আম্পানে ঝরলো রাজশাহীর ২০ শতাংশ আম

Staff Reporter Staff Reporter
প্রকাশিত: ০৭:৫৬ পিএম, ২১ মে ২০২০

রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও সাপাহার (নওগাঁ) প্রতিনিধি: ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রভাবে রাজশাহীতে ঝড় হয়েছে। বুধবার দিবাগত রাতের এই ঝড়ে রাজশাহীর অন্তত ১৫ থেকে ২০ শতাংশ আম গাছ থেকে ঝরে পড়েছে। বৃহস্পতিবার রাজশাহী জেলা প্রশাসক হামিদুল হক এ তথ্য নিশ্চিত করেন। জেলা প্রশাসক বলেন, আম ঝরেছে ২০ শতাংশ। যা টাকার অঙ্কে ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ১২০ কোটি টাকা। এছাড়া জেলার চরাঞ্চলে বেশ কিছু বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে কেউ মারা যাননি। আর ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে জানানো হয়েছে। চাষিরা জানান, গাছের আম ঝরে পড়ায় চাষিরা মহা বিপাকে পড়েছে। এবার এমনিতেই আমের ফলন কম। করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে দাম পাওয়া নিয়েই ছিলেন অনিশ্চয়তায়। তার ওপর ঝড়ে আম ঝরে পড়ায় ফলনও কমে গেল। এতে তারা লোকসানের মুখে পড়বেন। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শামসুল হক বলেন, রাতেই বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নিয়ে জেনেছি ২০ শতাংশ আম ঝরে পড়েছে। তবে সকালে আমরা বিভিন্ন বাগান পরিদর্শন করে দেখছি ক্ষতির পরিমাণ আরেকটু কম। শহরে ১০ শতাংশ এবং চারঘাট উপজেলায় ১৫ শতাংশ আম ঝরে পড়েছে। বাঘা উপজেলার বাউসা গ্রামের আমচাষি ফরিদুল ইসলাম বলেন, বাগানে ঢিলের মতো আম পড়ে আছে। তারা কুড়াচ্ছেন। আচারের জন্য দুই থেকে পাঁচ টাকা কেজি দরে এসব আম বিক্রি করতে হবে। আর কয়টা দিন গেলেই এসব আম পরিপক্ক হয়ে যেত। রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক লতিফা হেলেন জানান, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টার পর রাজশাহীতে স্থল নি¤œচাপে পরিণত হয়। রাত ২টা ৫৫ মিনিট থেকে ২টা ৫৮ মিনিট পর্যন্ত বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিলো ঘণ্টায় ৫৯ কিলোমিটার। রাজশাহীতে ঘূর্ণিঝড়ের একধাপ নিচের মাত্রার ঝড় হয়েছে। সেইসঙ্গে বৃষ্টিপাতও হয়েছে। বুধবার ভোর ৬টা থেকে বৃহস্পতিবার ভোর ৬টা পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৮১ মিলিমিটার।
এদিকে আম্পানের প্রভাবে দমকা হাওয়া ও বৃষ্টিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জে আম ও বোরো ধানের ক্ষতি হয়েছে। তবে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির কোন খবর পাওয়া যায়নি। বুধবার সারাদিনই গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হয় এবং রাত দেড়টার দিকে দমকা হাওয়া শুরু হয়। চলে সকাল ৯টা পর্যন্ত। এতে শিবগঞ্জ উপজেলায় কিছু ছোট আমগাছ ভেঙে পড়ে আমের ক্ষতি হয়েছে। বোরো ক্ষেতেও ধানের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। এদিকে বুধবার রাত সাড়ে ১০টা থেকে জেলার কোথাও বিদ্যুৎ না থাকলেও বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে সীমিত আকারে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো: নজরুল ইসলাম জানান, আম্পানের প্রভাবে নাচোল, শিবগঞ্জ, গোমস্তাপুর ও ভোলাহাটে ৫ থেকে ৬ ভাগ আম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে পেঁপে ও কলার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া বৃষ্টির কারণে ধানগাছ নুইয়ে পড়লেও রোদ উঠলে সব ঠিক হয়ে যাবে বলে জানান তিনি।
অপরদিকে ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রভাব নওগাঁ জেলাসহ সীমান্তবর্তী সাপাহার ও পোরশা উপজেলার ওপর পড়েছে। বুধবার সারা রাত ধরে আম্পানের তান্ডবে সাপাহার ও পোরশার আম বাগানগুলোতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এই ঘূর্ণিঝড়ের তোড়ে সাপাহার ও পোরশায় বাগানে প্রচুর আম ঝরে পড়ায় ভোর হতে প্রতিটি বাগানে সাধারণ মানুষের আম কুড়ানোর ধুম পড়ে যায়। আম্পানের প্রভাবে বৃহস্পতিবার সারা দিন সূর্যের আলো দেখা মেলেনি। সারা দিন থেমে থেমে কখনও অঝর ধারায় আবার কখনও গুড়িগুড়ি বৃষ্টিপাত অব্যাহত ছিল। সাপাহার উপজেলার তছলিম উদ্দীন, মুমিনুল হক, দেলোয়ার হোসেন, শহজাহান আলীসহ অনেক আমচাষি জানান, আম্পানের এই আঘাতে প্রতিটি বাগানে প্রায় ৩০ শতাংশ আম মাটিতে ঝড়ে পড়েছে। এবারের ঝড়ে গাছ হতে সরেস বড় আকারের আমগুলোই ঝরে গেছে। বর্তমানে বাগানে এখন মাত্র ৪০ ভাগের মত আম রয়েছে। আম পরিপক্ক হওয়া পর্যন্ত আবহাওয়া আমচাষিদের অনুকূলে থাকলে এই ৪০ ভাগ আম চাষিদের ভাগ্য ফেরাতে পারে। তবে উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, আম্পানের প্রভাবে এবার সাপাহারে মাত্র ৩ ভাগ আমের ক্ষতি হয়েছে।