শেরপুরে সৌখিন পাখির বাণিজ্যিক খামার শখ থেকে স্বপ্ন পুরণ হুমায়ুন কবিরের

প্রকাশিত: জানুয়ারী ২৬, ২০২২, ০৮:৫৫ রাত
আপডেট: জানুয়ারী ২৬, ২০২২, ০৮:৫৫ রাত
আমাদেরকে ফলো করুন

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি: ছোটবেলা থেকেই পাখি পালনে শখ ছিল হুমায়ুন কবিরের। সেই শখ থেকেই লেখাপড়ার পাশাপাশি শুরু করেন পাখি পালন। এমনকি শিক্ষাজীবন শেষ হলেও চাকরির পিছে না ঘুরে পাখির খামার গড়ার পরিকল্পনা করেন। সে অনুযায়ি শিক্ষক বাবার কাছ থেকে পাঁচ হাজার টাকা নিয়ে বাড়িতেই খামার বানিয়ে দুই জোড়া বাজরিগার ও কিছু ফিঞ্চ পাখি কেনেন। এরপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি হুমায়ুন কবিরকে। ধীরে ধীরে পাখির খামারটি বাণিজ্যিক খামারে পরিণত হয়। বর্তমানে তার খামারে সহস্রাধিক বিভিন্ন প্রজাতির পাখি রয়েছে। শখের এই খামার থেকেই সব খরচ বাদে প্রতি মাসে আয় করছেন পঞ্চাশ থেকে ষাট হাজার টাকা। তার খামার দেখে এবং পরামর্শ নিয়ে অনেকেই পাখির বাণিজ্যিক খামার গড়ছেন।
বগুড়ার শেরপুর উপজেলার শাহবন্দেগী ইউনিয়নের সাধুবাড়ী গ্রামের শিক্ষক আব্দুল কাদের মজনুর ছেলে হুমায়ুন কবির পাখির সফল খামারি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তিনি এখন এই উপজেলার শিক্ষিত বেকার নারী-পুরুষের কাছে মডেল। বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তি পেতে তার মতো অন্তত দেড় শতাধিক নারী-পুরুষ বাণিজ্যিক পাখির খামার গড়ে তুলেছেন, স্বপ্ন দেখছেন স্বাবলম্বী হওয়ার। তবে তাদের স্বপ্ন পুরণে প্রয়োজন সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা। সেটি করা হলে এসব প্রত্যেকটি খামারে অনেকের কর্মসংস্থান হবে। পরিবারে আসবে অথনৈতিক স্বচ্ছলতা। এছাড়া সরকারি-বেসরকারি চাকরি থেকে অবসর নেওয়া ব্যক্তিরাও বাণিজ্যিকভিত্তিতে সৌখিন পাখির খামার গড়ে তুলেছেন। তাদেরই আরেকজনের নাম মাহফুজার রহমান। সরকারি চাকরি থেকে অবসর নিয়ে শহরের বাগানবাড়ি এলাকায় অবস্থিত বাসার ছাদেই গড়ে তুলেছেন পাখির খামার। মাত্র দুই বছরের মধ্যেই সেটি বাণিজ্যিক খামারে পরিণত হয়েছে। তার খামারেও রয়েছে অন্তত পনের প্রজাতির বিভিন্ন বিদেশি পাখি। প্রতিমাসে নব্বই থেকে এক লাখ টাকার পাখি বিক্রি করে থাকেন। তিনিও মাসে চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকা আয় করেন ওই খামার থেকে।

">


একইভাবে উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের মাকোরকোলা গ্রামের মাহবুব হোসেন, পৌরশহরের স্যানালপাড়ার স্কুলছাত্র লাবিব হাসান, বিকাল বাজারের কলেজছাত্র আবু রায়হান রনি, খন্দকারটোলার ফাহিমসহ আরও অনেকেই পাখির খামার গড়ে ইতিমধ্যে সফলতা পেয়েছেন, মিলেছে অর্থনৈতিক মুক্তি। তাদের পরিবারে এনে দিয়েছেন স্বচ্ছলতা।
উপজেলা প্রাণি সম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা যায়, এই উপজেলায় দেড়শ’র মতো সৌখিন পাখির বাণিজ্যিক খামার রয়েছে। এছাড়া আরও দুই শতাধিক বাসা-বাড়িতে সৌখিন পাখি পালন করা হচ্ছে। সবমিলিয়ে এই খাতে সহস্রাধিক পরিবারের লোকজনের নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। এসব খামার গড়ে সফল হওয়ায় বেকার তরুণ-তরুণী এবং অবসরে যাওয়া ব্যক্তিরা বেশ আগ্রহী হয়ে উঠছেন। বিশেষ করে করোনাকালীন স্কুল-কলেজ দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল। এই সময়ে স্কুল-কলেজের অনেক শিক্ষার্থীরা সৌখিন পাখি পালন করে বেশ লাভবান হয়েছেন। তাই দিনদিন এই উপজেলায় বাণিজ্যিক খামার বাড়ছে বলে সূত্রটি জানায়।
জানতে চাইলে উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. রায়হান পিএএ এ প্রসঙ্গে বলেন, এই উপজেলায় সৌখিন পাখির খামার গড়ায় অনেকেই আগ্রহী হয়ে উঠছেন। বেকার তরুণ-তরুণীদের পাশাপাশি চাকরি থেকে অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিরাও এই খামার গড়ে তুলেছেন। এটি একটি লাভজনক খাত। তাই তার দপ্তরের থেকে এসব পাখি পালনে উদ্বুদ্ধকরণ, প্রশিক্ষণসহ কারিগরি সবধরণের সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। সেইসঙ্গে খামারের পাখিরা অসুস্থ হলে তাদের চিকিৎসার ওষুধও বিনামূল্যে ব্যবস্থা করে দেয়া হচ্ছে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়