দলীয় পরিচয় চান যুব-স্বেচ্ছাসেবক-ছাত্রদলের পদপ্রত্যাশীরা

DhakaNANDI DhakaNANDI
প্রকাশিত: ০৯:৫৯ পিএম, ০৩ অক্টোবর ২০২১

# স্বল্পকালীন হলেও পূর্ণাঙ্গ কমিটির দাবি

রাজকুমার নন্দী : রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে বিএনপির তিন ‘নিউক্লিয়াস’ জাতীয়তাবাদী যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদল। তবে তিনটি সংগঠনের কমিটিই এখন মেয়াদোত্তীর্ণ। একইসঙ্গে সংগঠনগুলোর কার্যক্রমও চলছে আংশিক কমিটি দিয়ে। তবে তিন সংগঠনের শীর্ষ নেতাদেরই আশা, দ্রুততম সময়ের মধ্যে কমিটি পূর্ণাঙ্গ হবে। এদিকে দীর্ঘদিনেও আংশিক কমিটি পূর্ণাঙ্গ না হওয়ায় তিন সংগঠনের পদপ্রত্যাশীদের মাঝে ক্রমেই বাড়ছে হতাশা। রাজনৈতিক, সামাজিক ও মানসিকভাবে বিধ্বস্ত ও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন তারা। তাই স্বল্প সময়ের জন্য হলেও কমিটি পূর্ণাঙ্গ করে সেখানে ত্যাগ ও যোগ্যতার ভিত্তিতে পদায়নের মাধ্যমে সাংগঠনিক পরিচয় নিশ্চিত করার দাবি তাদের।

২০১৭ সালের ১৬ জানুয়ারি সাইফুল আলম নীরবকে সভাপতি এবং সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে সাধারণ সম্পাদক করে যুবদলের সুপারফাইভ কমিটি ঘোষণা করা হয়। এরপর মেয়াদ শেষ হওয়ার মাত্র এক মাস আগে ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে ২৭১ সদস্যের প্রস্তাবিত পূর্ণাঙ্গ কমিটি দলীয় ফোরামে জমা দেয় সংগঠনটি। পরবর্তীতে ২০২০ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি যুবদলের ১১৪ সদস্যের আংশিক কমিটি অনুমোদন করে বিএনপি। তবে এখন পর্যন্ত কেন্দ্রীয় কমিটি পূর্ণাঙ্গ করতে পারেনি সংগঠনটি। 

এদিকে ২০১৬ সালের ২৭ অক্টোবর শফিউল বারী বাবুকে সভাপতি ও আবদুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েলকে সাধারণ সম্পাদক করে স্বেচ্ছাসেবক দলের সাত সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এরপর গত বছরের ২৮ জুলাই বাবু করোনায় মৃত্যুবরণ করলে সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমানকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি করা হয়। তবে নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে আংশিক কমিটি পূর্ণাঙ্গ করতে ব্যর্থ হয় স্বেচ্ছাসেবক দল। মেয়াদ শেষ হওয়ার পর গত বছরের মার্চ ও আগস্টে দুই দফায় ৩৪১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ খসড়া কমিটি দলীয় ফোরামে জমা দেয় সংগঠনটি। পরবর্তীতে ওই বছরের সেপ্টেম্বরে দুই দফায় স্বেচ্ছাসেবক দলের ১৮৬ সদস্যের আংশিক কেন্দ্রীয় কমিটি অনুমোদন করে বিএনপি। তবে যুবদলের মতো এখন পর্যন্ত কেন্দ্রীয় কমিটি পূর্ণাঙ্গ করতে পারেনি স্বেচ্ছাসেবক দলও। 

দীর্ঘ ২৭ বছর পর ২০১৯ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ছাত্রদলের ষষ্ঠ কাউন্সিলে ফজলুর রহমান খোকন সভাপতি এবং ইকবাল হোসেন শ্যামল সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। কাউন্সিলের তিন মাস পর ওই বছরের ডিসেম্বরে সংগঠনটির ৬০ সদস্যবিশিষ্ট আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এরপর আরও ৪১ সদস্যবিশিষ্ট আংশিক কমিটি দলীয় ফোরামে জমা দেয় সংগঠনটি। কিন্তু পরবর্তীতে তা আর আলোর মুখ দেখেনি। এরপর ছাত্রদলের আংশিক কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার দাবিতে গত ২১ জানুয়ারি সংগঠনের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক বরাবর স্মারকলিপি দেন পদপ্রত্যাশীরা। এতে ২৫ জানুয়ারির মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার দাবি জানানো হয়। পরে একই দাবিতে গত ৩০ জানুয়ারি নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে প্রতীকী অনশন কর্মসূচি পালন করেন তারা। এছাড়া এই দাবিতে পরবর্তীতে তারা বিএনপি মহাসচিবের কাছেও স্মারকলিপি দিয়েছেন। এমন অবস্থায় গত ১৮ সেপ্টেম্বর দুই বছরের মেয়াদ পূর্ণ হয় সংগঠনটির। ফলে যুবদল-স্বেচ্ছাসেবক দলের মতো ছাত্রদলের কার্যক্রমও এখন চলছে মেয়াদোত্তীর্ণ আংশিক কমিটি দিয়ে। 

এদিকে বিএনপির সাম্প্রতিক সিরিজ বৈঠকের সুপারিশ অনুযায়ী আগামী নির্বাচন ও আন্দোলনকে সামনে রেখে মেয়াদোত্তীর্ণ সব অঙ্গ সংগঠনকে ঢেলে সাজানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলের হাইকমান্ড। ইতোমধ্যে জাসাসের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে। ফলে মেয়াদোত্তীর্ণ যুব, স্বেচ্ছাসেবক ও ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠন নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে তিনটি সংগঠনের কমিটি নিয়েই বিএনপিতে দুই ধরনের মত রয়েছে। এক অংশ চাচ্ছে আংশিক কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার সুযোগ দেওয়া হোক। নেতা-কর্মীদের চাঙ্গা করতে অন্য অংশ চাচ্ছে নতুন কমিটি। তবে এ ব্যাপারে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। অবশ্য দলের বড় একটি অংশ নতুন কমিটির পক্ষে। 

তবে যুব, স্বেচ্ছাসেবক ও ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে পদপ্রত্যাশী নেতাদের প্রত্যাশা, তাদের সাংগঠনিক পরিচয় নিশ্চিতে বর্তমান আংশিক কমিটি অল্প কিছুদিনের জন্য হলেও পূর্ণাঙ্গ করা হোক। এরপর তা বিলুপ্ত করে সংগঠনের স্বার্থে নতুন কমিটি গঠন করা হোক।

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে পদপ্রত্যাশী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. মুতাছিম বিল্লাহ দৈনিক করতোয়াকে বলেন, আন্দোলন-সংগ্রাম করতে গিয়ে আমাদের অনেকেই সরকারের হামলা-মামলা ও নিপীড়নের শিকার। তারপরও আমাদের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কোনো পরিচয় নেই। তাই ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদে পরিচয় নিশ্চিত করে আগামী দিনের আন্দোলন-সংগ্রামের উপযোগী পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রদান নিশ্চিত করতে আমাদের সাংগঠনিক অভিভাবকের কাছে আমরা জোর দাবি জানাচ্ছি। 

পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু দৈনিক করতোয়াকে বলেন, আমরা যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি নিয়ে কাজ করছি। আশা করি, দ্রুততম সময়ের মধ্যেই তা ঘোষিত হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে সাবেক ছাত্রনেতারা প্রাধান্য পাবেন। 

স্বেচ্ছাসেবক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান দৈনিক করতোয়াকে বলেন, আমরা স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রস্তাবিত পূর্ণাঙ্গ কমিটি দলীয় ফোরামে জমা দিয়েছি। ইতোমধ্যে দুই দফায় ১৮৬ সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষিত হয়েছে। সেটাকে পূর্ণাঙ্গ করার চেষ্টা করছি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে যারা রাজপথে আছেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাথে সম্পৃক্ত আছেন, কর্মসূচিতে আছেন- তাদের পদায়ন হওয়া, রাজনৈতিক স্বীকৃতি দেওয়া প্রয়োজন। 

জানতে চাইলে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল বলেন, অচিরেই ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি হবে- এটা নিয়ে কোনো বিভ্রান্তি নেই। 

ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন বলেন, কমিটি পূর্ণাঙ্গরূপ দেয়ার কাজ শেষের দিকে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে দ্রুতই পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন যারা সংগঠনে শ্রম দিয়েছেন, কষ্ট করেছেন- তাদের ত্যাগ-তিতীক্ষার কথা আমাদের বিবেচনায় আছে।