বাবুর ভালবাসায় বেঁচে আছে পাখিরা

প্রকাশিত: নভেম্বর ২৫, ২০২২, ০৮:২৭ রাত
আপডেট: নভেম্বর ২৫, ২০২২, ০৮:৩২ রাত
আমাদেরকে ফলো করুন

হাফিজা বিনা: ‘জীবে দয়া করে যে জন
                  সেই জন সেবিছে ঈশ্বর’
নিজের সামান্য আয়ের একটা অংশ দিয়ে অন্যের আহার জোটানোর মত মহৎ কাজ অনেকেই করতে পারেনা। তবে এখনও অনেক ভাল মানুষ আছেন যারা অন্যের দুঃখ-কষ্ট দেখতে পারেন না। এমনই একজন মানুষ মোঃ বাবু প্রামাণিক। বগুড়া শহরের মালগ্রাম এলাকায় বসবাস করলেও সারাদিন তার কাটে বগুড়ার সাতমাথার সপ্তপদী মার্কেটের দক্ষিণ পাশে। করেন ফল-মূলের ব্যবসা। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বাবু  কারও কষ্ট দেখতে পারেন না। আর তাইতো তিনি প্রতিদিন তার আয়ের একটা অংশ খরচ করেন পাখির জন্য। সকালবেলা যখন তিনি দোকান খুলে বসেন তখন অসংখ্য পাখির কিচিরমিচিরে মুখরিত হয়ে উঠে তার আশপাশ।

দেখেই বুঝতে পারেন ওদের ক্ষিদে পেয়েছে। দিনের প্রথম আয়টা রেখে কিনে আনেন চানাচুর।  ডাকেন ‘আয় আয়’ বলে। তার ডাকটাও ওরা চিনে ফেলেছে। ছুটে আসেন ঝাঁকে ঝাঁকে। ওদের খাবার খাওয়া দেখেন তিনি পরম মমতায়। 
পাখির প্রতি ভালোবাসার প্রকাশের ধরণটা এক এক জনের ক্ষেত্রে এক এক রকম। কেউ হয়তো বাসার খাঁচায় পাখি পুষতে ভালোবাসেন, আবার কেউ খাঁচার পাখিকে মুক্ত করে দিয়ে আনন্দ পান। অনেকে আবার পাখিকে পরম মমতায় খাবার দিতে ও তাদের আগলে রাখতে ভালবাসেন।

পাখির প্রতি প্রেম বাবু প্রামানিকের ছোটবেলা থেকেই। তখন থেকেই তিনি পশু-পাখির প্রতি দরদী ছিলেন। প্রতিদিন দোকান খোলার পর পাখির কিচিরমিচিরে মুখরিত হয়ে উঠে তার আশপাশ। নিয়ম করে প্রতিদিন বেলা ১০ থেকে ১১টার মধ্যে পাখিগুলোকে খাবার খেতে দেন। খাবারের আশায় প্রতিদিন অসংখ্য পাখির আনাগোনা দেখা যায়। তিনি প্রতিদিন ভালোবাসা নিয়ে পাখিগুলোকে খাবার খাওয়ান। আর পাখিদের এমন দৃশ্যে মুগ্ধ হন পথচারীসহ আশেপাশের মানুষ। অনেকে ছবি তোলেন, কেউবা ভিডিও করেন, আবার কেউ কেউ সেলফিও তোলেন।

পাখিপ্রেমিক বাবু জানান, আগে থেকেই তিনি পশু পাখিদের খাওয়াতেন। কিন্তু গত বছর হঠাৎ করে একদিন দেখলেন অনেকগুলো শালিক পাখি মাটিতে নেমে এসে খাবার খুঁজে বেড়াচ্ছে। মানুষ দেখলেও  তারা ভয় পাচ্ছে না। তখন তিনি ভাবলেন ওদের  হয়তো ক্ষুধা পেয়েছে। এ সময় তিনি পাখিগুলোকে চানাচুর খেতে দেন। পরদিনই খেয়াল করে দেখেন একই সময় আরও অনেকগুলো শালিক পাখি এসে জড়ো হয়েছে খাবারের আশায়। সেই থেকেই পাখিদের খাবার খাওয়ানো শুরু হয়। প্রতিদিন ৬ থেবে ৭শ’ টাকার আয়ে নিজের ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়াসহ সংসারের খরচ যোগান তিনি।

একই সাথে গত ২ বছর হালো প্রতিদিন ৭০ থেকে ৮০ টাকা খরচ করে পাখিদের খাবার খাওয়ান। তিনি আরও বলেন, পাখিগুলো আশ-পাশসহ দূর থেকেও উড়ে এসে এখানে খাবার খায়। তাদের খাবারের পেছনে আমার মাসে প্রায় ৩  হাজার টাকা ব্যয় হয়। তারা ডাকলে যখন কাছে আসে তখন খুব ভাল লাগে। বাবু মাঝে মাঝে না থাকলে তখন তার দোকানের থাকা কর্মচারী রকি নামের এক কিশোর পাখিগুলোকে খাবার দেয়।

পাখিকে খাবার দেয়ার ব্যাপারে বাবু বলেন, এখানে চাওয়া আর পাওয়ার কিছু নেই। তাদেরকে খাইয়ে মনে যে তৃপ্তি পান, তা আর অন্য কিছুতে নাই। ভবিষ্যতে এই ব্যবস্থা চালিয়ে যাওয়ার আশা তার। তার সাথে ফলপট্টির সব দোকানের মালিক কর্মচারীরা তাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেন বলে তিনি জানান।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়