গোপালগঞ্জের ৩ গ্রামের এক হাজার পরিবার ১৫ বছর যাবৎ পানিবন্দী : ২০০ হেক্টর আবাদী জমির চাষাবাদ ব্যাহত

Staff Reporter Staff Reporter
প্রকাশিত: ০৫:৪৫ পিএম, ১৯ মে ২০২০

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি : গোপালগঞ্জের ৩টি গ্রামের অন্ততঃ এক হাজার পরিবার দীর্ঘ ১৫ বছর যাবত পানিবন্দী জীবনযাপন করছেন। সামান্য বৃষ্টিতে উঠানে পানি জমে। এমন কি চুলার মধ্যে পানি উঠে রান্না খাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ জলাবদ্ধতার কারণে তিন ফসলী জমিতে এখন ফসল ফলানোই দূরহ হয়ে পড়েছে। ওই সব গ্রামের পানি মাদারীপুর বিলরুট চ্যানেলে নামতে না পারায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান ভুক্তভোগীরা। তাই এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে গয়লাকান্দি খালের উৎস মুখে একটি স্লুইসগেট নির্মাণ দাবি করেছেন ওই তিন গ্রামের মানুষ।
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর ইউনিয়নের গোহালা ইউনিয়নের গয়লাকান্দি, গঙ্গারামপুর ও খালিয়া গ্রাম। এই তিন গ্রামে এক হাজার পরিবার বসবাস করেন। ব্রিটিশ আমলে মাদারীপুর বিলরুট চ্যানেল খননের সময় গোপালগঞ্জ থেকে টেকেরহাট পর্যন্ত বেড়ী বাধ নির্মাণ করা হয়। তখন গয়লাকান্দি খালের উৎসমুখ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে ওই তিন গ্রামের মানুষ পানিবন্দী হতে থাকে। এসব গ্রামে এক সময় তিন ফসল হতো। পানি অপসারণের কোন ব্যবস্থা না থাকায় এখন সামান্য বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। রাস্তাঘাট ও বাড়ির উঠানে পানি জমে থাকে, চুলায় পানি উঠে যায়। এতে সীমাহীন দূর্ভোগের মধ্যে রযেছে ওই তিন গ্রামের এক হাজার পরিবার। গয়লাকান্দি খালের উৎস মুখে একটি স্লুইচগেট নির্মাণ করলে এই জলাবদ্ধতার হাত থেকে রক্ষা পাবে এলাকার জনগণ। জমিতে আবার ফলবে ফসল, কৃষকের মুখে আবার ফুটবে হাসি।
ওই এলাকার কৃষক মো. আবুল হোসেন (৫৫), মো. হারেজ মাতুব্বর (৬৫), এনজেল শেখ  (৬২), মো.  বশির শেখসহ (৭০) কথা হয় অন্তত অর্ধশতাধিক কৃষকের সাথে। তারা জানায়, আমাদের এই এলাকায় এক সময়ে তিন ফসল হতো। এখানকার পানি সরকারি খালের মধ্যদিয়ে নদীতে গিয়ে পড়তো। মাদারীপুর বিলরুট চ্যানেল খননের সময় গোপালগঞ্জ থেকে টেকেরহাট পর্যন্ত বেড়ী বাধ নির্মাণ করা হয়। তখন গয়লাকান্দি খালের উৎসমুখ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে আমরা তিন গ্রামের মানুষ পানিবন্দী হতে থাকে। আগে এতটা জলাবদ্ধতা ছিলনা, পানি চলে যেত বিল এলাকায়। কিন্তু বর্তমানে এলাকায় বাড়িঘর রাস্তাঘাট, ইটভাটা হওয়ার ফলে কোনদিকেই পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেই। যে কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই আমাদের বাড়ির উঠানে, চুলায় পানি পানি জমে। গয়লাকান্দি খালের উৎস মুখে একটি স্লুইচগেট নির্মাণ করলে এই জলাবদ্ধতার হাত থেকে আমরা রক্ষা পাব। আমাদের এখানকার অনাবাদী জমিতে আবার ফলবে ফসল, ভালো থাকব আমরা।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি গোহালা ইউনিয়নের ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম মাতুব্বর বলেছেন, আমার এই ওয়ার্ডের মানুষ দীর্ঘ বছর জলাবদ্ধতার সমস্যায় ভুগছে। গয়লাকান্দি খালের উৎস মুখে একটি স্লুইচগেট নির্মাণ করার জন্য আমরা বার বার পানি উন্নয়ন বোর্ডে লিখিত আবেদন করেছি, কোন কাজ হয়নি। এখানকার কৃষক ও বাসিন্দাদের দীর্ঘ বছরের এই সমস্যা সমাধানের জন্য তিনি গয়লাকান্দি খালের উৎস মুখে একটি স্লুইচগেট নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
গোপালগঞ্জ জেলা কৃষি কর্মকর্তা ড. অরবিন্দ কুমার রায় বলেছেন, আমি আমার মুকসুদপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে দিয়ে ওই এলাকা পরিদর্শন করেছি। ওই এলাকায় জলাব্ধতার কারণে গয়লাকান্দি, গঙ্গারামপুর, খালিয়ার প্রায় দু’শ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের বাড়ির উঠানে, চুলায় পানি ঢুকে যায়। সেখানে পানি উন্নয়ন বোর্ডর একটি খাল রয়েছে, কিন্তু পার্শ্ববর্তী মাদারীপুর বিলরুট চ্যানেলের বেড়ীবাধে একটি স্লুইসগেট না থাকায় নদীতে পানি নিষ্কাশন হচ্ছে না এবং পানি প্রবেশও করতে পারছে না। নির্মাণ হলে এই জলাবদ্ধতা থাকবে না। আমি পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে কথা বলেছি, স্লুইচগেট নির্মাণের জন্য লিখিত অনুরোধ জানাব। আশা করছি পানি উন্নয়ন বোর্ড অচিরেই স্লুইসগেট নির্মাণ করবে।
গোপালগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী বিশ্বজিৎ বৈদ্য বলেছেন, ইতিমধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে একটি প্রকল্প তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এই প্রকল্পের মধ্যে এমবিআর চ্যানেলের বেড়ীবাধের গয়লাকান্দিতে স্লুইসগেট নির্মানের বিষয়টি রয়েছে। আশা করছি আমরা ওই এলাকায় স্লুইসগেট নির্মাণ করে বিষয়টি সমাধান করতে পারব।