বিভাগীয় সমাবেশে বিএনপির ব্যাপক লোকসমাগমের পরিকল্পনা 

প্রকাশিত: নভেম্বর ২৮, ২০২১, ০৯:৫০ রাত
আপডেট: নভেম্বর ২৮, ২০২১, ০৯:৫০ রাত
আমাদেরকে ফলো করুন

# খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসা

রাজকুমার নন্দী : দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতা বিএনপির কাছে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় সঙ্কট। এটাকে অস্তিত্বের সঙ্কট বলে মনে করছেন তারা। দলটির নেতারা বলছেন, খালেদা জিয়া এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন। তার জীবন বাঁচাতে এই মুহূর্তে বিদেশে উন্নত চিকিৎসা জরুরি। এদিকে দলীয় প্রধানের চিকিৎসা ইস্যুতে একাধিক কৌশল অবলম্বন করছে বিএনপির হাইকমান্ড। এক্ষেত্রে রাজপথের কর্মসূচি ছাড়াও আন্তর্জাতিকভাবে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করছে তারা। মানববন্ধন, গণঅনশন, দোয়া মাহফিল, লিফলেট বিতরণের মতো কর্মসূচির মাধ্যমে জনমত গঠনের চেষ্টাও করছে দলটি। পাশাপাশি সমমনা রাজনৈতিক দল ও দলসমর্থিত পেশাজীবী সংগঠনের পক্ষ থেকে বক্তব্য-বিবৃতির মাধ্যমেও সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগের চেষ্টা চলছে। এছাড়া খালেদা জিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকেও সরকারের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হচ্ছে। উদ্দেশ্য, বেগম জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে উন্নত চিকিৎসা। 

দাবি আদায়ে লাগাতার কর্মসূচি নিয়ে মাঠে রয়েছে বিএনপি। ইতোমধ্যে দল ও অঙ্গ সংগঠনের পক্ষ থেকে ৮ দিনের কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় দশটি সাংগঠনিক বিভাগীয় শহরে সমাবেশ করবে দলটি। ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, খুলনা, ময়মনসিংহ, সিলেট, রাজশাহী, রংপুর, ফরিদপুর ও কুমিল্লায় আগামী মঙ্গলবার একযোগে সমাবেশ হবে। এই কর্মসূচিতে ব্যাপক লোকসমাগমের প্রস্তুতি নিয়েছে দলটি। সমাবেশে ব্যাপক লোকসমাগম ঘটিয়ে দাবি আদায়ে সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে চায় বিএনপি। 

এদিকে সমাবেশ সফলে ইতোমধ্যে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য, ভাইস চেয়ারম্যান, যুগ্ম-মহাসচিব এবং সাংগঠনিক ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকদের সমন্বয়ে ১০টি সাংগঠনিক বিভাগীয় টিম গঠন করা হয়েছে। এসব সমাবেশ থেকে সরকারকে কঠোর বার্তা দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন দলটির নীতিনির্ধারকরা। দলীয় প্রধানকে দ্রুত বিদেশে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা না হলে এ দাবি সরকার বিদায়ের দাবিতে রূপ নিতে পারে। সমাবেশ থেকে এমন ঘোষণা দেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছেন নেতারা।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে ঢাকা বিভাগীয় টিম, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নেতৃত্বে চট্টগ্রাম টিম, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে প্রধান করে বরিশাল টিম, স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের নেতৃত্বে খুলনা টিম, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে ময়মনসিংহ বিভাগীয় টিম, স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে সিলেট টিম, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমানকে প্রধান করে রাজশাহী টিম, স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে প্রধান করে রংপুর টিম, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের নেতৃত্বে ফরিদপুর সাংগঠনিক বিভাগীয় টিম এবং ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদুর নেতৃত্বে  কুমিল্লা সাংগঠনিক বিভাগীয় টিম গঠন করা হয়েছে। প্রতিটি টিমে সংশ্লিষ্ট বিভাগের সাংগঠনিক ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকরা রয়েছেন। 

সমাবেশ সফল করতে বিভাগীয় টিমের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা দফায় দফায় বৈঠক করছেন। সংশ্লিষ্ট বিভাগের নেতারা ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছেন। বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের অন্তর্গত জেলার শীর্ষ নেতাদের সাথে মতবিনিময় করছেন বিএনপির সিনিয়র নেতারা। শনিবার (২৭ নভেম্বর) দুপুরে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বৈঠক করে ঢাকা বিভাগীয় টিম। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে বৈঠকে মহানগর উত্তর-দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক-সদস্য সচিব, অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং ঢাকার আশপাশের জেলাগুলোর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে শান্তিপূর্ণ সমাবেশে সর্বোচ্চসংখ্যক লোকসমাগমের সিদ্ধান্ত হয়। 

জানা গেছে, ঢাকায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অথবা নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করার অনুমতি চেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছে বিএনপি।

জানতে চাইলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী দৈনিক করতোয়াকে বলেন, গুরুতর অসুস্থ হয়ে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে চিকিৎসার দাবি এখন শুধু বিএনপির নয়, দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের দাবি। আমাদের দলীয় কর্মসূচিগুলোতে বিভিন্ন দল ও মতের লোকদের অংশগ্রহণ সেটাই প্রমাণ করে। 

তিনি আরও বলেন, দেশনেত্রীর মুক্তি ও বিদেশে সুচিকিৎসার দাবিতে আমরা মঙ্গলবার ঢাকাসহ দেশের ১০টি সাংগঠনিক বিভাগীয় শহরে সমাবেশ করব। সে মোতাবেক প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। 

এদিকে ঢাকায় সমাবেশ সফলের লক্ষ্যে রোববার (২৮ নভেম্বর) জরুরি সভা করেছে মহানগর দক্ষিণ বিএনপি। দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুস সালামের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব রফিকুল আলম মজনুর সঞ্চালনায় সভায় দক্ষিণের যুগ্ম-আহবায়ক, সদস্যবৃন্দ এবং থানা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সমাবেশ সফলে রোববার স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাথে ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ এবং ঢাকার পাশর্^বর্তী ৬টি মহানগর ও জেলার নেতৃবৃন্দের মতবিনিময় সভা হয়। স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি গোলাম সারোয়ার এতে সভাপতিত্ব করেন। 

জানতে চাইলে স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি গোলাম সারোয়ার দৈনিক করতোয়াকে বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। দেশনেত্রীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ পাঠাতে সরকারকে আন্দোলনের মাধ্যমে বাধ্য করতে যেকোনো কর্মসূচি পালনে সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত। 

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব আমিনুল হক জানান, ৩০ নভেম্বর দুপুর ২টায় অনুষ্ঠিতব্য ঢাকার সমাবেশ সফলে সর্বোচ্চ গণজমায়েতের লক্ষ্যে তারা ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছেন। দেশনেত্রীর বিদেশে সুচিকিৎসার দাবি এখন সারাদেশের মানুষের দাবি। আশা করছি, সমাবেশে দলীয় নেতা-কর্মীর পাশাপাশি সাধারণ মানুষও অংশগ্রহণ করবেন। 

এদিকে ময়মনসিংহ বিভাগের সমাবেশ সফলের লক্ষ্যে বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্সের নেতৃত্বে শনিবার (২৭ নভেম্বর) ময়মনসিংহ মহানগর এবং উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে শহরের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ ও প্রচারপত্র বিতরণ করা হয়েছে।


 

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়