শিল্পকর্মে নান্দনিকতা ঐতিহাসিক ৭টি আন্দোলনের এক স্বাধীনতা স্তম্ভ

প্রকাশিত: মার্চ ২৩, ২০২১, ০২:০৪ রাত
আপডেট: মার্চ ২৩, ২০২১, ০২:০৪ রাত
আমাদেরকে ফলো করুন

কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি : সবুজ জমিতে লাল আর ছাই বর্ণের গ্রানাইট পাথরের শিল্পকর্মটি দূরে থেকে মনে হবে এটি একটি জলে ফোঁটা শাপালা। অনেকে আবার মনে করবে নদীতে একটি পাল তোলা নৌকা ভাসছে। দূর থেকে অনেকটা পাল তোলা নৌকা আর শাপলা ফুলের মতোই দেখতে। যে যাই ভাবুক এই শিল্প কর্মের ঠিক মাঝখানে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের মূলমন্ত্র যাকে বলা হয় সেই ১৯৭১ সালের ৭ মার্চে রেসকোর্স ময়দানে দেয়া জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণ ‘‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম’’। 

৩২ ফুট দৈর্ঘ, ৩২ ফুট প্রস্থ ও ২০ ফুট উচ্চতার সুবিশাল নৌকা ও শাপলার সমন্বয়ে তৈরি করা হয়েছে মুক্তি সংগ্রামের স্মারক স্বাধীনতা স্তম্ভ। লাল বর্ণের গ্রানাইট পাথরে জাতির জনকের ভাষণের মূল কর্মের বাঁ দিকে তৈরি করা ছাই বর্ণের গ্রানাইট পাথরের তিনটি ক্যানভাসই যেনো সাক্ষ্য দিচ্ছে ৫৪’র যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ৬২’র শিক্ষা আন্দোলন ও ৬৯’র গণঅভ্যুত্থান। শিল্পকর্মের নান্দনিকতায় একই ভাবে মূল কর্মের ডান দিকে বর্ণনা করা হয়েছে ৫২’র ভাষা আন্দোলন, ৫৬’র শাসনতন্ত্র আন্দোলন ও ৬৬’র ৬ দফা আন্দোলনের। লাল বর্ণের গ্রানাইট পাথরে জাতির জনকের ভাষণের মূল কর্মের দু’পাশের ছয়টি ক্যানভাসই যেনো সাক্ষ্য দিচ্ছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের আগের ঐতিহাসিক সব ঘটনার। পুরো স্বাধীনতা স্তম্ভটির ডিজাইন করেছেন পাভেল আহমেদ। 

গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সামনে গণতন্ত্রের অধিকার প্রতিষ্ঠার মানুষ শহীদ ময়েজ উদ্দিন সড়কের পাশের্^ স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শিবলী সাদিক বাস্তবায়ন করেছেন ‘স্বাধীনতা স্তম্ভ’ নামে এই স্মৃতির মিনার। প্রায় এক বছর সময় নিয়ে তৈরি করা ‘স্বাধীনতা স্তম্ভ’ সৌধটি উদ্বোধন করছেন আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মেহের আফরোজ চুমকি এমপি। এ সময় গাজীপুর জেলা প্রশাসক এস.এম তরিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। 
স্বাধীনতা স্তম্ভের ডিজাইনার পাভেল আহমেদ বলেন, ইউএনও শিবলী সাদিকের মূল ধারণার ওপর ভিত্তি করেই এটি তৈরি করা হয়েছে। গ্রানাইট পাথরের একটি শক্তিশালী কাঠামোতে তৈরি করা হয়েছে স্বাধীনতা স্তম্ভ। গ্রানাইট পাথরের উপর এসএস দিয়ে লেখা হয়েছে স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ মোট ৭টি আন্দোলনের কথা। সন্ধ্যা হলেই ঝলমলে হয়ে উঠবে পুরো স্তম্ভটি। স্তম্ভের চারপাশে ঘেরা এসএস পাইপে। সড়কে চলার পথে যে কোনো পথচারির দৃষ্টি কাড়বে এ স্বাধীনতা স্তম্ভ। 

কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শিবলী সাদিক বলেন, পরবর্তী প্রজন্মের কাছে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সম্প্রসারিত করা, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলনের ঐতিহাসিক বার্তা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই সৌধটি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছি। প্রায় এক বছর আগে শুরু হওয়া সৌধটি উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নিজেই নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করেছি। ইউএনও শিবলী সাদিক আরও বলেন, ১৯ মার্চ এই গাজীপুরেই প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলে ছিলেন এখানকার বীর জনতা। ভাওয়ালের এই মাটিতে জন্মে ছিলেন তাজউদ্দীন আহমদ, ময়েজউদ্দিন, আহসান উল্লাহ মাস্টার, শহীদ হযরত, শহীদ নিয়ামত, শহীদ মনো খলিফা। কালীগঞ্জের মাটিতে একটি স্বাধীনতা স্তম্ভ নির্মাণ করতে পেরে সত্যি নিজেকে আজ দায়মুক্ত লাগছে। 

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়