জনস্বার্থে কাজ করলে এগিয়ে যাবে ‘গণ অধিকার পরিষদ’

DhakaNANDI DhakaNANDI
প্রকাশিত: ০৯:৫৯ পিএম, ২৭ অক্টোবর ২০২১

# রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত

রাজকুমার নন্দী : দেশে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে গত মঙ্গলবার তরুণদের সমন্বয়ে আত্মপ্রকাশ করেছে নতুন রাজনৈতিক দল ‘বাংলাদেশ গণ অধিকার পরিষদ’। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, তরুণদের সমন্বয়ে গঠিত নতুন এই দলের প্রতি দেশের তরুণ সমাজের নানা প্রত্যাশা রয়েছে। জনস্বার্থে কাজ করলে এই দলটি অবশ্যই এগিয়ে যাবে। তবে সেজন্য তাদেরকে ধৈর্য ধরে মাঠে টিকে থাকতে হবে। আওয়ামী লীগ-বিএনপির মতো বড় রাজনৈতিক দলের কাতারে যেতে হলে তাদেরকে অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে।

জানতে চাইলে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার দৈনিক করতোয়াকে বলেন, দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দলই একাধিকবার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসেছে। কিন্তু জনগণের জন্য তেমন কিছু করতে পারেনি। বরং নির্বাচন এলে তারা জনগণের সাথে প্রতারণা করে। দুই দলের সরকারের আমলেই দেশে বিভিন্ন সময়ে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। সম্প্রতিও সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। এমতাবস্থায় ‘গণ অধিকার পরিষদ’ নামে নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ ঘটলো। নতুন এই দলের প্রতি দেশের মানুষ তথা তরুণ সমাজের নানা প্রত্যাশা থাকবে। নতুন দলের নেতারা জনস্বার্থে কাজ করবে, নতুন কিছু করে দেখাবে বলে আশা করি। 

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি ও ভাসানী অনুসারী পরিষদের চেয়ারম্যান ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী দৈনিক করতোয়াকে বলেন, গণ অধিকার পরিষদের নেতারা বয়সে তরুণ, তারা নতুন স্বপ্ন দেখতে পারে। তবে প্রতিষ্ঠা পেতে হলে তাদেরকে অবশ্যই মাঠে-ময়দানে থাকতে হবে, জনস্বার্থে কাজ করতে হবে। যদি ছয় মাসে অর্ধলক্ষ সদস্য যোগাড় করতে পারে এবং আদর্শ নিয়ে মাঠে থাকতে পারে, তবে তাদের ভবিষ্যৎ ভালো। একইসঙ্গে কর্মসংস্থান, কৃষক-শ্রমিকের স্বার্থ তুলে ধরতে হবে। তারা যেসব লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ঘোষণা করেছে- সেসব বাস্তবায়ন ও কার্যকর করতে হবে। ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করা যাবে না। 

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নতুন দলের প্রতি আশা তো অবশ্যই আছে। কেননা তাদের সাহসও আছে এবং লোকবল ও জনসমর্থনও আছে। তারা যদি জনকল্যাণে আত্মনিয়োগ করতে পারে, তাহলে তারা এগিয়ে যাবে। তবে এক্ষেত্রে তাদেরকে অবশ্যই মাঠে টিকে থাকতে হবে। 

বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী দৈনিক করতোয়াকে বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অবস্থা খুবই খারাপ। প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলকেই ক্ষমতাসীনরা ঠিকমতো কাজ করতে দিচ্ছে না। সেখানে ডাকসুর সাবেক ভিপি নূরুল হক নূরের নেতৃত্বে নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ ঘটলো। যেখানে অর্থনীতিবিদ ও শিক্ষিত মানুষ ড. রেজা কিবরিয়াও যুক্ত হয়েছেন। 

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নতুন এই দল তো এখনো প্রতিষ্ঠিত নয়। ফলে সরকারও তাদেরকে সেভাবে হুমকি মনে করছে না। নূরের দলকে আওয়ামী লীগ-  বিএনপির মতো বড় রাজনৈতিক দলের কাতারে যেতে হলে অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে। তবে সরকার তরুণদের সমন্বয়ে গড়া নতুন এই দলকে কীভাবে দেখছে সেটাই এখন দেখার বিষয়। 

এই রাষ্ট্রবিজ্ঞানী বলেন, দেশের তরুণ সমাজ তাদেরকে ভোট দেবে বা তাদের পক্ষে থাকবে- এটাই স্বাভাবিক। এজন্য নতুন দল হিসেবে সাংগঠনিকভাবে ঐক্যবদ্ধ থাকলে তাদের ভবিষ্যৎ আছে। কেননা রাজনীতিতে শূন্যতা তৈরি হলে কেউ না কেউ উঠে আসে। 

অপর এক প্রশ্নের জবাবে দিলারা চৌধুরী বলেন, আমিও শুনেছি যে- নতুন এই দলের আত্মপ্রকাশের পেছনে সরকারের ইন্ধন থাকতে পারে। তবে তাদের কর্মকান্ডে ভবিষ্যতে তা পরিষ্কার হবে। 

দেশে পুরনো প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলগুলো যেখানে স্বাভাবিকভাবে কর্মকান্ড পরিচালনা করতে পারছে না, সেখানে নতুন দল হিসেবে ‘গণ অধিকার পরিষদ’ কীভাবে কর্মকান্ড পরিচালনা করবে?- এমন প্রশ্নের জবাবে দলটির সদস্য সচিব নূরুল হক নূর বলেন, বর্তমান অনির্বাচিত সরকার ফ্যাসিবাদী কায়দায় দেশ চালাচ্ছে। তাদের সাথে আপস করে তাদের আশীর্বাদ নিয়ে রাজনীতি করার প্রশ্নই আসে না। প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও নিজেরা যতটুকু রাজনীতি করার সুযোগ পাই, সেখান থেকে চেষ্টা করব। বর্তমানে সকল গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে অনির্বাচিত ও কর্তৃত্ববাদী সরকারকে বিদায় করে দেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করা। 

তিনি আরও বলেন, সরকার তো আমাদেরকে আন্দোলন-সংগ্রামের জন্য একেবারে রাস্তা ছেড়ে মসৃণ করে দেবে না। এর মধ্য দিয়েই লড়াই-সংগ্রাম গড়ে তুলতে হবে। ত্যাগ স্বীকার করতে হবে, জীবন দিতে হবে, রক্ত দিতে হবে। এ যাবতকাল আমরা তা দিয়ে আসছি। সামনের দিনগুলোতেও এভাবে আমাদের নিজেদের অবস্থান তৈরি করে নিতে হবে। কেউ কাউকে জায়গা করে দিবে না। 

নতুন দলের কর্মসূচি প্রসঙ্গে নূর বলেন, আমরা সপ্তাহ খানেকের মধ্যে আলোচনা করে নতুন কর্মসূচি ঠিক করব।

‘মানবিক ও প্রগতিশীল’ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে ডাকসুর সাবেক ভিপি নূরুল হক নূর ও অর্থনীতিবিদ ড. রেজা কিবরিয়ার হাত ধরে গত মঙ্গলবার ‘বাংলাদেশ গণ অধিকার পরিষদ’ নামে নতুন একটি রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ হয়েছে। আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে দলটির যুগ্ম-আহ্বায়ক রাশেদ খানের উত্থাপিত ২১ দফা রাজনৈতিক কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- দুর্নীতি প্রতিরোধ, ক্ষমতার ভারসাম্য, ন্যায় বিচার, সুশাসন, ভোটাধিকার, সংখ্যালঘু জাতি সত্ত্বা ও ধর্মাবলম্বী, দখল-দূষণ প্রতিরোধ, জ্বালানি-খনিজ সম্পদ ও সামাজিক নিরাপত্তা অন্যতম।