এবারও বিদেশে আম রফতানি নিয়ে দুশ্চিন্তায় চাষিরা

Staff Reporter Staff Reporter
প্রকাশিত: ০৪:২৪ পিএম, ১৬ মে ২০২০

মাইনুল হাসান জনি, রাজশাহী : এবারো বিদেশে আম রফতানি নিয়ে দুশ্চিন্তায় চাষিরা। নিরাপদ, বালাইমুক্ত আম উৎপাদন করে গত বছরও কাঙ্খিত লক্ষ্যমাত্রায় বিদেশে রফতানি করতে পারেননি রাজশাহীর বেশিরভাগ আম চাষি। বিদেশের বাজার ধরতে চলতি বছরেও বেশ কয়েকজন চাষি ব্যাগিং পদ্ধতিতে আম উৎপাদন করেছেন। তবে করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে সম্পূর্ণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে আম রফতানি।জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শামসুল হক বলেন, এবার বিমান বন্ধ। আম রফতানির কি যে হবে তা বুঝতে পারছি না! বিদেশে আম রফতানি করতে চান, এমন কোনো ব্যবসায়ী এ পর্যন্ত আমাদের সাথে যোগাযোগ করেননি। তবে আমরা নিজেদের প্রস্তুত রাখছি। বেশ কয়েকজন চাষি উন্নত প্রযুক্তিতে আম উৎপাদন করছেন। পরিস্থিতি কোন দিকে যায় তা আর ক’দিন পর বোঝা যাবে। বিদেশে রফতানির জন্য জেলায় এবার এক লাখ ১৫ হাজার আম ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতিতে চাষ করার লক্ষ্যমাত্রা ধরেছে কৃষি বিভাগ। এর মধ্যে বাঘা উপজেলার পাকুড়িয়া এলাকায় শফিকুল ইসলাম সানা নামের এক চাষি ১০ হাজার আমে ব্যাগিং করেছেন। পবার হরিপুর, কসবা এবং রাজশাহী নগরীর জিন্নাহনগরেও কিছু আম ব্যাগিং করা হয়েছে।

 কিন্তু অতিরিক্ত টাকা খরচ করে বেশি পরিমাণ আমে ব্যাগিং করার সাহস পাচ্ছেন না তারা। জিন্নাহনগরে ১০ হাজার খিরসাপাতি ও ল্যাংড়া আমে ব্যাগিং করেছেন রাজশাহী এগ্রো ফুড প্রডিউসার সোসাইটির আহ্বায়ক আনোয়ারুল হক। তিনি বলেন, এখনও পর্যন্ত রফতানিকারক কোনো প্রতিষ্ঠান আমাদের সাথে যোগাযোগ করেননি। তারপরেও উন্নত প্রযুক্তিতে নিরাপদ ও বালাইমুক্ত কিছু আম উৎপাদন করছি। বিদেশে পাঠাতে না পারলেও দেশেই যদি ঠিকমতো আম বাজারজাত করা যায় তাহলে হয়তো লোকসান হবে না। গত বছর ৪০ হাজার আমে ব্যাগিং করেছিলেন আনোয়ারুল হক। কিন্তু বিদেশে আম পাঠাতে পারেননি।

 বাধ্য হয়ে দেশের বাজারেই ব্যাগিং করা ৪০ হাজার আম ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেন। আনোয়ারুল বলেন, সর্বশেষ ২০১৬ ও ২০১৭ সালে ঠিকঠাকমতো আম ইউরোপের বাজারে পাঠানো সম্ভব হয়েছিল। ২০১৮ এবং ২০১৯ সালে ঢাকায় প্ল্যান্ট কোয়ারেন্টাইন উইং সেন্ট্রাল প্যাকিং হাউসে কোয়ারেন্টাইনের নামে খুব কড়াকড়ি শুরু হয়। ফলে তারা আম পাঠাতে পারেননি। এবারও করোনার কারণে হয়তো পারবেন না। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শামসুল হক বলেন, গতবার  ৩৬ মেট্রিক টন আম পাঠানো সম্ভব হয়েছিল। এবার কি হবে তা এখনই বলা যাচ্ছে না। তবে চাষিরা ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতিতে আম চাষ করছেন।