শিগগিরই খালেদা জিয়ার জামিন বৃদ্ধির আবেদন 

DhakaNANDI DhakaNANDI
প্রকাশিত: ০৯:৪১ পিএম, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২১

# ২৪ সেপ্টেম্বর শেষ হচ্ছে মুক্তির মেয়াদ

রাজকুমার নন্দী : বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শর্তসাপেক্ষ মুক্তির সময়সীমা শেষ হচ্ছে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর। এর আগেই নতুন আবেদনের প্রস্তুতি নিচ্ছে পরিবার। তবে এখন পর্যন্ত আবেদন করা হয়নি। জানা গেছে, অচিরেই খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যরা ফিরোজায় তার সাথে সাক্ষাত করবেন। এরপরই পরিবারের পক্ষ থেকে জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন করা হবে। বরাবর ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দার এই আবেদন করে থাকেন। তবে তিনি অচিরেই বিদেশ থেকে না ফিরলে এবার পরিবারের পক্ষে বেগম জিয়ার বড় বোন সেলিনা ইসলাম আবেদন করতে পারেন।

খালেদা জিয়ার জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সোমবার (০৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সেলিনা ইসলাম বলেন, বেগম খালেদা জিয়া হাসপাতাল থেকে বাসায় ফেরার পর তার সাথে এখনো পর্যন্ত সাক্ষাত হয়নি। ডাক্তারদের পরামর্শে আমরাও দেখা করতে যাচ্ছি না। তবে অচিরেই আমরা সাক্ষাত করব। তার (খালেদা জিয়া) সাথে কথা বলেই সে বিষয়ে (জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধি) আমরা আবেদনের সিদ্ধান্ত নেব। 

খালেদা জিয়ার একান্ত সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার সোমবার দৈনিক করতোয়াকে বলেন, আবেদন তো করতেই হবে। আশা করি, ২৪ সেপ্টেম্বরের আগেই পরিবারের পক্ষ থেকে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন করা হবে।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদন্ড দেন পুরান ঢাকার বকশীবাজার আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ আদালত। রায় ঘোষণার পর খালেদা জিয়াকে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে অবস্থিত পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রাখা হয়। এরপর ৩০ অক্টোবর এ মামলায় আপিলে তার আরও পাঁচ বছরের সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর করেন হাইকোর্ট। একই বছরের ২৯ অক্টোবর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়াকে সাত বছরের সশ্রম কারাদন্ডের আদেশ দেন একই আদালত। রায়ে সাত বছরের কারাদন্ড ছাড়াও খালেদা জিয়াকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদন্ডের আদেশ দেন আদালত। 

এর মধ্যে বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে দীর্ঘ দুই বছর পর নির্বাহী আদেশে দন্ড স্থগিত করে কারাবন্দি খালেদা জিয়াকে শর্তসাপেক্ষে ২০২০ সালের ২৫ মার্চ ছয় মাসের জন্য মুক্তি দেয় সরকার। তাকে দেশের অভ্যন্তরে বিশেষায়িত চিকিৎসা নেওয়ার শর্তে এ মুক্তি দেওয়া হয়। এই সময়ের মধ্যে তিনি দেশের বাইরে যেতে পারবেন না। কারা তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় বিএসএমএমইউ হাসপাতাল থেকে মুক্তি পান বেগম জিয়া। পরবর্তীতে পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারার উপধারা ১-এ সাজা স্থগিত দেখিয়ে তিন দফায় এই মুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হয়, যা শেষ হচ্ছে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর। 

এদিকে কারামুক্তির পর থেকে গুলশানের বাসভবন ফিরোজাতেই রয়েছেন খালেদা জিয়া। গত ১৪ এপ্রিল সেখানে তার করোনা শনাক্ত হয়। এরপর ২৭ এপ্রিল তাকে বসুন্ধরার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি ৯ মে করোনার সংক্রমণ থেকে সুস্থ হন। ৫৪ দিন পর গত ১৯ জুন হাসপাতাল থেকে ‘ফিরোজায়’ ফেরেন তিনি। তখন বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, খালেদা জিয়া করোনা থেকে মুক্ত হলেও আর্থ্রাইটিসসহ পুরোনো অনেকগুলো রোগের উপযুক্ত চিকিৎসা না হওয়ায় সেগুলোর জটিলতা বেড়েছে। এর মধ্যে হার্ট, কিডনি ও লিভারে সমস্যা তৈরি হয়েছে। তার পুরনো অসুখও রয়েছে। এসব রোগের উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে নেওয়া প্রয়োজন। তখন খালেদা জিয়ার বিদেশে উন্নত চিকিৎসার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে আবেদন করা হয়। কিন্তু এখনো অনুমতি পায়নি তারা।

খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা প্রসঙ্গে সেলিনা ইসলাম বলেন, আমরা যতদূর জেনেছি, এখনো তার শারীরিক অবস্থা খুবই দুর্বল। ঠিকমতো খেতে ও হাঁটতে পারে না। তাকে বিদেশে নিয়ে দ্রুত উন্নত চিকিৎসা দরকার। এ বিষয়ে আমরা আবেদন করলেও সরকার অনুমতি দিচ্ছে না। 

খালেদা জিয়ার চিকিৎসক টিমের অন্যতম সদস্য ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, ম্যাডামের শারীরিক জটিলতাগুলো আগের অবস্থাতেই রয়েছে। দুর্বলতা অনুভব করেন তিনি। মাঝে-মাঝে জ্বর আসছে। ডাক্তাররা নিয়মিত ওষুধ দিচ্ছেন। তিনি বলেন, কিছু টেস্ট বাসাতেই হচ্ছে। তবে কিডনি ও হার্টের চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে নেওয়া দরকার। 

শনিবার (০৪ সেপ্টেম্বর) রাতে ফিরোজায় খালেদা জিয়ার সাথে সৌজন্য সাক্ষাত করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী। খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা কেমন- জানতে চাইলে ড. দিলারা বলেন, উনি শারীরিকভাবে দুর্বল হলেও মানসিকভাবে খুব শক্ত আছেন এবং ব্রেইন খুব শার্প আছে। কিন্তু উনার চলাফেরার খুব কষ্ট হচ্ছে। উনি বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা করিয়ে আসতে পারলে খুব স্বস্তি পেতেন। উনার চলাফেরার খুব ব্যথা হয়। উনার পায়ে খুব ব্যথা হয়। এছাড়া জেলে থাকতে কিডনি, লিভারসহ আরও অনেক কিছুর সমস্যা হয়েছিল।