তাড়াইলের হাওড় ও বিলে পদ্মফুলের বাহারি রূপ

Staff Reporter Staff Reporter
প্রকাশিত: ০৮:২১ পিএম, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি:কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার কাইনহা হাওড় ও বিলের চিত্র দূর থেকে মনে হবে যেন ফুলের বিছানা পেতে রেখেছে কেউ। প্রতিদিনই এ সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসছে দর্শনার্থীরা।বর্ষাকালে এ বিলের অধিকাংশ জমিতেই প্রাকৃতিকভাবে পদ্মফুল (শাপলা) জন্মে। আর এ কারণে এখন এ বিলটি পদ্মবিল নামেই পরিচিত হয়ে উঠেছে। বর্ষা মৌসুমে এ বিলের চারিদিকে শুধু পদ্ম আর পদ্ম। বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে গোলাপি রংয়ের পদ্ম দেখলে মনও জুড়িয়ে যায়। সাথে রয়েছে সাদা পদ্ম। চোখ যত দূর যায় শুধু পদ্ম আর পদ্ম। তাড়াইলের কাইনহা বিলের চিত্র যেন এক চোখ ধাঁধানো রূপ।পাপড়ি মেলে প্রকৃতিপ্রেমীদের স্বাগত জানায় জলজ ফুলের রানী পদ্ম। এমন অপরূপ দৃশ্য যেন ভ্রমণপিপাসুদের হাতছানি দিচ্ছে।

 প্রতিদিন দর্শনার্থীরা নৌকায় ঘুরে  এর সৌন্দর্য উপভোগ করছেন। স্থানীয়রাও ভ্রমণ পিপাসুদের সার্বিক সহযোগিতা করছেন।শরতের ফুল ‘পদ্ম’ তার সৌন্দর্য ও শুভ্রতার প্রতীক নিয়ে হাজির হয় গ্রামবাংলার প্রকৃতিতে। এই সময়টাতে প্রকৃতিতে নিজের রূপ বৈচিত্র অকাতরে বিলিয়ে দিচ্ছে জলাভূমি ও বিলেঝিলে ফুটে থাকা এ জলজ ফুলের রাণী। পদ্ম ফুলের উপস্থিতিতে যেন প্রাণ ফিরেছে গ্রামের শিশুদের উচ্ছল মাখা শৈশব।বিভিন্ন জায়গায় পদ্মফুল চোখে পড়লেও কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার তাড়াইল-সাচাইল ইউনিয়নের দড়িজাহাঙ্গীপুরের ‘জয়বাংলা বাজার’ সংলগ্ন কাইনহা বিলে ফুটে থাকা পদ্মফুল এর দৃশ্য যেন অপরূপ সৌন্দর্যের এক বিশাল আয়োজন।

জলের উপর বিছানো সবুজ পাতা ভেদ করে হাসছে লাল-সাদা একেকটি পদ্ম। দেখলে মনে হয় লাল-সাদা পদ্ম যেন রঙের গালিচা বিছিয়ে দিয়েছে পুরো বিল জুড়ে।  উপজেলার দামিহা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. হুমায়ুন কবির ভূঁইয়া জানান,এক সময় এই বিলে পদ্ম ফুলের ঘর ছিল। প্রচুর পদ্মফুল ফুটতো। মাঝে তেমন চোখে পড়তো না। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পুরো বিল জুড়ে আবারও প্রচুর পদ্মফুল ফুটতে দেখা যাচ্ছে। কেবল পদ্মফুল-ই নয় ফুটছে মনোহর ‘সাদা শাপলা’ও।সপরিবারে বিলে ঘুরতে যাওয়া মুশুলী কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. ফখরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, এই বিলে পদ্ম ফুলের সৌরভ মানুষকে বিমোহিত করে। এখানে এলে বাতাসেও ছুঁয়ে যায় ফুলের ঘ্রাণ। নয়নাভিরাম এমন দৃশ্য অন্যরকম মনে প্রশান্তি এনে দেয়।

বাংলাদেশে সাধারণত বর্ষার শেষে এবং শরতের শুরুতে বিল-ঝিল, পুকুরে সন্ধ্যার ঠিক আগমুহূর্ত থেকে ফুটতে শুরু করে মনোমুগ্ধকর জলজ ফুলের রানী ‘পদ্ম’! সারারাত ধরেই একে একে পাল্লা দিয়ে সৌরভ ছড়িয়ে ফুটতে থাকে পদ্মফুল। পদ্মফুল সাধারণত বর্ষার শেষে এবং শরতের শুরুতে সন্ধ্যার ঠিক আগমুহূর্ত থেকে ফুটতে শুরু করে। সারারাত ধরেই একে একে পাল্লা দিয়ে সৌরভ ছড়িয়ে ফুটতে থাকে পদ্মফুল।পদ্মবিলে ঘুরতে আসা স্কুল শিক্ষার্থী ফাতেমা-তুজ-জহুরা নাভানা ও মুহাইমিনুল ইসলাম তা-সীন বলেন, স্কুল খোলা থাকায় এর আগে তেমন একটা ঘুরতে আসতে পারতাম না। এখন স্কুল বন্ধ। তাই, বিলে পদ্ম দেখতে এসেছি।

পদ্ম দেখে খুব ভাল লাগছে। তাড়াইল অনলাইন প্রেস ক্লাবের একদল সাংবাদিক টিমসহ ওই পদ্ম বিলের মনোরম দৃশ্য দেখার সময় অনলাইন প্রেস ক্লাবের সভাপতি সাদেকুর রহমান রতন ও সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন জানান, প্রতিদিনই অসংখ্য পর্যটক বিলে পদ্ম ফুলের সৌন্দয্য উপভোগ করতে আসছেন। কিন্তু- এখানে থাকার বা বসার কোন ব্যবস্থা নেই। সেই সাথে এখানে একটা মৌসুমী মিনি পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার দাবি জানাচ্ছি। এতে একদিকে যেমন পর্যটকদের সুবিধা হবে অন্য দিকে সরকারের রাজস্ব আয় হবে।তাড়াইল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রকৌশলী মো. আবু রিয়াদ জানান, বর্ষা মৌসুমে এ বিলে প্রাকৃতিক ভাবে জন্ম নেওয়া পদ্মফুল একদিকে শরৎকালে যেমন বিলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করছে তেমনি স্থানীয় কিছুসংখ্যক  লোকজনের কাজ না থাকায় পদ্মবিলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসা দর্শনার্থীদের নৌকায় বিলে ঘুরিয়ে আর্থিক লাভবান হচ্ছে।