খালেদা জিয়া ইস্যুতে ফের মাঠে নামছে বিএনপি

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২০, ২০২১, ১০:০৯ রাত
আপডেট: ডিসেম্বর ২০, ২০২১, ১০:০৯ রাত
আমাদেরকে ফলো করুন

# বগুড়াসহ ৬ জেলায় সমাবেশ বুধবার

রাজকুমার নন্দী : বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর দাবিতে জনমত গড়তে আগামীকাল বুধবার থেকে ফের মাঠে নামছে বিএনপি। নয়দিনে পর্যায়ক্রমে দেশের ৩২ জেলা সফরে যাবেন দলের সিনিয়র ও কেন্দ্রীয় নেতারা। ইতোমধ্যে সফরসূচিও চূড়ান্ত করেছে দলের হাইকমান্ড। এসব সমাবেশ সফলে  স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ভাইস-চেয়ারম্যানদের নেতৃত্বে জাতীয় পর্যায়ে কয়েকটি টিম গঠন করা হয়েছে। প্রতিটি টিমে ২ থেকে ৪ জন কেন্দ্রীয় নেতা রয়েছেন, যারা জেলা পর্যায়ের সমাবেশে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। এসব সমাবেশ থেকে সরকারকে কঠোর বার্তা দেওয়া হতে পারে। 

২২, ২৪ ও ২৬ ডিসেম্বর বিভিন্ন বিভাগের জেলা সদরে প্রতিদিন ৬টি এবং ২৮ ও ৩০ ডিসেম্বর প্রতিদিন ৭টি করে সমাবেশ হবে। আগামী বুধবার (২২ ডিসেম্বর) প্রথমদিনে ঢাকা বিভাগের টাঙ্গাইল, খুলনা বিভাগের যশোর, রংপুর বিভাগের দিনাজপুর, রাজশাহী বিভাগের বগুড়া, সিলেট বিভাগের হবিগঞ্জ ও চট্টগ্রাম বিভাগের ব্রাক্ষণবাড়িয়ায় সমাবেশ করবে বিএনপি। টাঙ্গাইলের সমাবেশে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও আমানউল্লাহ আমান, হবিগঞ্জে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও জয়নুল আবদিন ফারুক, যশোরে মির্জা আব্বাস ও মশিউর রহমান, বগুড়ায় গয়েশ^র চন্দ্র রায় ও হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু, দিনাজপুরে নজরুল ইসলাম খান ও মিজানুর রহমান মিনু, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও আবুল খায়ের ভূঁইয়া অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন।

গত ১৩ নভেম্বর খালেদা জিয়াকে বসুন্ধরার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এভারকেয়ারের চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে ১০ জনের একটি বিশেষ মেডিকেল টিম তার চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন। ৭৬ বছর বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া অনেক বছর ধরে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, ফুসফুস, চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন। সম্প্রতি চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বেগম খালেদা জিয়া লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত। তার পরিপাকতন্ত্রে কয়েকবার রক্তক্ষরণ হয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য বেগম জিয়াকে দ্রুত বিদেশে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। এ লক্ষ্যে পরিবারের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে সরকারের কাছে আবেদন করা হয়েছে। তবে সরকার তাতে এখনো সাড়া দেয়নি। তারা বলছেন, খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে হলে ফের কারাগারে গিয়ে আবেদন করতে হবে।

সমাবেশকে কার্যকর ভাবছে বিএনপি : খালেদা জিয়ার মুক্তি ও চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর দাবিতে গত দুই মাসে সারাদেশে বিভাগীয় সমাবেশসহ মানববন্ধন, গণঅনশন, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্মারকলিপি প্রদানের কর্মসূচি শেষ করেছে বিএনপি। এর মধ্যে বিভাগীয় সমাবেশগুলোকে অত্যন্ত কার্যকর বলে মনে করছেন দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা। খালেদা জিয়ার মুক্তি ও চিকিৎসা ইস্যুতে বিভাগীয় সমাবেশ হলেও এসব সমাবেশকে ঘিরে কয়েকটি ইস্যুতে সফলতা দেখছে দলের হাইকমান্ড। 

বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের দুইজন নেতা মনে করেন, বিভাগীয় সমাবেশে বিএনপি ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করে-বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল হচ্ছে বিএনপি। মহামারি করোনার কারণে দীর্ঘদিন মাঠের কর্মসূচির বাইরে ছিল তারা। সমাবেশের কর্মসূচি ঘিরে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা ফের উজ্জীবিত হয়েছে, তাদের ভীতি ও জড়তা কেটেছে। সেইসাথে ‘বিএনপির জনসমর্থন নেই’ বলে বিদেশিদের কাছে ক্ষমতাসীন দলের চালানো অপপ্রচারও মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। সমাবেশে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লাখ লাখ মানুষের উপস্থিতি বিদেশিদের সেই ধারণাও পাল্টে দিয়েছে। মামলায় জর্জরিত বিএনপি প্রমাণ করতে পেরেছে, সরকারি মামলা-হামলা-গুম-নির্যাতন সত্ত্বেও তাদের জনপ্রিয়তা একটুও কমেনি। 

তারা আরও মনে করেন, দাবি আদায়ে হরতাল-অবরোধের মতো ধ্বংসাত্মক কর্মসূচি পরিহার করে তারা শান্তিপূর্ণ ও অহিংস কর্মসূচি পালন করছে, যা দেশবাসীর পাশাপাশি বিদেশিদের কাছেও গ্রহণযোগ্য হয়েছে।

জানা যায়, খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে চিকিৎসার দাবিতে বিএনপির গৃহীত বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে তৃণমূলের কোন কোন নেতা মাঠে সক্রিয় রয়েছেন তাদের বিষয়েও খোঁজ-খবর নিচ্ছে দলের হাইকমান্ড। এরই ধারাবাহিকতায় বিভাগীয় সমাবেশের পর এবার ৩২ জেলায় সমাবেশের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। পরবর্তীতে থানা পর্যায়ে সমাবেশেরও পরিকল্পনা রয়েছে দলের হাইকমান্ডের। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে সারাদেশের নেতাকর্মীদের আরও সক্রিয় করে তুলতে চায় বিএনপি।

জানতে চাইলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী দৈনিক করতোয়াকে বলেন, বাংলাদেশের সাবেক তিনবারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি এবং তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর দাবি এখন শুধু বিএনপির নয়, এই দাবি এখন সারাদেশের মানুষের। একইসাথে বিশে^র বিভিন্ন দেশও দেশনেত্রীর বিদেশে সুচিকিৎসার দাবি জানিয়েছে। বিভিন্ন দেশের পার্লামেন্টেও আলোচনা হচ্ছে। দাবি আদায়ে আমরা ধারাবাহিকভাবে অহিংস ও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছি। সারাদেশে সভা-সমাবেশ তারই অংশ। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে দেশ-বিদেশে জনমত তৈরি হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। 

বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিদেশে উন্নত চিকিৎসার গণদাবিকে এই সরকার গ্রাহ্য করছে না। উল্লিখিত দাবিতে সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ এবং জনমত গঠনের লক্ষ্যে এবার আমরা জেলা পর্যায়ে সমাবেশের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সরকার দেশনেত্রীকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য পাঠাতে বাধ্য হবে। 

দলের সহ-দফতর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু দৈনিক করতোয়াকে বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে সুচিকিৎসার দাবিতে অনুষ্ঠিত বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশগুলো বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে জনসমুদ্রে পরিণত হয়। এসব সমাবেশের মাধ্যমে জনমত তৈরি হচ্ছে। খালেদা জিয়াকে বিদেশে যেতে না দেওয়ার কারণে দেশ-বিদেশে তার নাম বারবার উচ্চারিত হচ্ছে। তার জনপ্রিয়তা দিন দিন বেড়েই চলেছে। অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্টে প্রতিবাদ হয়েছে, দেশনেত্রীকে বিদেশে পাঠানোর দাবি জানানো হয়েছে। 

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়