ঈদ উপলক্ষে লাচ্ছা-সেমাইয়ের খাঁচি তৈরিতে ব্যস্ত কারিগররা

Staff Reporter Staff Reporter
প্রকাশিত: ০৬:২৮ পিএম, ১৬ মে ২০২০

রফিকুল আলম, ধুনট (বগুড়া): ঘরে ঘরে করোনার শঙ্কা। এলাকাজুড়ে চলছে লকডাউন। সামাজিক দূরত্ব মানার বিধান। এ সব বাধা মাড়িয়ে ঈদের বাজার ধরতে চাঙ্গা কারিগররা। কেউ বাঁশ কাটছেন, কেউ তৈরি করছেন বাঁশের চটি, তাদের হাতের ছোঁয়ায় তৈরি হচ্ছে খাঁচি। রাস্তার পাশে, বাড়ির আঙিনায়, ঘরের বারান্দায় কিংবা বাড়ির পাশে ফাঁকা জায়গায় বসে আপন মনে খাঁচি তৈরিতে ঝুঁকে পড়েছেন।ঈদ সামনে রেখে লাচ্ছা-সেমাইয়ের খাঁচি তৈরির কাজে এভাবেই ব্যস্ত সময় পার করছেন বগুড়ার ধুনট উপজেলার ২০ গ্রামের বাঁশ শিল্পের সাথে জড়িত কমপক্ষে ৫ হাজার কারিগর। সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার প্রতিটি দোকানে লাচ্ছা সেমাই রাখার জন্য ব্যবহার হয় বাঁশের তৈরি খাঁচি। তাই কারিগররা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বাঁশের তৈরি খাঁচি বানাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। খাঁচির কারিগরদের ঈদের বাজার ধরার টার্গেটকে মাথায় রেখে কাজ করতে হচ্ছে।

পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও গৃহস্থালির কাজ সম্পন্ন করে এ কাজে সহায়তা করছেন। জানা যায়, উপজেলার পাকুড়িহাটা, নলডাঙ্গা, কান্দুনিয়া, দাঁড়াকাটা, চালাপাড়া, বেলকুচি ও বাঁশহাটাসহ ২০ গ্রামের মানুষের জীবিকার পথ বাঁশের সামগ্রী তৈরি করা। তবে এখানে সবচেয়ে বেশি চাহিদা বাঁশের তৈরি চাটাই। ঘরে ঘরে আছে চাটাই তৈরির নানা উপকরণ। প্রতিটি পরিবারই এই শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে বাঁশ চাষ করেন। বাঁশ দিয়ে শুধু চাটাই নয়। এখানে আরও তৈরি হয় খলপা, চাটাই, ডোল, খালই, হোচা, বিছন বা হাত পাখা, খাঁচি বা টোপাসহ নানা সামগ্রী।

বর্তমানে ঈদ সামনে রেখে লাচ্ছা-সেমাই কারখানার মালিকদের চাহিদা মেটাতে খাঁচি তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কারিগরদের যেন সামান্য কথা বলারও ফুসরত নেই। তারা বাঁশ দিয়ে একই আকারের খাঁচি তৈরি করছেন। চালাপাড়া গ্রামের খঁচি তৈরির কারিগর মোকলেসুর রহমান বলেন, ভাল মানের একটি বাঁশ দিয়ে তিন চারটি খাঁচি তৈরি করা যায়। এক জন দক্ষ কারিগর দৈনিক চার পাঁচটি করে খাঁচি তৈরী করেন। প্রতিটি খাঁচির পাইকারী মূল্য ৪০ থেকে ৪৫ টাকা।