নেই বাড়িওয়ালা লন্ডনীপাড়ায় আছে বিলাসবহুল বাড়ি

Staff Reporter Staff Reporter
প্রকাশিত: ০৫:১৬ পিএম, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২০

সিলেট প্রতিনিধি : সিলেটে বিলাস বহুল বাড়ি পড়ে আছে। বাড়ির ভিতরে আসবাবপত্রও বেশ দামি দামি। এক একটি বাড়ি নির্মাণে ব্যয় করা হয়েছে কয়েক কোটি টাকা। কিন্তু সব কিছুই পড়ে আছে অযতœ আর অবহেলায়। বাড়ি থাকলেও সেখানে নেই বাড়িওয়ালা কিংবা তাদের লোকজন। এই হচ্ছে লন্ডনীপাড়া খ্যাত হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার ইনাতগঞ্জ ও কুর্শি ইউনিয়ের নয়মৌজা। নয়মৌজা ঘুরে এসে স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলে জানা গেলো এই অবস্থা। লন্ডনীপাড়ায় প্রবাসীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা হয়। তবে এই প্রতিযোগিতাটি সম্পূর্ণ ভিন্নরকম। কোনো এক প্রবাসী বাড়ি নির্মাণে ১ কোটি টাকা ব্যয় করলে অপর প্রবাসী তিনগুণ বেশি খরচ করে বাড়ি নির্মাণ করেন। বাড়ি নিয়ে প্রতিযোগিতার এই বিষয়টি হাস্যকর মনে হলেও এই অবস্থার প্রমাণ মিলেছে শ’য়ে শ’য়ে।

স্থানীয়রা জানান, ৯টি গ্রামের নাম কে কেন্দ্র করে নয়মৌজার নামকরণ করা হয়। গ্রামগুলো লডুবা, বোরহানপুর, সাবাজপুর, রাইয়াপুর, তাহিরপুর, কল্যানপুর, মানিক পুর, কাদমা, পরিজনকাদিরপুর সাদুল্লাপুর ওই গ্রামগুলো নিয়ে প্রচলিত নয়মৌজা। এদের অধিকাংশই প্রবাসী অধ্যুষিত। নয়মৌজার প্রত্যক গ্রামের লোকজন রয়েছেন লন্ডন, আমেরিকাসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে। মধ্যপ্রাচ্যে রয়েছে ওই এলাকার লোকদের অবস্থান। দেশে ও বিদেশে রয়েছে বিলাসবহুল বাড়ি। জন্মস্থানে বিশালবহুল বাড়ি তৈরি করলে সেখানে থাকার কোন মানুষ নেই। কারো বাড়িতে থাকে পোঁকা মাকড় আবার বাড়ি দেখাশুনা করার জন্য রেখেছেন কেয়ারটেকার।

কেয়ারটেকার থাকা খাওয়া ব্যবস্থা করে দিতে হয় তাদের। অনেক প্রবাসী, সখ করে বাগান বাড়ি, রাজবাড়ী, কাজি বাড়ী, হাওয়া ভবন, পুকুরবাড়ী, ছায়ানীড়, স্বপ্ন হাউজ, নীল ছায়া, এসব নামকরণ করে বিশাল বহুল অট্রালিকা তৈরি করে রেখেছেন।প্রবাসীরা দেশে আসলে কয়েকদিন থাকেন আবার চলে গেলে তালাবদ্ধ কিংবা কেয়ারটেকার নিয়োগ করে চলে যান। বাড়িগুলো দেখত অনেক সুন্দর ও দর্শনার্থীদের আর্কষণ করতে বাড়ির চারপাশে লাগানো রয়েছে নানা ধরনের রঙ্গিন বাতিসহ সৌন্দর্য্য বাড়াতে বিভিন্ন রকমের বাড়তি কাজ করেছেন তারা। প্রবাসীরা ওই স্থানে প্রতিযোগিতা করে বাড়ি তৈরি করেন বলে জানা গেছে। এই বাড়িগুলো তৈরি করতে ব্যয় হয়েছে কোটি কোটি টাকা। সর্বনি¤œ ব্যয়ের মধ্যে রয়েছে ৫ কোটি টাকা। এমন তথ্যই জানিয়েছেন ওই এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা।

বোরহানপুর গ্রামের শিল্পপতি মেহবুব নুরুল ইসলাম ২০০০ সনে প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি অট্রালিকা বাড়ি নির্মাণ করলে ও সেখানে থাকার কেউ নেই। মাঝে মধ্যে পরিবার পরিজন নিয়ে দেশে আসলে কিছুদিন বসবাসকরে আবার লন্ডনে চলে যান। তবে এই বাড়ির দেখা শুনার জন্য লোক থাকলে ও অবহেলা অযতেœ বাড়িতে থাকা দামি দামি অসবাপত্র ও মূল্যবান জিনিষ নষ্ট হচ্ছে। এছাড়া ও কণ্যাণপুরে রয়েছে হাজি বাড়ি নামে আরেকটি দর্শনীয় বাগান বাড়ি।