সিদ্ধান্তের পরও প্রত্যাহার হয়নি ছাত্রদলের ১২ নেতার বহিষ্কারাদেশ

DhakaNANDI DhakaNANDI
প্রকাশিত: ০৯:২১ পিএম, ০৩ নভেম্বর ২০২১

রাজকুমার নন্দী : বিএনপির সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী ফোরামে সিদ্ধান্ত হওয়ার দুই মাস অতিবাহিত হলেও অদৃশ্য কারণে এখনো প্রত্যাহার হয়নি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সেই ১২ নেতার বহিষ্কারাদেশ। গত ১১ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সর্বসম্মতভাবে তাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত হয়। এর আগে ২০১৯ সালে ছাত্রদলের ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলনকে ঘিরে উদ্ভূত পরিস্থিতির একপর্যায়ে ২২ জুন বহিষ্কার করা হয় ছাত্রদলের ১২ জন নেতাকে; বিএনপির সরকারবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে বিভিন্ন সময় যারা রাজপথে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। এদিকে দীর্ঘদিনেও বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার না হওয়ায় ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ক্যারিয়ার নিয়ে চিন্তিত ও উদ্বিগ্ন তারা। তাদের মাঝে এক ধরনের অস্বস্তিকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এছাড়া বহিষ্কারের কারণে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ কোনো অঙ্গসংগঠনে তারা এখনো কোনো পদ পাননি। এই পরিস্থিতির দ্রুত অবসান চান ছাত্রদলের বহিষ্কৃত নেতারা। তারা পূর্বের ন্যায় দলীয় কর্মসূচিতে রাজপথে থাকতে চান। এজন্য তীর্থের কাকের মতো হাইকমান্ডের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন তারা। 

জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বুধবার (০৩ নভেম্বর) দৈনিক করতোয়াকে বলেন, ছাত্রদলের বহিষ্কৃত ১২ নেতা তাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের জন্য দলীয় ফোরামে আবেদন করেছে। কিন্তু এ ব্যাপারে (বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার) এখনো কোনো অগ্রগতি নেই। 

তবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য বলেন, গত সেপ্টেম্বরে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে ছাত্রদলের সাবেক ১২ নেতার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের ব্যাপারে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু অদৃশ্য কারণে সেই সিদ্ধান্ত এখনো বাস্তবায়িত হয়নি, যা দুঃখজনক। অবিলম্বে তাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার হওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।

আন্দোলনের সূত্রপাত যেভাবে : ২০১৯ সালের ৩ জুন ঈদের একদিন আগে রাজীব-আকরামের নেতৃত্বাধীন ছাত্রদলের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি ভেঙে দিয়ে কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠনের ঘোষণা দেয় বিএনপি। একইসঙ্গে কাউন্সিলে প্রার্থী হওয়ার জন্য তিনটি যোগ্যতা নির্ধারণী শর্তও ঠিক করে দেয়া হয়। এর মধ্যে অন্যতম ছিল-২০০০ সাল থেকে পরবর্তী যেকোনো বছরে এসএসসি পাস শিক্ষার্থীরাই কাউন্সিলে প্রার্থী হতে পারবেন। ফলে নতুন কমিটিতে তখন যারা পদপ্রত্যাশী ছিলেন তাদের বেশিরভাগই বয়সের সীমারেখায় বাদ পড়ে যান। তাই বয়সসীমা প্রত্যাহার করে অতীতের ন্যায় ধারাবাহিক কমিটির দাবিতে ছাত্রদলের একটি অংশ বিদ্রোহ করে। এ নিয়ে দু’গ্রুপের মধ্যে কয়েক দফা সংঘর্ষ হয়। ভাঙচুর করা হয় নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ও। এমন পরিস্থিতিতে বিদ্রোহীদের সঙ্গে সমঝোতায় দলের সিনিয়র নেতারা কয়েক দফা বৈঠক করেও ব্যর্থ হন। দাবি না মানা পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। এক পর্যায়ে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া ১২ জনকে বহিষ্কার করা হয়। 

বহিষ্কৃতরা হলেন- ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি এজমল হোসেন পাইলট, ইকতিয়ার রহমান কবির, জয়দেব জয়, মামুন বিল্লাহ; সাবেক সিনিয়র যুগ্ম-সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, যুগ্ম-সম্পাদক বায়েজিদ আরেফিন; সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক দবির উদ্দিন তুষার; সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আজম সৈকত, আব্দুল মালেক; সাবেক সদস্য আজীম পাটোয়ারী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক বাশার সিদ্দিকী ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের তখনকার সভাপতি জহির উদ্দিন তুহিন। 

এরপর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারে নানাভাবে চেষ্টা করেন তারা। আর বিদ্রোহ করবে না, দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নেবে বলে হাইকমান্ডের কাছে লিখিত প্রতিশ্রুতিও দেন বহিষ্কৃতরা। কিন্তু তারপরেও অজানা কারণে ঝুলে থাকে তাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার। অবশেষে গত ১১ সেপ্টেম্বর স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সর্বসম্মতভাবে তাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয় বিএনপি। কিন্তু তারপরেও অদৃশ্য কারণে সেই সিদ্ধান্ত এখনো আলোর মুখ দেখেনি। 

জানতে চাইলে ছাত্রদল থেকে বহিষ্কৃত সাবেক সহ-সভাপতি এজমল হোসেন পাইলট দৈনিক করতোয়া বলেন, আমরা ক্রান্তিকালে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশকে মেনে নিয়েছি। আমরা আশায় রয়েছি- দ্রুত আমাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে। দলীয় একজন নগণ্য কর্মী হিসেবে অতীতের ন্যায় দল ঘোষিত সকল কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করতে চাই, রাজপথে নামতে চাই। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কাছে আমাদের বহিষ্কার প্রত্যাহারপূর্বক সেই সুযোগ প্রদানের জন্য মিনতি জানাই।