পোরশায় এবার ৮শ কোটি টাকা আম বেচাকেনা হবে 

BoguraProdip BoguraProdip
প্রকাশিত: ১১:৩৪ পিএম, ০৭ জুন ২০২১

পোরশা (নওগাঁ) প্রতিনিধি : নওগাঁর পোরশা উপজেলার বাতাসে বইছে এখন পাকা আমের মিষ্টি ঘ্রান। গাছে গাছে দেখা দিয়েছে বছরের শ্রেষ্ঠ ফল পাকা আম। এরই মধ্যে বাজারে উঠেছে ফরমালিনমুক্ত গাছ পাকা তরতাজা আম। 
এখন পাখিরা গাছের ডালে বসে রসালো পাকা পাকা আম খাচ্ছে, আর মোনের সুখে গাইছে প্রাণের গান। আম চাষী, ব্যবসায়ী, কৃষক, দিনমজুররা আম পাড়ায় ব্যস্ত। অনেকেই পরিবারের সকল সদস্যকে নিয়ে এক সঙ্গে বসে পাকা আম খাওয়ায় ব্যস্ত, আবার কেউ আত্মীয় স্বজনের বাসায় আম পাঠাতে ব্যস্ত।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, পোরশা উপজেলায় এ বছর আম চাষ হচ্ছে ১০ হাজার ৫২০ হেক্টর জমিতে। আর এবছর এ উপজেলায় প্রায় ৮শ কৌটি টাকার আম কেনা বেচা হবে।
নওগাঁ জেলা প্রশাসনের বেধে দেওয়া সময় অনুযায়ী গুটি জাতীয় আম গাছ থেকে নামানো শুরু হয়েছে গত মাসের ২০তারিখ, গোপালভোগ বা রানিপছন্দ আম নামানো শুরু হয়েছে একই মাসের ২৭তারিখ থেকে, খিরসাপাত বা হিমসাগর আম নামানো শুরু হয়েছে চলতি মাসের ২ তারিখ ও নাগ ফজলী আম ৪ তারিখ থেকে নামানো শুরু হয়েছে। আগামী ১০ তারিখ থেকে নামানো শুরু হবে আমের রাজা ল্যাংড়া, ২০ তারিখ ফজলী আম, ২২ তারিখ আমরূপালী, ৮ জুলাই আশ্বিনা, বারী-৪, এবং ঝিনুক জাতীয় আম। ইতোমধ্যে আমচাষী ও ব্যবসায়ীরা গাছ থেকে গুটি, গোপালভোগ ও খিরসাপাত আম গাছ থেকে নেমে বাজারে বিক্রি করা শুরু করেছেন।
উপজেলার বেশ কয়েকটি বাজারের আমের আড়ৎগুলোতে ঘুরে দেখা গেছে, ব্যাপকহারে আম বেচা-কেনা শুরু হয়েছে। কেউ আমের আড়তে আম নিয়ে এনে বিক্রি করছেন, কেউবা আবার গাছেই আম ঠিকায় (কনটাকে) বিক্রি করছেন। প্রতিদিন এ উপজেলার বিভিন্ন আড়ৎ থেকে প্রায় অর্ধ শতাধীক ট্রাকে করে দেশের বিভিন্ন শহর এবং এলাকায় আম রপ্তানী হচ্ছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।
গতকাল উপজেলার প্রাণকেন্দ্র সারাইগাছী বাজার, পোরশা সদর বাজার, তেঁতুলিয়া বাজার, নোচনাহার বাজার, ও বড়গ্রাম বাজারের আমের আড়ৎ ঘুরে                দেখা গেছে, গুটি জাতীয় আম বিক্রি হচ্ছে আকার ভেদে প্রতি মোন ৪শ থেকে শুরু করে ৮শ টাকা পর্যন্ত, গোপালভোগ আকার ভেদে মোন প্রতি ১১শ থেকে শুরু করে ১৩শ টাকা পর্যন্ত, খিরসাপাত আকার ভেদে মন প্রতি ১৩শ থেকে ১৬শ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হচ্ছে।
উপজেলার পোরশা সদরের আমচাষী মনিরুল হাসান জানান, এবছর সবার বাগানে আমের বাম্পার ফলন হচ্ছে। তবে আমের দাম তুলনামূল কম বলে তিনি মনে করছেন। 
উপজেলার সারাইগাছী বাজারের পাইকারী আম ব্যবসায়ী তামজিদ হাসান ও শরিফুল ইসলাম জানান, এ মুহূর্তে তাদের আড়তে প্রতিদিন গুটি, গোপালভোগ ও খিরসাপাত জাতীয় আম বেচা-কেনা হচ্ছে। আর ২দিন পরেই শুরু হবে ল্যাংড়া আম কেনা-বেচা। 
পোরশা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাহফুজ আলম জানান, এবারে আবহাওয়া ভাল থাকায় পোরশায় আমের ফলন অনেক ভাল হয়েছে। যেহেতু প্রশাসন কতৃক আম নামানোর সময় বেধে দেওয়া হয়েছে, সেহেতু আমে এখন আর ফরমালিন দেওয়ার কোন সুযোগ নেই বলে তিনি মনে করেন। কারন গাছে আম পাকার পর পরই আম নামানোর সময় বেধে দেওয়া হয়েছে। এ উপজেলার আম নিরাপদ বলে তিনি মন্তব্য করেন।