ঝিনাইদহের পাখি প্রেমিক ভ্যানচালক রিপন

Staff Reporter Staff Reporter
প্রকাশিত: ০৯:৪২ পিএম, ১৫ অক্টোবর ২০২০

ঝিনাইদহ : ভোর হলেই তার জন্য অপেক্ষা করে শালিকের ঝাঁক। করোনার কারণে আয় রোজগার কম। তারপরও প্রতিদিন সকালে নিজের স্বল্প আয় থেকে কিছুটা বাঁচিয়ে ক্ষুধার্ত পাখিদের খাবার দেন তিনি। এই পাখিপ্রেমিক হলেন ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার গাড়াগঞ্জ এলাকার ভ্যানচালক রিপন হোসেন। গত সোমবার সকালে গাড়াগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডের মধু বিশ্বাসের চায়ের দোকানে গিয়ে দেখা যায় রিপন হোসেন দোকান থেকে খাবার কিনে রাস্তায় ছিটিয়ে দিচ্ছেন। আর শালিক পাখির ঝাঁক যেন খাবার খাওয়ার প্রতিযোগিতায় নেমেছে। খাবার খাওয়ার দৃশ্য দেখে রিপনের ঠোঁটে ছিল তৃপ্তির হাসি। ভ্যানচালক রিপন গাড়াগঞ্জ বাজারপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি জানান-ব্যাটারি চালিত ভ্যান চালিয়ে যা রোজগার হয় তা দিয়েই চলে তার সংসার। প্রতিদিন সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে আসার পর মধু বিশ্বাসের দোকানের সামনে এলেই শালিকের ঝাঁক তাকে দেখে কিচিরমিচির শব্দ শুরু করে। নিজের অল্প আয় থেকে টাকা বাঁচিয়ে পাউরুটি, চানাচুরসহ নানা প্রকার খাবার দেন তিনি। পাখিদের কিচিরমিচির শব্দ আর খাবার শেষে পাখিদের জলকেলিতে মাতার দৃশ্য যেন মনোমুগ্ধকর। যা দেখে মুগ্ধ হন আশপাশের মানুষজন।

চা দোকানি মধু বিশ্বাস বলেন, সকালে পাখিগুলো যখন খাবার খায় তখন দেখতে খুবই ভালো লাগে। কিচিরমিচির শব্দ করে যা শুনে মনটা ভরে যায়। একই এলাকার হেলাল উদ্দিন বলেন, করোনার কারণে এখন মানুষের আয় রোজগার কম। মাঠে ঘাটে এখন খাবার কম। যে কারণে শালিক পাখির দল বাজারে ভিড় করে। রিপন হোসেন খাবার দেন এতে স্থানীয় অনেকেই মাঝে মাঝে সহযোগিতা করে। তারপরও তা পর্যাপ্ত না।এ ব্যাপারে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কমিটির ঝিনাইদহ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বলেন, ব্যক্তি উদ্যোগে যারা পাখির খাবারের ব্যবস্থা করেন তাদের সরকারিভাবে সহযোগিতা করা উচিত। শুধু সহযোগিতায় নয় পাখির সংরক্ষণ ও তাদের খাবারের ব্যবস্থা যদি করা হয় তাহলে একসময় ঝিনাইদহ জেলা হবে পাখির অভয়াশ্রমের মডেল।ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ বলেন, করোনা মহামারিতে শুধু মানুষ নয় পক্ষীকুলও খাবার সংকটে আছে। যারা পাখিদের খাবারের ব্যবস্থা করছেন তাদের আমরা সাধুবাদ জানাই। আমরা সবসময় তাদের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত আছি।