ভেঙে দেওয়া হতে পারে যুবদলের কমিটি

DhakaNANDI DhakaNANDI
প্রকাশিত: ১০:০০ পিএম, ২৫ আগষ্ট ২০২১

রাজকুমার নন্দী : রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে বিএনপির তিন ‘নিউক্লিয়াস’ এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে জাতীয়তাবাদী যুবদল। কিন্তু দলের প্রধান এই অঙ্গ সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে চলছে মেয়াদোত্তীর্ণ আংশিক কমিটি দিয়ে। যুবদলের শীর্ষ নেতৃত্ব এখন ১১৪ সদস্যবিশিষ্ট আংশিক কমিটিকে পূর্ণাঙ্গ করার চেষ্টা করছেন। তবে এ ব্যাপারে বিএনপির হাইকমান্ড নেতিবাচক বলে জানা গেছে। এদিকে সাড়ে চার বছর পর গত শনিবার রাতে আকস্মিকভাবে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের আংশিক কমিটি বিলুপ্ত করে দুই সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। আর মহানগরে আহ্বায়ক কমিটি গঠনের কারণে কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠনের তাগিদও শুরু হয়েছে। জানা গেছে, ভবিষ্যৎ আন্দোলন-সংগ্রামকে সামনে রেখে যুবদল পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে যেকোনো সময় ভেঙে দেয়া হতে পারে কেন্দ্রীয় কমিটি। সেক্ষেত্রে নতুন আহ্বায়ক কিংবা আংশিক কমিটি গঠন করা হতে পারে। আর সেখানে যুবদলের বর্তমান কমিটি ছাড়াও বাইরে থেকেও নেতৃত্ব আসতে পারে।

জানা যায়, ২০১৭ সালের ১৬ জানুয়ারি সাইফুল আলম নীরবকে সভাপতি এবং সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে সাধারণ সম্পাদক করে যুবদলের সুপারফাইভ কমিটি ঘোষণা করা হয়। এক মাসের মধ্যে আংশিক কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার নির্দেশনা দেওয়া হলেও তা মানা হয়নি। মেয়াদ শেষ হওয়ার মাত্র এক মাস আগে ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে ২৭১ সদস্যের প্রস্তাবিত পূর্ণাঙ্গ কমিটি দলীয় ফোরামে জমা দেয় সংগঠনটি। পরবর্তীতে যাচাই-বাছাই অন্তে কমিটির মেয়াদ শেষে ২০২০ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি যুবদলের ১১৪ সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়।

এরপর উপজেলা-থানা-পৌর শাখার কমিটি গঠন তথা তৃণমূলে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করার লক্ষ্যে ওই বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি যুবদলের ১১টি সাংগঠনিক টিম গঠন করা হয়। যুবদলের দফতর সূত্রে জানা গেছে, এসব টিমের তত্ত্বাবধানে সারাদেশের ৯৩৫টি ইউনিটের (উপজেলা-থানা-পৌর) মধ্যে ইতোমধ্যে ৭০০টির বেশি শাখায় আহ্বায়ক কমিটি গঠিত হয়েছে। এছাড়া ১০০টির মতো কমিটি বর্তমানে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় দফতরে জমা রয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে অচিরেই এসব কমিটি ঘোষণা করা হবে। তবে এসব ইউনিট কমিটি গঠনে বাণিজ্যসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এদিকে ইউনিয়ন এবং মহানগরের ওয়ার্ড কমিটি গঠনের কাজও চলছে বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে সারাদেশে ৮২টি সাংগঠনিক জেলার প্রায় সবক’টিতেই পূর্ণাঙ্গ কমিটি রয়েছে। এর মধ্যে মাদারীপুর, ঝালকাঠি, বান্দরবান ও মানিকগঞ্জ জেলা কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। এই চার জেলায় আহ্বায়ক কমিটি গঠন নিয়ে কাজ চলছে। এছাড়া লালমনিরহাট, টাঙ্গাইল, সিলেট জেলা ও মহানগর এবং বরিশাল উত্তর জেলায় বর্তমানে আহ্বায়ক কমিটি রয়েছে। অন্যদিকে আংশিক কমিটি রয়েছে ভোলা, ময়মনসিংহ দক্ষিণ ও লক্ষ্মীপুর জেলায়। এই তিন জেলার সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক এখনো পূর্ণাঙ্গ কমিটি কেন্দ্রে জমা দেননি।  

জানা গেছে, যুবদলের কেউ কেউ বর্তমান আংশিক কেন্দ্রীয় কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার পক্ষে। তাদের যুক্তি, দীর্ঘদিন আন্দোলন-সংগ্রাম করলেও অনেকে এখনো পদ-পদবি পাননি। পূর্ণাঙ্গ কমিটি হলে পদায়নের মধ্য দিয়ে তাদের অনেকের কাজের মূল্যায়ন ও সাংগঠনিক পরিচয় নিশ্চিত হবে, যা তাদের ভবিষ্যৎ রাজনীতির পথকে সুন্দর করবে। তবে কারও কারও মতে, কেন্দ্রীয় আংশিক কমিটি ইতোমধ্যেই দেড় বছরের বেশি মেয়াদোত্তীর্ণ। পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করলে আরও সময়ক্ষেপণ হবে। তার চেয়ে নতুন কমিটি হলে সেটা সংগঠনের জন্য ইতিবাচক হবে। এতে করে সংগঠনে ‘প্রাণ’ আসবে। নেতাকর্মীদের মধ্যেও চাঙ্গাভাব তৈরি হবে।

দলের একটি সূত্রমতে, ভবিষ্যৎ আন্দোলন ও নির্বাচনের জন্য দলকে প্রস্তুত করতে আহ্বায়ক কমিটি গঠনের মাধ্যমে সংগঠনকে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন নীতি-নির্ধারকরা। সে কারণে অনেকের ধারণা, শিগগিরই যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটি বিলুপ্ত করে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যুবদলের আংশিক কমিটি পূর্ণাঙ্গ করতে হঠাৎই তোড়জোড় শুরু হয়েছে। সুপার ফাইভ নেতৃবৃন্দ এ নিয়ে কয়েকটি বৈঠকও করেছেন। জানা গেছে, দলীয় ফোরামে জমা দেওয়া প্রস্তাবিত পূর্ণাঙ্গ কমিটির কয়েকজন ইতোমধ্যে মারা গেছেন। এছাড়া প্রস্তাবিত কমিটিতে বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে থাকা ত্যাগী কয়েকজন নেতার নামও বাদ পড়েছে। পদক্রম বজায় রেখে তাদেরকে অন্তর্ভুক্ত করে যুবদলের প্রস্তাবিত সম্পূরক কমিটি (সম্পাদক, সহ-সম্পাদক এবং সদস্য) চলতি আগস্ট মাসের মধ্যেই দলীয় ফোরামে জমা দিতে চান শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।

এদিকে যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে পদপ্রত্যাশী নেতাদের আশা, তাদের সাংগঠনিক পরিচয় নিশ্চিতে বর্তমান আংশিক কমিটি অল্প কিছুদিনের জন্য হলেও পূর্ণাঙ্গ করা হবে। এরপর তা বিলুপ্ত করে নতুন কমিটি গঠন করা হবে।

জানতে চাইলে যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোরতাজুল করিম বাদরু দৈনিক করতোয়াকে বলেন, আমরা যুবদলের আংশিক কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার চেষ্টা করছি। নতুন কমিটির আলোচনা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কমিটি গঠন-পুনর্গঠন একটি চলমান প্রক্রিয়া। এক্ষেত্রে দলের হাইকমান্ড চাইলে যেকোনো সময় যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

জানা গেছে, কেন্দ্রীয় যুবদলের সম্ভাব্য নতুন কমিটির শীর্ষপদে অনেকের নাম নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। কারো কারো পক্ষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারণা শুরু হয়েছে। অনেকে আবার বিএনপির নীতিনির্ধারকদের দ্বারস্থ হচ্ছেন। নতুন কমিটিতে আহ্বায়ক/সভাপতি পদে আলোচনায় রয়েছেন যুবদলের বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, সিনিয়র সহ-সভাপতি মোরতাজুল করিম বাদরু ও সহ-সভাপতি আব্দুল খালেক হাওলাদার। অন্যদিকে সদস্য সচিব/সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় আছেন বর্তমান কমিটির সহ-সভাপতি মোনায়েম মুন্না, এসএম জাহাঙ্গীর (সদ্যবিলুপ্ত মহানগর উত্তরের সভাপতি), জাকির হোসেন নান্নু; সিনিয়র যুগ্ম-সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন, সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন হাসান, দফতর সম্পাদক কামরুজ্জামান দুলাল। এছাড়া ছাত্রদলের সাবেক দুই সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রশীদ হাবিব ও আকরামুল হাসান এবং সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আনিসুর রহমান তালুকদার খোকনের নামও আলোচনায় আছে। এর বাইরে দীর্ঘ ৩৬ মাস কারাভোগ করে সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া ছাত্রদলের আরেক সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইসহাক সরকারও আলোচনায় আছেন।

অন্যদিকে যুবদলের বাইরে থেকে সংগঠনের আহ্বায়ক হিসেবে আলোচনায় আছে বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানীর নাম।

এদিকে তুলনামূলক জুনিয়রদের দিয়ে আংশিক কমিটি হলে সেক্ষেত্রে শীর্ষপদে এসএম জাহাঙ্গীর, আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন, হাবিবুর রশীদ হাবিব, আকরামুল হাসান ও ইসহাক সরকার এগিয়ে থাকবেন।