গুরুদাসপুরে ১৪ মাসে ১১৪টি বাল্যবিয়ে বন্ধ করেছেন ইউএনও তমাল হোসেন

Staff Reporter Staff Reporter
প্রকাশিত: ০৯:৩৭ পিএম, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২০

গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি : বাল্যবিয়ে ও ইভটিজিং প্রতিরোধে নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তমাল হোসেন শুরু থেকেই নিয়েছিলেন অনন্য উদ্যোগ। গুরুদাসপুর উপজেলা মহিলা বিষয়ক কার্যালয়ের এক তথ্যে জানা গেছে, ইউএনও’র কর্মদক্ষতায় গত ১৪ মাসে এ উপজেলায় ১১৪টি বাল্যবিয়ে বন্ধ হয়েছে। যোগদানের পর থেকেই গুরুদাসপুর উপজেলাকে বাল্যবিয়ে, ইভটিজিং, মাদক, সন্ত্রাসমুক্ত একটি পরিচ্ছন্ন উপজেলা হিসাবে গড়ার প্রত্যয়ে এগিয়ে চলেছেন। যোগদানের পর থেকেই তিনি থেমে থাকেননি কখনও। করোনা মহামারির সময়ে জনসাধারণের কাঙ্খিত সেবা নিশ্চিত করতে সপরিবারে করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি। করোনা মুক্ত হয়েই ফিরেছেন নিজের কর্মস্থলে। বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষা পাওয়া ১১৪টি মেয়েই এখন নিয়মিত স্কুল-কলেজে যাওয়া শুরু করেছে। পাল্টে গেছে তাদেরও জীবন।
এই কর্মকর্তা গুরুদাসপুর উপজেলায় ২০১৯ সালের ১১ জুন যোগদান করেন। যোগদানের এক সপ্তাহ পরেই উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন এবং পৌরসভায় বাল্যবিয়ে এবং ইভটিজিং বিষয়ে জনগণকে সচেতন করার লক্ষ্যে করেছেন মাইকিং, দিয়েছেন উপজেলার জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিলবোর্ড এবং বিলি করা হয়েছে লিফলেট। এছাড়াও ফেসবুক পেইজে বাল্যবিয়ে ও ফেসবুক গ্রুপ খোলা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের নিয়ে করেছেন সচেতনতামূলক সমাবেশ। শুধু তাই নয় প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বাল্যবিয়ে ও ইভটিজিং প্রতিরোধ সভার পাশাপাশি করেছেন পিঠা উৎসব। শুধু তাই নয় কখনও বর যাত্রী, কখনও কনে যাত্রী, কখনও আবার শিক্ষার্থী এবং কখনও সাধারণ মানুষ সেজে গোপন সংবাদেরভিত্তিতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে গত ১৪ মাসে ১১৪টি বাল্য বিয়ে বন্ধ করেছেন তিনি।
বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষা পাওয়া সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী আকলিমা, নবম শ্রেণির ছাত্রী সুরাইয়াসহ বেশ কয়েকজন বলেন, নতুন করে তারা আবার স্কুলে যেতে পারছে। তাদের স্বপ্ন একদিন বড় হয়ে দেশ ও দেশের কল্যাণে কাজ করবে। বিয়ে হলে এ স্বপ্ন আর পূরণ হতো না। ইউএনও তমাল হোসেনের প্রতি তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। শিক্ষার্থীরা এটাও জানান, তাদের স্কুলের গেটে স্থাপন করা হয়েছে বাল্যবিয়ে ও ইভটিজিং প্রতিরোধ করণীয় বিলবোর্ড।
উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মোছা. নিলুফা ইয়াসমীন বলেন, ইউএনও তমাল হোসেনের সঙ্গে বাল্যবিয়ে ও ইভটিজিং প্রতিরোধে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। বাল্যবিয়ের খবর পাওয়া মাত্রই তৎক্ষণাৎ বন্ধ করা হয়েছে। নেওয়া হয়েছে জরিমানা ও মুচলেকা।উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. তমাল হোসেন জানান, যোগদানের পর থেকেই গুরুদাসপুর উপজেলাকে বাল্যবিয়ে, ইভটিজিং, মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত, পরিচ্ছন্ন উপজেলা বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। বাল্যবিয়ে ও ইভটিজিং প্রতিরোধে নিয়েছেন বিভিন্ন উদ্যোগ। উপজেলার জনগুরুত্বপূর্ণ স্থান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ প্রায় সকল জায়গায় বাল্যবিয়ে এবং ইভটিজিং প্রতিরোধ বিষয়ক বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, মেয়েরা যেন তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নির্বিঘেœ যেতে পারে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিরাপদে থাকে সেই বিষয়টি সর্বাধিক গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, সামাজিক অন্যায়-অসংলগ্নতা দূরীকরণে জন সচেতনতা সৃষ্টির জন্য এ রকম কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের পাশাপাশি আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস অšে¦ষণ, স্মৃতি সংরক্ষণে তার নেয়া উদ্যোগগুলোও ব্যাপক প্রসংশিত হয়েছে।