আবারও শুকিয়ে মরা খালে পরিণত আত্রাই নদী

OnlineStaff OnlineStaff
প্রকাশিত: ০৯:৪৪ পিএম, ১৬ এপ্রিল ২০২১

মান্দা (নওগাঁ) প্রতিনিধি: ভরাট হয়ে গেছে এক সময়ের খর¯্রােতা আত্রাই নদীর তলদেশ। উত্তাল নদী এখন শুধু নামেই। বাস্তবে পরিণত হয়েছে মরা খালে। খরা মৌসুম শুরু হলেই নদীটির পানি হু-হু করে কমতে থাকে। চৈত্র ও বৈশাখ মাসে এর পানি কমে চলে আসে হাটুর নিচে। এসময় এলাকার মানুষ হেঁটেই পারাপার হন নদী। তবে এবারের খরা মৌসুমে বৃষ্টিপাত না থাকায় নদীটি শুকিয়ে যাওয়ার শঙ্কা দেখা দেয়। গত মঙ্গলবার থেকে পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পাঁচ বারের মতো শুকিয়ে গেল নদী। অচিরেই খনন বা ড্রেজিং করা না হলে মানচিত্র থেকে নদীটির অস্তিত্ব হারিয়ে যাবে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের। 
এলাকাবাসী জানান, ভারতের হিমালয়ের পাদদেশ থেকে নদীটির উৎপত্তি। এরপর ভারতের পশ্চিম দিনাজপুর হয়ে নদী বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। প্রত্যেক খরা মৌসুমে ভারতের অভ্যন্তরে বাঁধ দিয়ে পানি প্রত্যাহার করে নেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজন শেষে বাঁধ কেটে দিলে নদীর পানি প্রবাহ আবারও স্বাভাবিক হয়ে যায়। বারবার বাঁধ দেওয়ার কারণেই ক্রমান্বয়ে নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে যাচ্ছে। এ কারণে প্রতি বছর খরা মৌসুমে নদীটি শুকিয়ে যাওয়ার শঙ্কা থেকেই যায়। নব্বইয়ের দশক থেকে ক্রমেই যৌবন হারাতে বসে নদী। এখন অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে নদীটির আর হারানোর কিছুই নেই। সরু মরা খালে পরিণত হয়ে ঠাঁই দাঁড়িয়ে রয়েছে। ফলে নদীকে অবলম্বন করে বেঁচে থাকা অসংখ্য মানুষ বেকার হয়ে পড়েছেন। জীবিকার সন্ধানে নদী সংলগ্ন ও আশপাশের এলাকার অসংখ্য জেলে পরিবারের বসতি গড়ে উঠেছিল। ছোট-বড় নানা প্রজাতির মাছের অফুরন্ত উৎস ছিল এই নদী। মাছ পাওয়া যেত বছরজুড়ে। জীবিকার জন্য মাছের আশায় জেলেরা রাতদিন ডিঙি নৌকায় জাল দড়ি নিয়ে চষে বেড়াতেন নদীর এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে। ধরা পড়তো প্রচুর মাছ। সেই সোনালী দিন শেষ হয়ে গেছে অনেক আগেই। সময় গড়িয়ে চলার সঙ্গে সঙ্গে সেই ভরা যৌবনা নদী এখন মরা খালে পরিণত হওয়ায় আত্রাইকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা অনেক হাটবাজার এখন হয়েছে বিরান অঞ্চল। কৃষি জমিগুলো পরিণত হয়েছে ধুধু প্রান্তরে। জেলে পরিবারগুলোতে নেমে এসেছে দুর্দিন। এক সময়ের ব্যবসা বাণিজ্যের উৎসগুলো হয়ে গেছে চিরতরে বন্ধ। 
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ড্রেজিং ও রক্ষণাবেক্ষণের উদ্যোগ না নেওয়ায় নদীটির অস্তিত্ব বিলীন হতে চলেছে। সরকারের নজর না থাকার সুযোগে এক শ্রেণির দখলবাজ নদীটির অনেকস্থান দখলে নিয়ে খুশিমতো ভরাট করছে। অনেকে আবার বর্জ্য ফেলে দূষণ ও ভরাট অব্যাহত রেখেছে। একই সঙ্গে চলছে অপরিকল্পিতভাবে যত্রতত্র বালু উত্তোলন ও পাড় কেটে মাটি বিক্রির প্রতিযোগিতা। এতে হারিয়ে যাবার উপক্রম হয়েছে নদীটির অস্তিত্ব। অচিরেই ব্যবস্থা নেওয়া না হলে মানচিত্র থেকে মুছে যাবে এক সময়ের খরস্রোতা এই নদীটির নাম। এতে উপজেলার অন্তত ৫ হাজার হেক্টর জমির ফসল উৎপাদন ব্যাহত হবে। হুমকির মুখে পড়বে এলাকার জীববৈচিত্র্য।