার পর্যাপ্ত মাঠ ও খোলামেলা জায়গার অভাবে শহরকেন্দ্রিক আবাসস্থলে ঘরবন্দি শিশুরা সময় ব্যয় করছে ভিডিও গেম, র্স্মাট ফোন এবং টিভি স্কিনের সামনে।
জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা (ইউনিসেফ) Ñএর রিপোর্ট অনুসারে বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর একটি বড় অংশের বয়স ১৮ বছরের নিচে।। ১৩ থেকে ১৮ বছর বয়সী প্রায় ১২ হাজারের কাছাকাছি শিশু কিশোরদের নিয়ে এই জরিপটি ইউনিসেফ অতি গুরুত্বের সাথে পরিচালনা করে। এর ফলাফলে সবচেয়ে আশ্চর্যজনক যে তথ্যটি বের হয়ে এসেছে তাহলো অংশগ্রহণকারীদের ৮১.২ শতাংশ শিশু স্বীকার করেছে, তারা প্রতিদিনই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যবহার করে। এছাড়া ১৩ শতাংশ শিশু নিজেরাই স্বীকার করেছে যে, তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বিভিন্ন সময়ে ভয়ঙ্কর হয়রানি এবং নানা রকম অযৌক্তিক উত্ত্যক্তের শিকার হচ্ছে। অন্যান্য সূত্র থেকে আরো জানা যায় প্রযুক্তির এই উত্থানের জন্য ব্যক্তিগত জীবন, মনোদৈহিক স্বাস্থ্য ও সামাজিক শান্তির জন্য এক ভয়ানক হুমকি হিসাবে কাজ করছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। আধুনিক জীবনযাত্রা আমাদের প্রতিনিয়ত স্মার্ট হতে বলছে কিন্তু তার মানে এই নয় যে আমরা সবকিছুতেই দিনের বেশিরভাগ সময় তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম ব্যবস্থা আর ফেসবুক সহ বিভিন্ন ভার্চুয়াল ভাইরাসের ছোবলে আটকে থাকবো। এক সময় প্রযুক্তির এই আগমনে বিশ^ অঙ্গন নেড়ে নেড়ে উঠে আনন্দে সাদর সম্ভাষণ করেছিল। তখন এর কুফল টের পাওয়া যায়নি। কিন্তু দিনে দিনে এর খারাপ প্রভাব আস্তে আস্তে  চোখের সামনে উন্মোচিত হচ্ছে। পৃথিবীর মানুষ এখন ভার্চুয়াল মিডিয়ার হাতছানি থেকে নতুন করে বাঁচাতে চাইছে প্রতিটি পরিবার এবং পরিবারের কোমলমতি সন্তানদের। এজন্য বাড়াতে হবে সচেতনতা। হতাশা, বিষন্নতা, বিপথে যাওয়াকে কেন্দ্র করে গোপন শত্রুর মতো ভার্চুয়াল ভাইরাসের দিকে জোড়ালোভাবে আঙ্গুল তুলেছেন অনেকেই। বি.টি.ভি সহ অন্যান্য টি.ভি চ্যানেলগুলোতে বর্তমানে মাঝে মাঝে এ বিষয় নিয়ে বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা মানুষকে সচেতন করার জন্য তাদের মূল্যবান বক্তব্য তুলে ধরছেন। সন্তান, মা-বাবা ভাই-বোন সহ অন্যান্য আত্মীয়-স্বজনদের সাথে বাস্তব যোগাযোগ বাড়াতে বলছেন। তবে বর্তমানে যে সত্য স্পষ্ট চোখে পরছে তা হলো যে সব বাচ্চারা আগে স্মার্ট ফোন বা অনলাইন, ইন্টারনেট ব্যবহার করতো না করোনা মহামারির এই দু:সময়ে স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকার কারণে অনলাইন ক্লাস করতে বাধ্য হয়েছে। অভিভাবকরাও অনেকে অনিচ্ছা সত্ত্বেও শিশুদের এই সব প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ দিতে বাধ্য হয়েছেন। নেট দুনিয়ার সর্বনাশা কিছু অ্যাপস সহ আমাদের চোখে ভার্চুয়াল যেসব সমস্যা আস্তে আস্তে বাড়ছে সেগুলো এখন প্রকট আকার ধারণ করেছে। সবাই এখন বুঝতে না পারলেও একদিন এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বেই। স্মার্টফোন, ইন্টারনেট, ফেসবুক সহ প্রযুক্তির অতি আসক্তিকর ব্যবহারিক অবস্থাকে গবেষকরা জীবনঘাতী মাদকের সাথে তুলনা করে নাম দিয়েছেন ডিজিটাল কোকেন। যারা এসব মাধ্যমে অতিরিক্ত নেশা বা আসক্তিতে সময় ব্যয় করে তাদের সংখ্যা নেহাত কম নয়। এমনকি ধনী-গরীব, শিশু, কিশোর, তরুণ থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষই এর করাল গ্রাসের শিকার। সেই সাথে আরও একটি বিষয় লক্ষ্যণীয় তা হলো বিশে^র বিভিন্ন প্রান্তে সাইবার ক্রাইম নানা দুর্ঘটনায় জর্জরিত করছে মানুষকে। তথ্য চুরি, গোপন বিভিন্ন বিষয় ফাঁস হবার ভয়ে অনেকেই ফেসবুক ডিলিট করেছে। আজকাল পারিবারিক বন্ধন, নৈতিকতা, সামাজিক ভাঙনের দায় হিসাবে ভার্চুয়াল বিষয়কে দায়ী করছেন অনেকেই। এর অকারণ ব্যবহার না করে আমরা কি এর ডিলিট করতে পারি না? তবে আমাদের জীবনটা আজকাল যেহেতু অনেকটাই প্রযুক্তি নির্ভর তাই শিক্ষাগত কাজে, পেশাগত বা অতি দরকারি কাজে কম্পিউটার, ল্যাপটপ নির্দিষ্ট সময় বের করে ব্যবহার করা যেতেই পারে। বিশে^র বিভিন্ন দেশ তথ্য প্রযুক্তির অতি আসক্তির শংকা দেখে কিছু অঙ্গরাজ্যে স্কুলে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করেছে। বর্তমানে কোভিড-১৯ এর কারণে স্কুল-কলেজগুলোতে অনলাইন কøাস হচ্ছে। এতে বাচ্চারা স্বল্পমেয়াদে হয়তো কিছুটা উপকৃত হচ্ছে। কিন্তু র্দীঘমেয়াদে বাচ্চাদের উপর শারীরিক ও মানসিক যে মন্দ প্রভাব পরছে তার খেসারত হয়তো একদিন পরিবারকেই দিতে হবে। স্মার্ট ফোনের স্কিনে দীর্ঘ সময় ক্লাস করার কারণে দৃষ্টিশক্তির উপর প্রচন্ড রকম খারাপ প্রভাব পরছে। অন-লাইনে পড়ালেখার অজুহাতে বাচ্চারা স্মার্ট ফোনের উপর এতো বেশী আসক্ত হয়ে পরেছে যা মাদকাসক্ত আসক্তির চেয়ে কম নয়।
গবেষণা জার্নাল থেকে এ ব্যাপারে বার বার সতর্ক সংকেত দেয়া হচ্ছে। ব্যাপক গণসচেতনতা, পারিবারিক কাউন্সিল বা বিনোদনের বিকল্প উদ্ভাবন ছাড়া এ সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব না। ১৯৯৮ সালে আমি যখন প্রথম মোবাইল ফোন ব্যবহার শুরু করি তখন মনে হয়েছে যোগাযোগের মাধ্যম হিসাবে অনেক বেশী এবং যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ  মাধ্যম এটি। এরপর অনেকটা সময় গড়িয়েছে কখনো ফেসবুক কিংবা তথ্যপ্রযুক্তির অন্যান্য মাধ্যমগুলি ব্যবহার করে সময় ব্যয় করার ইচ্ছা জাগেনি। বই, পেপার পত্রিকা পড়ে এবং লেখালেখি আমার অবসরের নিত্য সঙ্গী ছিল। ২০২০ সালে এসে বাচ্চাদের অনলাইন ক্লাসের জন্য ফেসবুক আইডি খুলতে বাধ্য হয়েছি অনেকটা ইচ্ছার বিরুদ্ধে। আমি বিশ্বাস করি বাস্তবভিত্তিক কিছু কাজ আছে যা জীবনকে যন্ত্র নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনা এক্ষত্রে নিজেই নিজের নিয়ন্ত্রক হওয়া সম্ভব। সৃজনশীল বিভিন্ন কাজে শিশুদেরকে ব্যস্ত রাখলে অনেকটা আশার আলো খুঁজে পাওয়া যায়। যেমন বই পড়া, ধর্মীয় নৈতিক শিক্ষা, ছবি আঁকা, গান শেখা, খেলাধুলার মাধ্যমে শিশুরা তাদের মেধা সুন্দরভাবে বিকশিত করতে পারে। তাই এ ব্যাপারে আভিভাবকদের সচেতন হতে হবে। একটা সময় ছিলো যখন লোক মারফতে কিংবা ডাকঘরে চিঠি আদান-প্রদান, টেলিফোন ও দৈনিক পত্রিকা, রেডিও টেলিভিশনের মাধ্যমে খবর ও তথ্য সংগ্রহ করে মানুষ জানতো এবং শিখতো। এরপর এলো মোবাইল ফোন। ছোট বাটনে টিপে অতি সহজেই খবর পাওয়া যেত কথা বলে। এ মাধ্যমই যথেষ্ট ছিলো। কিন্তু বিজ্ঞান থেমে থাকেনি। নিত্য-নতুন আবিষ্কার আজকে বর্তমান দুনিয়া তথ্য ও প্রযুক্তিতে ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এলো স্মার্টফোন। কি নেই আজ স্মার্টফোনে। যা ইচ্ছে তাই অল্প সময়ে যখন-তখন পেয়ে যাচ্ছে হাতের মুঠোয়। জীবন চলবে জীবনের গতিতে, প্রযুক্তি প্রযুক্তির নিয়মে। মানুষের সুন্দর সময়ের সাথে এর অপব্যবহার মোটেই ঠিক না। ফেসবুক বা অন্যান্য নেট দুনিয়ার যে কোনো মাধ্যমে নেশায় বুদ হয়ে থাকার চেয়ে মানুষের মন বিকাশের কোন শখে সময় ব্যয় করা অনেক বেশী যুক্তিসঙ্গত কাজ বলে বিশ^াস করি।
ফেসবুকিং আজ সাধারণ একটা কর্ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। মানুষের দৈনন্দিন কাজের অনেকটা সময় জুড়ে থাকছে সোস্যাল মিডিয়া। এই আসক্তিতে কে কখন কিভাবে জড়িয়ে যাচ্ছে অনেকে টেরই পাচ্ছেন না। আমরা কি চাই আমাদের জীবন মেধা শূন্য ও সময় ক্ষয়ে যাওয়া হোক ? নিশ্চয়ই তা চাইবো না আমরা। যুক্তি, তর্ক, ভেবে-চিন্তে অনেকটা সময় পার করে বড় একটা প্রশ্ন আজ সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। শিউরে ওঠার মতো কিছু গবেষণা বিজ্ঞানীদেরকে অবাক করেছে। যেমন কিছু গেম আছে যেগুলো শিশু-কিশোরদের সহিংস ও প্রতিহিংসাপরায়ণ ও চরম হিং¯্র করে তোলে। এর প্রমাণও কিছু মিলেছে। সহিংস ভিডিও গেমে অতি উৎসাহী কিশোররা অনেকে নানা অঘটন ঘটানোর চেষ্টা করে থাকে। ইলেকট্রিক ডিভাইসে ঘন্টার পর ঘন্টা সময় ব্যয় করাও ঠিক নয়। যন্ত্রের নিয়ন্ত্রণে থেকে মানুষই আজ যন্ত্র হয়ে গেছে। এছাড়া অনেক ছাত্র-ছাত্রী রাত জেগে বিভিন্ন অ্যাপস ঘেটে রাত ভোর করে যা তাদের লেখাপড়ার ক্ষেত্রে ও মেধা বিকাশে অন্তরায়। কানে হেডফোন লাগিয়ে রাস্তা পার হওয়া আর বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে সেলফি তুলতে যেয়ে অনেকেই মৃত্যুবরণ করেছে। এর সংখ্যাও নেহাত কম নয়। পৃথিবীর সব প্রান্তে ভার্চুয়াল ভাইরাস মানুষের জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করে চলছে সুক্ষ গতিতে। আজকাল ভাইরাস সবার কাছে অতি পরিচিত একটি শব্দ হলেও এর শক্তির কোন শেষ নেই। নোভেল করোনা ভাইরাস চলতি বছরের পুরো সময় জুড়ে পৃথিবীকে নিয়ন্ত্রন করছে। অদেখা এ শত্রু ভাইরাস তোলপাড় করে দিয়েছে সবকিছু। গৃহবন্দি জীবনের সাথে মানুষ পরিচিত হয়েছে। অর্থনৈতিক মন্দা হাওয়া, সামাজিক পরস্পর সৌহার্দ অনেকটাই সমাজে ম্লান। এছাড়া প্যানডেমিক এ ক্রান্তিকালে প্রতিদিন কিছু না কিছু ঘটনা ঘটেছে, ঘটবে। রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক  প্রেক্ষাপট পর্যালোচনা করলে সবকিছুই আমাদের স্মরণে আসে। চাল, ডাল, তের চুরি, করোনা পরীক্ষার জাল টেষ্ট সার্টিফিকেট বিক্রয়ের কেচ্ছা-কাহিনী কে না জানে। করোনা কালের এসব ঘটনা নতুন করে বলার কিছু নেই। সব নিউজই আজ খোলা ময়দান।
১৮৯২ সালে রাশিয়ার উদ্ভিদবিজ্ঞানী দিমিত্রি ইভানোভস্কি ভাইরাস আবিষ্কার করেন। ভাইরাস ল্যাটিন ভাষা থেকে গৃহীত একটি শব্দ। ভাইরাস অর্থ বিষ। নজিরবিহীন মহামারির এই দু:সময়ে করোনার চেয়েও ভয়াবহ কিছু মানুষরূপী বিষ এবং এ বিষের নোংরা মানসিকতার বলি হিসাবে নারী নির্যাতনের বাস্তব চিত্র বাংলাদেশের মানচিত্রকে তোলপাড় করেছে। নারী ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধ করেছে যারা, তারা এ সমাজের কলঙ্ক। এনিয়ে সারাদেশে চলছে আন্দোলন, মিছিল, মিটিং। সমস্ত বিশ^ যখন নোভেল করোনা ভাইরাস নিয়ে যুদ্ধ করছে জীবন বাঁচাতে, তখন হঠাৎই নোংরা কিছু চিত্র বিবেককে দংশন করে। আন্দোলন, প্রতিবাদ ও সুষ্ঠ বিচারের আশায় সমস্ত বাংলাদেশ গর্জে ওঠে। যা আমাদের কারো অজানা নয়। এক দু:সময়ের মধ্যে আরেক দু:সময় আমাদেরকে কঠিন প্রশ্ন ও দংশিত বিবেকের কাঠগড়ায় সময়কে দাঁড় করিয়েছে। ধিক্কার দেই সেই সব নরপশুদের যারা এমন ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে। নারী নির্যাতন বন্ধ হোক, সঠিক বিচার বিবেচনায় দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া উচিত্। নারী নির্যাতনের মতো অপরাধমূলক কাজে কেউ যেন সাহস না পায়, ঘটনা ঘটিয়ে কেউ যেন পালাতে না পারে সেজন্য কঠোর আইনী বিধান আর বিলম্ব নয়। সমাজের এইসব কলঙ্কময় অধ্যায়ের যারা সূচনা করে তারা নিজেরাই এক একটি ভয়ানক ভাইরাস, বিষবাষ্প। সময় এখনও ফুরিয়ে যায়নি শোধরানোর। যে কোন বিষ বা ভাইরাস যেন নতুন করে ছড়াতে না পারে পৃথিবী, সমাজ, মানুষেÑ মানুষে। এ দেশ বা অন্য কোন দেশে সেজন্য সবাইকে সর্বদাই সচেতন থাকতে হবে।  
লেখক ঃ আইনজীবি ও প্রাবন্ধিক
জজ কোর্ট, ঢাকা
০১৭১১-৮২৫৫৫৪