যশোরে আমনের ক্ষেতে পোকার আক্রমণ, দিশাহারা কৃষক

Staff Reporter Staff Reporter
প্রকাশিত: ০৮:১১ পিএম, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০

যশোর প্রতিনিধি : যশোরে এবার পর্যপ্ত বৃষ্টি ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় যশোরের আট উপজেলায় এবার রেকর্ড পরিমাণ জমিতে আমনধান চাষ হয়েছে। সপ্তাহ পেরোলেই ধানের শীষ আসবে এসমন সময়ে রোগ ও পোকার আক্রমণের কারণে অনেকটাই দিশাহারা হয়ে পড়েছেন এই অঞ্চলের চাষি। ল্যাদা পোকা, চুঙ্গি পোকা, মাজরা পোকার সাথে সঙ্গে যোগ হয়েছে পাতা মোড়ানো পোকার। বেশিরভাগ চাষি জানান, নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সার, ওষুধ ও কীটনাশক প্রয়োগে করে বিপর্যয় কাটিয়ে উঠার চেষ্টা করছেন। কিন্তু ক্ষেত পরিদর্শনে কিংবা এ সমস্যা থেকে উত্তরণে কোনো কৃষি কর্মকর্তার সহায়তা পাচ্ছেন না তারা। এ অবস্থায় কৃষি কর্মকর্তার দাবি, তারা সবকিছু পর্যবেক্ষণ করছেন এবং পোকার আক্রমণে তেমন ক্ষতির আশঙ্কা নেই। মাঠ পর্যায়ে কৃষি বিভাগের লোকজনের গাফিলতি পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর তথ্যমতে, পর্যপ্ত বৃষ্টি ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় যশোরের আট উপজেলায় এবার রেকর্ড পরিমাণ জমিতে আমনধান চাষ হয়েছে। যশোরে আট উপজেলায় চলতি মৌসুমে এবার আমন ধানের চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ৩৯ হাজার ২৫ হেক্টর জমিতে। যা গত বছর লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১ লাখ ৩৪ হাজার ৯৭৫ হেক্টর। পুরো মৌসুম আবহাওয়া ভালো থাকলে ফলনেও রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে আশাবাদী কৃষিবিভাগ। চলতি আমন মৌসুমে যশোরের সদর উপজেলায় ২৫ হাজার ৮৩০ হেক্টর, শার্শা উপজেলায় ২১ হাজার ৪৭০ হেক্টর, ঝিকরগাছা উপজেলায় ১৮ হাজার ১শ’ হেক্টর, চৌগাছা উপজেলায় ১৭ হাজার ৫০ হেক্টর, অভয়নগর উপজেলায় ৭ হাজার ৬৩০ হেক্টর, বাঘারপাড়া উপজেলায় ১৭ হাজার ১৪০ হেক্টর, মণিরামপুর উপজেলায় ২২ হাজার ৫৩০ হেক্টর,  কেশবপুর উপজেলায় ৯ হাজার ২ শ’৭৫ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষ হয়েছে।  

যশোরের বিভিন্ন কৃষকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, চলতি মাসেই আমনের বিস্তীর্ণ ধানের ক্ষেতে দেখা দিয়েছে ল্যাদা পোকা, মাজরা পোকা, খোলপচা, চুঙ্গি পোকা ও পাতা মোড়ানো পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। বাজারের কীটনাশক দিয়েও এসব পোকার আক্রমণ ও রোগ ঠেকাতে পারছেন না কৃষক। অনেক এলাকায় বের হওয়া নতুন শীষও কালো হয়ে যাচ্ছে। এমন অবস্থা দীর্ঘদিন বিরাজ করলে এ জেলায় ধানের ফলন লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেকেরও কম হওয়ার আশঙ্কা করছেন অনেক চাষি।

মণিরামপুর উপজেলার সরসকাঠি গ্রামের কৃষক আলতাপ হোসেন জানান, এখন ভাদ্র মাসের প্রায় শেষ। কয়েকদিনের মধ্যে ধানে শীষ দেখা দেবে। কিন্তু কোনো কিছুতেই মাজরা পোকার আক্রমণ থেকে ক্ষেত রক্ষা করতে পারছি না। বিভিন্ন কোম্পানির কীটনাশক তিন-চার বার স্প্রে করেও কাজ হচ্ছে না। এ বছর বর্ষার পরিমাণ বেশি হওয়ায় মাঠজুড়ে ধানের চেহারা ভালো ছিল। কিন্তু হঠাৎ মাজরা পোকা ও চুঙ্গি পোকার আক্রমণে হতাশ হয়ে পড়েছেন তিনি।  একই এলাকার কৃষক ইসলাম জানান, মাজরা পোকা, আর খোলপচা রোগে প্রায় ৩ বিঘা জমি নষ্টের পথে। ধান হবে কি-না এ নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের সাহায্য চেয়েও তাদের দেখা মেলছে না। ধান চাষের অভিজ্ঞতা থেকেই বাজার থেকে কীটনাশক এনে ক্ষেতে স্প্রে করছি। পর পর ৪ বার বিষ দেয়া হয়েছে। তবুও আমনের ক্ষেত সবুজ রঙে আনতে পারছি না। কি করব ভেবে পাচ্ছি না। তাই আবারো স্প্রে করছি।

এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক বাদল চন্দ্র বিশ্বাসের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমনধানে ক্ষতি হওয়ার মতো তেমন পোকার আক্রমণ বিস্তার ঘটেনি। এতে কৃষকদের উদ্বিগ্ন হবার কিছু নেই। যা আক্রমণ হয়েছে উপযুক্তভাবে পরিচর্যা করলে, সুষম সার প্রয়োগ করলে এসব  পোকা দমন করা যায়। তাছাড়া আমন ক্ষেতে ডাল পুঁতে পাখি বসার ব্যবস্থা ও রাতে আলোর ফাঁদ ব্যবস্থা করে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে পোকা দমন করার পরামর্শ দিচ্ছে কৃষি বিভাগ। সমগ্রজেলা জুড়ে এখনো আমন ক্ষেতে স্বাভাবিক অবস্থা বিরাজ করছে বলে দাবি এই কৃষি কর্মকর্তার।