নির্বাচনকালীন সরকারের প্রাক্কালে চূড়ান্ত আন্দোলন বিএনপির

প্রকাশিত: জানুয়ারী ০২, ২০২২, ০৯:৪৩ রাত
আপডেট: জানুয়ারী ০২, ২০২২, ০৯:৪৩ রাত
আমাদেরকে ফলো করুন

# ফের সমাবেশের কর্মসূচি আসছে
# মাঠ ধরে রাখার পরিকল্পনা

রাজকুমার নন্দী : নির্বাচনকালীন নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকার এবং দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও তার বিদেশে উন্নত চিকিৎসার দাবিতে চলমান আন্দোলন অব্যাহত রাখবে বিএনপি। দাবি আদায়ে মাসখানেক ধরে নিয়মতান্ত্রিক বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে তারা। ইতোমধ্যে প্রায় ৩২টি জেলায় সমাবেশ করেছে। শিগগিরই নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। আগামীকাল সোমবার (০৩ ডিসেম্বর) দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে পরবর্তী কর্মসূচি গৃহীত হবে। জানা গেছে, ফের সমাবেশের কথা ভাবছে হাইকমান্ড। এবার অবশিষ্ট জেলাগুলোতে সমাবেশ করা হতে পারে। এভাবে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ধারাবাহিক বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে রাজপথে অবস্থান ধরে রাখবে দলটি। আর নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের প্রাক্কালে চূড়ান্তভাবে নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে মাঠে নামবে বিএনপি। দলীয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

গত ১৩ নভেম্বর গুরুতর অসুস্থ হয়ে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন খালেদা জিয়া। তার চিকিৎসকেরা বলেছেন, জটিল রোগ লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত তিনি। কয়েক দফা রক্তক্ষরণের কারণে তিনি জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে পড়েন। তারা অবিলম্বে বেগম জিয়াকে বিদেশে উন্নত চিকিৎসার পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় দন্ডপ্রাপ্ত খালেদা জিয়া শর্তসাপেক্ষে সরকারের নির্বাহী আদেশে সাময়িক মুক্তি পাওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তিনি বিদেশে যেতে পারছেন না। পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন করা হলেও সরকার বলছে, আইনে তার বিদেশে যাওয়ার সুযোগ নেই। 

এদিকে বিএনপি নেতারা বলছেন, আইন কোনো বাধা নয়, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে বেগম জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। তারা মনে করছেন, খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার বিষয়ে মানুষের সহানুভূতি তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে সরকারের প্রতি ক্ষোভ ও বিরক্তি বাড়ছে। এটাকে মাঠে নামার সুযোগ হিসেবেও নিয়েছেন তারা। দীর্ঘদিন ধরে তারা কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামতে পারছিলেন না, কিন্তু খালেদা জিয়ার চিকিৎসা ইস্যুতে কর্মসূচি পালন করতে পারছেন। তাই ইস্যুটিকে কোনোভাবেই হাতছাড়া করতে চায় না দলের হাইকমান্ড। এ কারণে এই ইস্যুতে ধারাবাহিক কর্মসূচি দেওয়া হচ্ছে। 

বিএনপি ইতোমধ্যে সারাদেশে মানববন্ধন, গণ-অনশন, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্মারকলিপি প্রদান এবং সমাবেশের মতো কর্মসূচি পালন করেছে। বিভাগীয় সমাবেশের পর প্রায় ৩২ জেলায় সমাবেশ করেছে দলটি। 

বিএনপি নেতাদের দাবি, পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে নেতাকর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এসব সমাবেশ জনসমুদ্রে রূপ নিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে বিএনপির জনসমর্থনের বিষয়টি যেমন প্রমাণিত হয়েছে, তেমনি নেতাকর্মীদের মাঝে চাঙ্গাভাবও এসেছে। তাদের ভীতি-জড়তাও কাটছে। সে কারণে পরবর্তী কর্মসূচির ব্যাপারে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব। জানা গেছে, দাবি আদায়ে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব আবারও সমাবেশের কথা ভাবছে। অবশিষ্ট জেলাগুলোতে সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে। এছাড়া ১৪৪ ধারা জারিসহ বিভিন্ন কারণে যেসব জেলায় প্রথম ধাপে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়নি, এবার সেখানেও সমাবেশ হবে। তারপর পর্যায়ক্রমে উপজেলা পর্যায়েও সমাবেশের কর্মসূচি আসতে পারে। 

বিএনপি নেতারা মনে করছেন, চলমান কর্মসূচিকে ঘিরে দলের কর্মী-সমর্থকদের মাঝে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রবণতা সামনে এসেছে। তবে এ অবস্থা দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর রাখতে পর্যাপ্ত রাজনৈতিক কর্মসূচি প্রণয়ন করতে হবে। সে কারণে পরিবেশ-পরিস্থিতি বিবেচনায় ইউনিয়ন পর্যায়েও কর্মসূচি প্রণয়নের পক্ষে কেউ কেউ। 

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে সুচিকিৎসার দাবিতে আমরা ইতোমধ্যে সারাদেশে মানববন্ধন, সমাবেশ, গণ-অনশন, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্মারকলিপি প্রদানের মতো কর্মসূচি পালন করেছি। ৩২ জেলায় সমাবেশের পর আরও কর্মসূচি দেওয়া হবে। পরবর্তী কর্মসূচি স্থায়ী কমিটির সোমবারের বৈঠকে নেওয়া হবে।

দলটির একজন সাংগঠনিক সম্পাদক জানান, পুলিশি বাধা সত্ত্বেও নেতা-কর্মীসহ সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে সমাবেশকে সফল মনে করছে দলের হাইকমান্ড। সে কারণে দাবি আদায়ে ফের সমাবেশের কথা ভাবা হচ্ছে। 

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু দৈনিক করতোয়াকে বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তি মানেই গণতন্ত্রের মুক্তি। তার মুক্তি হলেই দেশে গণতন্ত্র আসবে, ভোটাধিকার ফিরবে। তার মুক্তি ও বিদেশে চিকিৎসার দাবিতে বিএনপির চলমান কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।


 

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়