খাদ্য নিরাপত্তা

Staff Reporter Staff Reporter
প্রকাশিত: ০৭:১৭ পিএম, ২০ নভেম্বর ২০২০

করোনাভাইরাস বিপর্যয়ের বাস্তবতায় বিশ্বজুড়ে অভাবী মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। ফলে দুর্যোগ কালে খাদ্য নিরাপত্তা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এটা সত্য খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা ও শিক্ষা ইত্যাদি হলো একজন স্বাধীন রাষ্ট্রের নাগরিকের মৌলিক অধিকার। একটি দেশকে সঠিকভাবে উন্নত করতে চাইলে সবার আগে সেই দেশের জনগণের খাদ্যের নিরাপত্তা দান করতে হবে। খাদ্য ছাড়া মানুষ অচল। তাই এই খাদ্যের নিরাপত্তার জন্য সরকারকে সচেতন হতে হবে। খাদ্য নিরাপত্তা বলতে এটি জনগণের বছরে যে পরিমাণ খাদ্যের প্রয়োজন তা দেশের মজুদ থাকাকে বোঝায়। এক প্রতিবেদনে প্রকাশ, দেশের সরকারি খাদ্য গুদামগুলোতে বর্তমানে খাদ্য শস্য মজুদ রয়েছে ১০ লাখ ৩ হাজার ২০ টন। গত বছর একই সময় এই মজুদের পরিমাণ ছিল ১৫ লাখ ৯৬ হাজার ৮৪০ টন।

সে হিসাবে গত বছরের তুলনায় সরকারি গুদামে মজুদ কমেছে ৫ লাখ ৯৩ হাজার ৮২০ টন খাদ্য শস্য। খাদ্য পরিকল্পনাও পরিধারণ ইউনিটের (এফপিএমইউ) দৈনিক খাদ্য পরিস্থিতির সার সংক্ষেপ থেকে এই তথ্য জানা গেছে। আরো প্রকাশ, দেশে প্রায় ৪ কোটি মানুষ পুষ্টিহীনতার শিকার। প্রায় ৪৪ শতাংশ নারী রক্ত স্বল্পতায় ভোগেন। দেশে প্রতি পাঁচ জনে একজন মানুষ দারিদ্র্য সীমার নিচে বসবাস করে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল দুর্গম এলাকার দলিত আদিবাসী, বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও শহরের নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে পুষ্টিহীনতা বেশি। এই চিত্র সুখকর নয়। আমাদের কৃষি খাতকে আরও আধুনিকায়ন করা দরকার। এ জন্য বিনিয়োগ যেমন বাড়াতে হবে। তেমনি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সুফল কাজে লাগানোর ওপরও সর্বোচ্চ জোর দিতে হবে। সেই সঙ্গে কৃষি জমি রক্ষা করতে আইনের বাস্তবায়ন ঘটাতে হবে। পৃথিবীর সব রাষ্ট্রেই ভূমি ব্যবহার বিধি কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়, যা আমরা করি না। কৃষিখাত আমাদের বড় শক্তি। এ খাত কেবল মানুষের আহার জোগায় না। শিল্প ও রফতানি খাতের বিকাশেও বড় উৎস এটি। সরকারের সঠিক পরিকল্পনা ও বাস্তব সস্মত সুষ্ঠু উদ্যোগই কেবল পারে দেশের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে।