৮ বছরেও হয়নি শ্রমিক দলের কাউন্সিল

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২২, ০৩:২১ দুপুর
আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২২, ০৩:২১ দুপুর
আমাদেরকে ফলো করুন

# পদপ্রত্যাশীরা হতাশ-ক্ষুব্ধ

রাজকুমার নন্দী : বিএনপির সহযোগী সংগঠন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের বর্তমান কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ। দুই বছর মেয়াদী এই কমিটি চলছে প্রায় ৮ বছর ধরে। দীর্ঘ এই সময়ে একাধিকবার উদ্যোগ নিলেও করোনাসহ নানাবিধ কারণে কাউন্সিল করতে পারেনি সংগঠনটি। সর্বশেষ ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর-নভেম্বরে কাউন্সিলের নির্দেশ দিয়েছিল বিএনপির হাইকমান্ড, সেই নির্দেশও উপেক্ষিত। এদিকে দীর্ঘদিনেও কাউন্সিল না হওয়ায় সংগঠনের শীর্ষ পদপ্রত্যাশী ও তৃণমূলের নেতাকর্মীরা হতাশ ও ক্ষুব্ধ। তাদের আশা, সংগঠনকে গতিশীল করতে দ্রুততম সময়ে শ্রমিক দলের কাউন্সিল অনুষ্ঠানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে হাইকমান্ড।

শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিম প্রায় চার বছর ধরে অসুস্থ এবং নিষ্ক্রিয়। সভাপতি আনোয়ার হোসাইনও অনেকটা বয়োজ্যেষ্ঠ। ফলে শ্রমিক দলে এখন নেতৃত্বের সঙ্কট। শ্রমিকদের বিভিন্ন দাবি আদায় আর উৎপাদন বৃদ্ধি ও আত্মনির্ভরশীল হিসেবে দাঁড় করানোর লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত শ্রমিক দল এখন অভ্যন্তরীণ কোন্দল আর গ্রুপিংয়ে বিপর্যস্ত। বিগত দিনে বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালনে ব্যর্থ শ্রমিক দল শুধু দিবসভিত্তিক কর্মসূচি পালনেই সীমাবদ্ধ থেকেছে। এমনকি শ্রমিকদের দাবি আদায়েও তেমন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। তবে মাঝে-মধ্যে শ্রমিকদের সঙ্কটে ছুটে যান সভাপতি আনোয়ার হোসাইন। এদিকে বিএনপির আন্দোলনের মাঠে এবং শ্রমিকদের দাবি আদায়ে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা না থাকায় শ্রমিক দলের কর্মকান্ডে বিএনপির হাইকমান্ডও নাখোশ। 

জানা যায়, ২০১৪ সালের ১৯ ও ২০ এপ্রিল শ্রমিক দলের জাতীয় কাউন্সিল হয়। সম্মেলনে প্রায় ৮০ ভাগের বেশি কাউন্সিলর নির্বাচনের মাধ্যমে কমিটি গঠনের দাবি জানালে গোলোযোগ সৃষ্টি হয়। ফলে সেখানে কমিটি গঠন করা সম্ভব হয়নি। পনের দিন পর ৫ মে আনোয়ার হোসাইনকে সভাপতি এবং নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে সাধারণ সম্পাদক করে ৩৪ সদস্যবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়। তবে ওই কমিটি সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী হয়নি অভিযোগ তুলে শ্রমিক দলের বিরাট একটি অংশ বিদ্রোহ করে। তারা ওই বছরের ৭ জুন এএম নাজিম উদ্দিনকে সভাপতি এবং আবুল খায়ের খাজাকে সাধারণ সম্পাদক করে ৩১ সদস্যবিশিষ্ট পাল্টা কমিটি ঘোষণা দেয়। পরে নাজিম উদ্দিন কমিটিতে না থাকায় আবুল হোসেনকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর শ্রমিক দলের দুইটি কমিটিই বৈধভাবে গঠিত হয়নি উল্লেখ করে শ্রম আদালতে চিঠি দেওয়া হয়।

এদিকে গত মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শ্রমিক দলের নতুন আহ্বায়ক (আংশিক) কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি গঠন নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মহানগরের নতুন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে মহানগর শ্রমিক দলের বিদায়ী সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সাথে কোনো ধরনের আলোচনা করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। তৃণমূলের নেতারা জানান, মহানগর কমিটির আগে শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠন করা বেশি জরুরি ছিল। কারণ, দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয় কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ ও শীর্ষ নেতারা নিষ্ক্রিয়। এছাড়া হঠাৎ করেই মহানগর কমিটিতে যাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তাদের যোগ্যতা ও সাংগঠনিক দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। দলের কেন্দ্রীয় এক নেতা বলেন, বিদায়ী কমিটির সাথে আলোচনা করে কমিটি নিলে ভালো হতো। নেতৃত্ব বদল হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু যোগ্য লোককে বাদ দিয়ে নতুন কাউকে পদে বসিয়ে দিলেই হয় না। এমন হলে আন্দোলন-সংগ্রামে তাদেরকে পাওয়া যাবে না।

জানা গেছে, শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির শীর্ষপদে আলোচনায় আছেন বর্তমান সভাপতি আনোয়ার হোসাইন, কার্যকরী সভাপতি সালাহউদ্দিন সরকার (বর্তমানে গাজীপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক), দলের সহ-শ্রমবিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান, ফিরোজ উজ-জামান মামুন মোল্লা, শ্রমিক দলের সিনিয়র যুগ্ম-সম্পাদক মোস্তাফিজুল করিম মজুমদার, সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক আবুল খায়ের খাজা, শ্রমিক দলের উপদেষ্টা ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদ্য সাবেক সভাপতি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা কাজী মো. আমীর খসরু, শ্রমিক দলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জু প্রমুখ। 

শ্রমিক দলে শীর্ষ পদপ্রত্যাশী নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম নেতা কাজী আমীর খসরু দৈনিক করতোয়াকে বলেন, যত দ্রুত সম্ভব শ্রমিক দলের জাতীয় কাউন্সিল হওয়া উচিত। আমি ৮ বছর ধরে ঢাকা মহানগর দক্ষিণে শ্রমিক দলকে সংগঠিত করেছি। কারাবন্দি ও নির্যাতিত নেতাকর্মীদের সাধ্যমতো খোঁজখবর নিয়েছি। দল যখন যেখানে দায়িত্ব দিবে আমি কাজ করতে প্রস্তুত। 

তিনি জানান, শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় কমিটি সভা শেষে রেজুলেশনের মাধ্যমে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মহোদয়কে কমিটি গঠনের বিষয়ে সার্বিক দায়িত্ব প্রদান করেছে। চেয়ারম্যান মহোদয় এখন যাকে খুশি তাকে দিয়ে কমিটি গঠন করতে পারেন- এই ক্ষমতা তার রয়েছে। 

শ্রমিক দলে আরেক শীর্ষ পদপ্রত্যাশী হুমায়ুন কবির খান বর্তমানে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক। তিনি দৈনিক করতোয়াকে বলেন, আমি আজীবন দলের কর্মী হিসেবেই থাকতে চাই। দল আমার কর্মকান্ড মূল্যায়ন করে যখন যেখানে দায়িত্ব দিবে সেটা মেনেই কাজ করব। 

তিনি বলেন, সত্যিকারার্থে শ্রমিক দলকে এগিয়ে নিতে সংগঠনের একটি শক্তিশালী কেন্দ্রীয় কমিটি হওয়া দরকার। যেই কমিটি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও দেশনায়ক তারেক রহমানের দেশে ফেরা এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখবে। 

শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইন বলেন, আমাদের বর্তমান কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ। একাধিকবার উদ্যোগ নিয়েও নানাবিধ কারণে কাউন্সিল করতে পারিনি। যেকোনো সময় সম্মেলন করতে চাই।
 

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়