সোনাতলায় বন্যার পানিতে ক্ষেতের আউশ ধান ও পাট নিমজ্জিত

Staff Reporter Staff Reporter
প্রকাশিত: ০৯:২১ পিএম, ২৭ জুন ২০২০

সোনাতলা (বগুড়া) প্রতিনিধি ঃ বগুড়ার সোনাতলায় বন্যার পানিতে শতশত হেক্টর জমির পাট ও আউশ ধানের ফসল নিমজ্জিত  হয়েছে। এছাড়াও চরাঞ্চলের বাড়িঘরের আঙিনায় পানি উঠেছে। চলতি বছরের বন্যার শুরুতেই বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার তেকানীচুকাইনগর ও পাকুল্লা ইউনিয়নের ৯টি চরাঞ্চলের শতশত হেক্টর জমির পাট ও আউশ ধান বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক দিনের অবিরাম ভারি বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়া যমুনা ও বাঙালি নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে চরাঞ্চল সহ নিম্নাঞ্চলের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর বগুড়ার সোনাতলা উপজেলায় ১৭২০ হেক্টর জমিতে পাট ও ৩ হাজার ৫শ’ হেক্টর জমিতে আউশ ধান রোপণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই বন্যার পানিতে ৪৫০ হেক্টর পাট ও ১২শ হেক্টর আউশ ধান নিমজ্জিত হয়েছে। তবে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সৃষ্ট বন্যায় চরাঞ্চলের সবজি, বাদাম ও ভুট্টা সহ ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশংকা করছেন চাষিরা। আবার অনেক মৎস্য খামারের মাছ পানিতে ভেসে গেছে। পাট ও আউশ ধানের ফসলের ক্ষেত বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হয়ে ফসলহানীর শংকায় চিন্তিত কৃষকরা। প্রতিনিয়ত এভাবে পানি বাড়তে থাকলে প্রায় ২০ হাজার মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়ার আশংকা রয়েছে। নদী উপকূলীয় মানুষগুলো শিশু, বৃদ্ধ ও গবাদি পশুপাখি নিয়ে বিপাকে পড়েছে।
এ বিষয়ে পাকুল্লা ইউপি চেয়ারম্যান জুলফিকার রহমান শান্ত জানান, বর্তমান করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে মানুষ যখন কর্মহীন হয়ে ঘরবন্দি হয়ে পড়েছে। ঠিক সেই মুহূর্তে সৃষ্ট বন্যার পানি মানুষের ঘর ঘিরে ফেলেছে। এ বিষয়ে তেকানীচুকাইনগর ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ শামছুল হক জানান, তার ইউনিয়নের ৯টি চরের শতশত হেক্টর জমির আউশ ধান ও পাটের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। একদিকে মানুষ কর্মহীন। অন্যদিকে অর্থকরী ফসল নষ্ট হওয়ার আশংকায় চরাঞ্চলের মানুষ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে।এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ জিয়াউর রহমান জানান, এখন পর্যন্ত বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সংখ্যা তাদের হাতে আসেনি। এমনকি বন্যার্তদের জন্য ত্রাণ সহায়তাও পাওয়া যায়নি।