নবুয়তের ধারা সমাপ্তকারী হিসাবে হযরত মোহাম্মাদ (সা:)

Staff Reporter Staff Reporter
প্রকাশিত: ০৭:২৬ পিএম, ২০ নভেম্বর ২০২০

মাওঃ ডাঃ মোঃ শফিকুল ইসলাম মীর : আল্লাহ তা’আলা পবিত্র কালামুল্লা শরিফে নবীজী (সাঃ) এর শানে ইরশাদ করেছেন- ‘মা’কানা মুহাম্মাদুন আবা.......... ওয়া খ-তামান নাবিয়্যিন’ মুহাম্মাদ (সাঃ) তোমাদের কোন পুরুষের পিতা নন, বরং তিনি আল্লাহর প্রেরিত রসুল ও সর্বশেষ নবী। [সুরা আহযাব আয়াত নং-৪০] উক্ত আয়াত দ্বারা এ কথা জানা যায় যে, মোহাম্মাদ (সাঃ) সর্বশেষ নবী। এ সম্পর্কে নবীজী (সাঃ) নিজেই ইরশাদ করেছেন-‘আনা খ-তামান নাবিয়্যিন, লা নাবিয়্যা বা’দি’ আমিই শেষ নবী আমার পরে আর কোন নবীর আগমন হবে না। [তিরমিযী]। নবীজী (সাঃ) শেষ নবী বলে বিশ্বাস করা তাঁর প্রতি ঈমানের অবিচ্ছেদ্য অংশ তা ব্যতীত মুসলমান হওয়া যাবে না। অতএব, খতমে নবুয়ত এবং এর তাৎপর্য সম্পর্কে আমাদের ভালোভাবে বুঝতে হবে, জানতে হবে। খতমে নবুয়ত এর সারকথা হলো নবুয়ত, ইলাহী ইল্ম ও আখলাকের যতগুলো স্তর রয়েছে তা নাবীজী (সাঃ) এর সত্তায় পরিপূর্ণতা লাভ করেছে। যাবতীয় নবুয়তী ও মানবিক গুণাবলী তাঁর সত্তার মাধ্যমে পরিপূর্ণতা অর্জন করেছে।
এক কথায় নবুয়াতের কোন তবকা বা স্তর আর বাঁকী নেই- যার উপর ভিত্তি করে কোন নবী আসবেন এবং তিনি তার দিকে মানুষকে আহ্বান করবেন। যেহেতু নবী করিম (সাঃ) এর মাধ্যমে সকল মর্তবা পরিপূর্ণতা লাভ করেছে, তাই তারপরে আর কোন নবীর প্রয়োজন হবে না। তাই নবীজী (সাঃ) এর আনীত দ্বীনই সর্বশেষ দ্বীন এবং তাঁর উপর অবতীর্ণ কিতাবই সর্বশেষ কিতাব। তাঁর উম্মতই সর্বশেষ উম্মত। খতমে নবুয়াতের সরল অর্থ হচ্ছে-নবুয়তের ধারাবাহিকতা বন্ধ হয়ে যাওয়া। আর কোন নবীর আগমন না হওয়া। আর খতমে নবুয়তের তাত্ত্বিক অর্থ হলো-নবুয়ত পরিপূর্ণতা লাভ করা। অর্থাৎ নবুয়ত কামালাতে মর্তবায় পৌঁছা। আর কোন জিনিস কামালাতের মর্তবায় পৌঁছলে তার এমন কোন অংশ বাঁকী থাকে না-যা পুনরায় হওয়ার প্রয়োজন হয়। নবীজী (সাঃ) এর নবুয়ত তদ্রুপ। তাই তার পরে আর কোন নবীর আগমনের প্রয়োজন অবশিষ্ট নেই। এর উদাহরণ এভাবে বুঝতে হবে যেমন রাত্রি বেলায় আকাশে হাজার হাজার তারকা এবং এ সবের পাশাপাশি চাঁদ উদিত হয়। সে সব তারকা ও চাঁদের আলো চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু এসব চাঁদ-তারকার আলোতে পৃথিবীর আলোই পরিপূর্ণতা সম্পন্ন হয়ে যায় না। তাই দিনের আগমন হয় না। বরং দিনের আগমনের জন্য আরো আলোর প্রয়োজন বিদ্যমান থাকে। কিন্তু যখন পৃথিবীতে সূর্যের আগমন হয়, তখন দুনিয়ার আলোতে পরিপূর্ণতা সাধিত হয়, তাতে রাত্রি বিদুরীত হয়ে যায় এবং দিনের আগমন ঘটে। এই সূর্যের আলোর আগমনের পর পৃথিবীতে আর কোন আলোর প্রয়োজন থাকে না। এ সময় যদিও তারকারাজি নিজ নিজ স্থানে আলোকিত থাকে কিন্তু তাদের আলো সূর্যের আলোর সামনে ম্লান হয়ে থাকে। যা নজরে ধরা পড়ে না। তেমনি নবুয়ত বিশাল এক আসমানের স্বরূপ, নবুয়তি আসমানে-প্রথম চাঁদ-তারকা হযরত আদম (আ.) উদয় হলেন, তিনি এসে নবুয়াতী আলো ছড়ালেন, তাঁর পরে হযরত নূহ (আঃ), তাঁর পরে হযরত হুদ (আঃ), হযরত সালিহ (আঃ), হযরত ইব্রাহীম (আঃ), হযরত মুসা (আঃ) নামক চাঁদ-তারকার আগমন হয়, তারপর বনি ইসরাঈলদের হাজারো নবুয়াতী চাঁদ-তারকা নবুয়াতের আসমানে উদিত হয়। এভাবে নবুয়াতী চাঁদ তারকার সমাবেশে নবুয়াতী আসমান ভরে যায়, পরিশেষে আগমন হয় নবুয়তি সূর্যের। তাঁর মাধ্যমে নবুয়াতের আলোতে দুনিয়া পরিপূর্ণ রূপে আলোকিত হয়ে যায়। তাই তার পরে কিয়ামত পর্যন্ত আর কোন নবুয়াতী চাঁদ-তারকার প্রয়োজন অবশিষ্ট থাকে না। তাই তো তিনি এসেই ঘোষণা দিলেন একমাত্র আমার নবুয়াতী সূর্যের আলোই পৃথিবীতে ভাস্বর হয়ে থাকবে। আর আমার পরে আমার সাহাবায়ে কিরাম, তাবেঈন, তাবে-তাবেঈন, আইমমাইয়ে মুজতাহিদীন ও ওলামায়ে হক্কানী কিয়ামত পর্যন্ত আমার নবুয়াতী সূর্যের আলোতে দ্বীনের কাজ আনজাম দিবেন। এর জন্য নতুন করে কোন আলোর প্রয়োজন হবে না, প্রয়োজন হবে না কোন নতুন নবীর আগমনের।
অতএব আমার পরে যদি কেউ নবুয়তের দাবি করে তাহলে তা হবে ডাহা মিথ্যা, আর সে হবে কাযযাব, ধোকাবাজ ও ভন্ড। এমতাবস্থায় আমাদের কর্তব্য হচ্ছে নবীজী (সাঃ) এর রিসালাতের ঈমানের পাশা পাশি তাঁর খতমে নবুয়াতের ঈমানের যথাযথ হিফাযত করা। এ জন্য এ খতমে নবুয়তে পরিপন্থি বা বিরুদ্ধবাদী আকিদা পোষণকারী কোন ব্যক্তি বা দল বা অন্য যে কেউ মিথ্যা নবুয়তের দাবিদার হোক-তার বিরুদ্ধে আমাদের সোচ্চার থাকতে হবে। আমাদের দ্বীন ও ঈমানের হিফাযতের জন্য এটি একটি অপরিহার্য ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অতএব, আসুন আমরা সবাই মিলে খতমে নুবয়াতের বিষয়ে পরিপূর্ণ ঈমানদার ও নবী প্রেমিক হয়ে কবরে যেতে পারি, আল্লাহ তা’আলা আমাদেরকে তাওফিক দান করুন। আমীন।।
লেখক ঃ ইমাম ও খতীব
কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, বৃন্দাবনপাড়া, বগুড়া।
০১৭১৯-৫৩৭৪০২