চাঁপাইনবাবগঞ্জে অনাবৃষ্টি ও প্রচন্ড  দাবদাহে ঝরে পড়ছে গুটি আম

OnlineStaff OnlineStaff
প্রকাশিত: ০৬:৫৮ পিএম, ১৭ এপ্রিল ২০২১

জাকির হোসেন পিংকু,চাঁপাইনবাবগঞ্জ : চাঁপাইনবাবগঞ্জে চলমান টানা অনাবৃষ্টি আর দাবদাহে অনবরত ঝরে পড়ছে গুটি আম। চিন্তায় কপালে ভাঁজ পড়েছে আমচাষী,ব্যবসায়ী ও কৃষি কর্মকর্তাদের। কিন্তু প্রকৃতির কাছে অসহায় সকলেই। জেলার প্রধান অর্থকরী ফসল আম বাঁচাতে এখন প্রয়োজন প্রবল বৃষ্টি। কৃষি কর্মীরা অনেক দিন থেকে চাষীদের পরামর্শ দিচ্ছেন গাছের গোড়ায় সেচ ব্যবস্থার। এতে কিছুটা হলেও রক্ষা হবে।গতকাল শনিবার বিকেলে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নজরুল ইসলাম বলেন, টানা খরা আমের জন্য ক্ষতির পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে। এমন অবস্থা থেকে রক্ষার জন্য শুধু গাছের গোড়ায় সেচ দিলেই হবে না,প্রয়োজন পুরো গাছ পানির ঝাপটা দিয়ে ভেজানো। তবে বাস্তবে এমনভাবে আম রক্ষা করা প্রায় অসম্ভব। জেলায় ৩৪ হাজার ৭৩৮ হেক্টর জমির আম গাছ এভাবে বাঁচানো সম্ভব নয়। বিরুপ আবহাওয়ায় মানুষের নিজেদের স্বাভাবিক চলাফেরা বন্ধ প্রায়। চলছে রমজান মাস। এর ওপর রয়েছে চলমান করোনা সংকট ও লকডাউন। নেমে গেছে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর। চাষীদের আর্থিক সমস্যা রয়েছে। এক সাথে এত সমস্যা মোকাবেলা করে বিপুল পরিমাণ জমির আমগাছের আম কৃত্রিমভাবে দীর্ঘদিন রক্ষা করা সম্ভব নয়। 

উপপরিচালক বলেন, গত শুক্রবার ঢাকায় বৃষ্টি হয়েছে। বিগত কয়েকদিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি হলেও সম্পূর্ণ বৃষ্টিহীন চাঁপাইনবাবগঞ্জ। তবে আশার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, কৃষি আবহাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে ,১৮ এপ্রিল থেকে এ অঞ্চলে হালকা বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন,গত বছরের ৯ অক্টোবর জেলায় ৯৯ মি.মি. বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। টানা সাতদিনের বৃষ্টিপাতের সেদিন ছিল শেষ দিন। এরপর জেলায় ৬ মাস পেরিয়ে ৭ মাস চলছে রেকর্ড করার মত কোন বৃষ্টিপাত ঘটেনি। জেলায় প্রায় ৯৫ শতাংশ গাছে মুকুল আসার পর এবার আড়াই লাখ টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ হয়েছে।সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সলেহ আকরাম বলেন, দীর্ঘ এই অনাবৃষ্টি জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঘটছে এমনটি চট করে বলার উপায় নেই। একটি অঞ্চল নিয়ে জলবায়ু নিয়ে কাজ করা স্বীকৃত কোন প্রতিষ্ঠান দীর্ঘ গবেষণার পরই জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ওই অঞ্চলের কোন আবহাওয়াগত পরিবর্তনের কথা বলতে পারে। তবে তিনি বলেন,নদনদী শুকিয়ে যাচ্ছে। বাতাসে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে আবহাওয়া গরম হচ্ছে এমন সব জলবায়ুগত তথ্য ইতিমধ্যে জানা গেছে। তিনি বলেন, অনবৃষ্টির কারণে আমের গুটি ঝরে যাওয়া ঠেকাতে গাছের গোড়ায় সেচের পাশাপাশি প্রতি ১০ লিটার পানিতে ৬০ গ্রাম ইউরিয়া গুলে স্প্রে করা যেতে পারে। তিনি আরও বলেন,জেলায় গরম লু হাওয়া বয়ে যাচ্ছে। এতে শুধু আম নয়, ইরি-বোরো ধানও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ২ শতাংশ পর্যন্ত ধান আদ্রতার অভাবে পরাগায়ন ঠিকমত না হবার কারণে চিটা হয়ে যেতে পারে।

সদর উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা  আব্দুল মতিন বলেন, প্রচুর গুটি আম ঝরে যাচ্ছে। এরপরও গাছে এ মৌসুমে যে পরিমাণ আম রয়েছে তাতে ২/১ দিনের মধ্যে ভাল বৃষ্টি হলে ক্ষতি পূষিয়ে নেয়া যাবে। অন্যথায়  আমের বড় ধরণের ক্ষতি হতে পারে। তিনি বলেন, গত শুক্রবার দিবাগত রাতে ঝড়ো হাওয়া ও গত ৪ এপ্রিল ধুলিঝড়ে প্রচুর আম ঝরে গেছে। সেদিন জেলার কোথাও কোথাও সামান্য বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টি হয়। তবে গত ১১’এপ্রিল রাতে বহুদিন পর জেলায় এক পশলা বৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু তা এত সামান্য যে, তাতে তেমন কোন উপকার বয়ে আনেনি। আব্দুল মতিন বলেন, যাদের জমিতে ডিপ টিউবওয়েল,পৃকুর,সেচ ক্যানাল রয়েছে অথবা জমি খাঁড়ি,জলাশয় বা নদীর কাছাকাছি তাদের অনেকে আম বাঁচাতে সেচ দিচ্ছেন। তিনি বলেন,প্রখর রৌদ্রতাপের কারণে দিনে আম বেশি ঝরছে। জেলায় এ মৌসুমে এখনও কাল বৈশাখী আঘাত করেনি। কৃষকরা বৃষ্টিহীনতার কারণে শক্ত না হওয়া আমের বোঁটা জোরাল বাতাস সহ্য করতে পারবে না এই শঙ্কায় রয়েছেন। তাদের আরেকটি ভয় শিলাবৃষ্টি। হঠাৎ ঝড় আমগাছকে প্রায় ফাঁকা করে দিতে পারে।