শাজাহানপুরে জামাদারপুকুরে শখ থেকেই গড়ে উঠেছে কোটি টাকার গরুর খামার

Staff Reporter Staff Reporter
প্রকাশিত: ১১:৪১ এএম, ০৩ জুলাই ২০২০

শাজাহানপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি : বগুড়ার শাজাহানপুরের জামাদারপুকুর এলাকায় শখ থেকেই গড়ে উঠেছে কোটি টাকার গরুর খামার। সুস্থ সবল ষাঁড় গরুগুলো দেখতে বিভিন্ন এলাকার উৎসুক মানুষ প্রতিনিয়ত ভিড় করছেন খামারে। আসন্ন কোরবানীকে সামনে রেখে এই খামারে প্রস্তুত করা হয়েছে চোখ জুড়ানো ৩৭টি নাদুস-নুদুস ষাঁড় গরু। প্রতিটি ষাড় গরুর আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ৭০ হাজার থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। মোটাতাজাকরণের লক্ষ্যে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে সখ করেই ১৪টি ষাঁড় গরু কিনেন শাজাহানপুর উপজেলার গোহাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলী আতোয়ার তালুকদার ফজু। খামারের নাম দেন ‘আজলান এগ্রো’। যথাযথ পরিচর্যায় ৬ মাসেই খামারের পশুগুলো সুস্থ সবলভাবে বেড়ে উঠে। সুন্দর সুন্দর ষাড় গরুর কথা লোকমুখে ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে।

 গতবছর বগুড়া শহর ও আশপাশ উপজেলার সামর্থবান লোকজন খামার থেকেই কোরবানীর জন্য পশু কিনেন। পশু ক্রয়, লালন-পালন ও কর্মচারীর বেতন বাদে ১৪টি গরু বেঁচে লাভ হয় ৫ লক্ষাধিক টাকা। মাত্র ৬-৭ মাস সময়ে ৫ লাখ টাকা লাভ হওয়ায় গরু মোটা তাজাকরণের প্রতি আগ্রহ বেড়ে যায়। পরের বছর বেশি সংখ্যক ষাড় গরু লালন-পালনের সিদ্ধান্ত নেন চেয়ারম্যান আলী আতোয়ার তালুকদার ফজু। সে মোতাবেক ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে দেশি, নেপালী, শাহীওয়াল, ফ্রিজিয়ান জাতের ৩৭টি ষাঁড় গরু কিনেন। এগুলোর পরিচর্যায় নিয়োগ দেন ৪ জন কর্মচারী। গবাদিপশু লালন-পালন বিষয়ে কর্মচারিদের নূন্যতম দক্ষতার বিষয়টিও নিশ্চিত করেন। উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের লোকজন দিয়ে মাঝে মাঝে খামার পরিদর্শনের ব্যবস্থা করেন। প্রতি মাসে গরুর স্বাস্থ্য ও ওজন পরীক্ষা করেন। সবমিলিয়ে উপযুক্ত পরিচর্যায় এবারও প্রস্তুত হয়েছে সুস্থ্য সবল কোরবানীর পশু। নাদুস-নুদুস চেহারার প্রতিটি ষাঁড় গরুর ওজন দাঁড়িয়েছে ৪শ’ ৩০ থেকে ৭শ’ ৫০ কেজি পর্যন্ত। এসব গরুর আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ৭০ হাজার থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। সে হিসেবে খামারের সবগুলো গরুর মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ১ কোটি টাকা।

শুধু ষাঁড় নয় পরবর্তীতে গাভী পালনের পরিকল্পনাও রয়েছে জানিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান আলী আতোয়ার তালুকদার ফজু বলেন, কোরবানীর জন্য গত বছর যারা তার খামারের ষাঁড় গরু কিনেছিলেন তারা ইতোমধ্যেই যোগাযোগ করা শুরু করেছেন। এছাড়া নতুন নতুন গ্রহকও খোঁজ খবর নিচ্ছেন। তার প্রত্যাশা গত বছরের চেয়ে এবছর অনেক বেশি লাভ হবে। তিনি আরও বলেন, খামার ছাড়াও অনেকেই নিজ বাড়িতে ২-৪টি গরু মোটাতাজা করে লাভবান হন। দক্ষতার অভাবে কেউ কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হন। তাই গবাদি পশু লালন পালনকারীদের সরকারিভাবে প্রশিক্ষণ দেয়া প্রয়োজন। প্রাণিসম্পদ বিভাগের লোকজন বাড়ি বাড়ি গিয়ে গবাদি পশু পালনে প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করলে মানুষ লাভবান হবে। ইউপি চেয়ারম্যান আলী আতোয়ার তালুকদার ফজু’র গবাদি পশুর খামারটি লাভজন হয়ে উঠেছে উল্লেখ করে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা: নার্গিস খানম জানিয়েছেন, দক্ষতা বৃদ্ধিতে খামার মালিক-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। পর্যয়ক্রমে সবাই প্রশিক্ষণের আওতায় আসবে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে খামারীদের পরামর্শ দিতে উপজেলার ৯ ইউনিয়নে ৭ জন লাইভস্টক সার্ভিস প্রোভাইডার রয়েছেন। এছাড়া স্বেচ্ছাসেবী এ.আই টেকনিশিয়ানগণও নিজ নিজ এলাকায় খামারীদের দেখভাল করছেন।