৬ বছর পর সাফের ফাইনালে বাংলাদেশ

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২২, ০১:৫৫ দুপুর
আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২২, ০১:৫৫ দুপুর
আমাদেরকে ফলো করুন

গ্রুপ পর্বে অদম্য ছিল বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দল। সেই ধারা তারা বজায় রাখল সেমিফাইনালেও। দাপুটে পারফরম্যান্স উপহার দিয়ে গোলাম রব্বানি ছোটনের শিষ্যরা ভুটানকে ভাসাল গোলবন্যায়। বিশাল জয়ে পেল সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালের টিকিট।

শুক্রবার নেপালের কাঠমুন্ডুর দশরথ রঙ্গশালা স্টেডিয়ামে প্রথম সেমিতে ভুটানকে ৮-০ গোলে বিধ্বস্ত করেছে বাংলাদেশ। আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর একই ভেন্যুতে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে তারা খেলতে নামবে। তাদের প্রতিপক্ষ হবে স্বাগতিক নেপাল ও আসরের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারতের মধ্যকার আরেক সেমিফাইনালের বিজয়ী দল।

বিরতির আগে-পরে চারটি করে গোল করেন বাংলাদেশ। হ্যাটট্রিকের স্বাদ নেন দুর্দান্ত ছন্দে থাকা অধিনায়ক সাবিনা খাতুন। আসরে এটি তার দ্বিতীয় হ্যাটট্রিক। সব মিলিয়ে চার ম্যাচে ৮ গোল নিয়ে গোলদাতাদের তালিকায় শীর্ষে আছেন তিনি। একবার করে নিশানা ভেদ করেন সিরাত জাহান স্বপ্না, কৃষ্ণা রানি সরকার, ঋতুপর্ণা চাকমা, মাসুরা পারভিন ও তহুরা খাতুন।

দ্বিতীয়বারের মতো সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে উঠল বাংলাদেশের নারীরা। এর আগে ২০১৬ সালে ভারতে অনুষ্ঠিত আসরে প্রথমবার ফাইনালে খেলেছিল তারা। সেবার স্বাগতিকদের কাছে ৩-১ গোলে হেরে রানার্সআপ হয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল তাদের।

ম্যাচের আগে ভুটানের অধিনায়ক পেমা শেরিং বাংলাদেশকে কঠিন সময় উপহার দেওয়ার প্রতিজ্ঞা করেছিলেন। কিন্তু মাঠে সেরকম কিছুর দেখা মেলেনি। দারুণ সব পাসে তাদের রক্ষণভাগে বারবার ফাটল ধরান বাংলাদেশের দুই মিডফিল্ডার মারিয়া মান্ডা ও মনিকা চাকমা। গোটা দল অসাধারণ নৈপুণ্য দেখালেও থেকে যাচ্ছে একটি অস্বস্তি। দ্বাদশ মিনিটে ভুটানের এক ডিফেন্ডারের চ্যালেঞ্জে আঘাত পাওয়া ফরোয়ার্ড স্বপ্না মাঠ ছাড়েন খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। তাকে ফাইনালে পাওয়া নিয়ে জেগেছে শঙ্কা।

একপেশে লড়াইয়ের দ্বিতীয় মিনিটেই গোলের উল্লাস। মনিকার পাসে গোলরক্ষককে কাটিয়ে কোণাকুণি শটে বল জালে জড়ান স্বপ্না। ১৮তম মিনিটে মারিয়ার বাড়ানো বলে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড সাবিনা। তৃতীয় গোলের স্বাদ বাংলাদেশ পায় ৩০তম মিনিটে। মনিকার ক্রসে কৃষ্ণার হেড অতিক্রম করে যায় গোললাইন। পাঁচ মিনিট পর ভুটানের গোলরক্ষক পুরোপুরি বিপদমুক্ত করতে না পারলে বল পেয়ে যান ঋতুপর্ণা। বাঁ পায়ের শটে ফাঁকে জালে বল পাঠাতে ভুল হনি তার।

বিরতির পর খেলা শুরুর নবম মিনিটে সানজিদা আক্তারের ক্রসের সফল পরিসমাপ্তি ঘটে সাবিনার লক্ষ্যভেদে। দুই মিনিট পর আলগা বলে আলতো টোকায় স্কোরলাইন ৬-০ করেন মাসুরা। সাবিনার ফ্রি-কিক ভুটানের গোলরক্ষক হাতে জমাতে ব্যর্থ হলে সুযোগ লুফে নেন তিনি। ৮৭তম মিনিটে গোলদাতাদের তালিকায় নাম ওঠান তহুরা। আর দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে হ্যাটট্রিক পূরণ করেন সাবিনা।

এবারের সাফে টানা চার জয় পেল বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষের জালে ২০ বার বল পাঠানোর বিপরীতে একটি গোলও হজম করেনি তারা। মালদ্বীপকে ৩-০ গোলে হারিয়ে গ্রুপ পর্ব শুরু করা নারীরা পরে পাকিস্তানকে গুঁড়িয়ে দেয় ৬-০ গোলে। সাফের গত পাঁচ আসরের সবকটিতে শিরোপা জেতা ভারতকে শেষ ম্যাচে ৩-০ গোলে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয় তারা।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়