শেষ মুহূর্তে সরগরম হয়ে উঠেছে বগুড়ার সেমাইপল্লী

Staff Reporter Staff Reporter
প্রকাশিত: ০৬:০১ পিএম, ১৫ মে ২০২০

হাফিজা বিনা ঃ করোনার প্রভাব পড়েছে বগুড়ার ঐতিহ্যবাহী চিকন সেমাই পল্লীতেও। প্রতিবছর শবে বরাতের পর থেকেই বগুড়া শহরের উপকন্ঠে সেমাই পল্লীর শতাধিক কারখানা সরগরম হয়ে ওঠে । কিন্তু এবার চিত্রটা অনেকটাই ভিন্ন। করোনায় বাজারজাতকরণের সমস্যায় মালিকরা তাদের মেশিন বন্ধ রেখেছিলেন। শেষ মুহূর্তে তারা কাজ শুরু করলেও এবার বাইরে যাচ্ছে না বগুড়ার বিখ্যাত  চিকন সেমাই। ফলে এরসাথে সংশ্লিষ্ট ৪ শতাধিক নারী শ্রমিক ও শতাধিক কারখানার মালিক প্রায় কর্মহীন হয়ে পড়েন। গত কয়েকদিন হলো নানা দ্বিধা- শংকায় ও শ্রমিকদের চাপাচাপিতে আবারও প্রাণ ফিরে পেতে শুরু করেছে বগুড়ার সেমাই পল্লী মেশিন ও নারী শ্রকিকদের ব্যস্ততায়। রমজানের শেষ মুহূর্তে  বন্ধ থাকা বেশকিছু কারখানায় নারী শ্রমিক বিদ্যুৎ ও হস্তচালিত সেমাইকলে সেমাই তৈরি  এবং তা রোদে শুকানো ও প্যাকেটজাত করার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।

সেমাইপল্লীর একাধিক স্থায়ী এবং মোসুমী ব্যবসায়ীর  সাথে কথা বলে জানা গেছে  ঈদ সামনে রেখে এখানে প্রতিদিন গড়ে ৫০-৬০ টন সেমাই উৎপাদন হতো। রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলের পাইকারি ব্যবসায়ীরা এসব সেমাই নিয়ে যেতেন। কিন্তু এবার করোনার কারণে ভরা মৌসুমে তাদের হাত গুটিয়ে বসে থাকতে হয়েছে। তারা জানান, ময়দার দাম এবং আবহাওয়া তাদের অনুকূলে থাকলেও বাইরের পাইকাররা না আসায় তারা কোটি টাকার ক্ষতির সম্মূখীন হয়েছেন। সেমাই পল্লীটি গড়ে উঠেছে বগুড়া শহরের পূর্বে বেজোড়া, ঘাটপাড়া, শেওলাগাতি, কালিসামাটি, শ্যামবাড়িয়া, রবিবাড়িয়াসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামে । ঢাকার অনেক নামীদামি কোম্পানি সারা বছর অর্ডার দিয়ে তাদের কাছ থেকে চিকন সেমাই তৈরি করে নিলেও রমজান মাস ও ঈদুল ফিতরের সময় এটি সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়। রবিবাড়িয়া এলাকার বাইপাস রাস্তার পাশেই বাবুর চাতাল।

 সারাবছর এখানে চাতালের কাজ হলেও  ঈদ উপলক্ষে বদলে যায় চাতালের চেহারা। শুরু হয় চিকন সেমাই তৈরি, শুকানো ও বাজারজাত করণের কাজ। তিনি জানান, করোনায় বাজারজাতকরণের সমস্যার কারণে এবার সেমাই তৈরি করতে আগ্রহী ছিলেন না। তবে নারী শ্রমিকদের রুটি রুজির কথা মাথায় রেখে মানবিক কারণে গত কয়েকদিন হলো আবার ৭ জন শ্রমিককে নিয়ে কাজ শুরু করেছেন।  তিনি  আরও জানান, এবছর ব্যবসা নাই।  বগুড়ার বাইরেও পণ্য যাচ্ছে না। একই কথা বললেন বেজোড়া এলাকার শ্যামলাকাতি এলাকার মৌসুমী ব্যবসায়ী ইউনুস।  তিনি বলেন , এবার বগুড়ার চিকন সেমাই বগুড়ার বাইরে যাচ্ছে না করোনার কারণে। ব্যবসাও সীমিত আকারে চলছে।  

আবহাওয়া অনূকূলে থাকলেও এবার করোনা ব্যবসা খেয়ে ফেলেছে। তিনি আরও বলেন কারখানা থেকে  প্রতি কেজি সেমাই ৩৮টাকা থেকে ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গতবছরের চেয়ে এবার ময়দার দাম বেড়েছে। সব মিলিয়ে এই ক’দিনে কাজ করে শুধুমাত্র ব্যবসাটা টিকিয়ে রাখা আর কি। রবিবাড়িয়ার একটি সেমাই কারখানায় কাজ করছিলেন স্বপ্না, বেগুনী, মনোয়ারাসহ আরও চারজন কারিগর। তারা  বলেন, প্রতিবছর শবে বরাতের পর থেকেই সব কারখানায় কাজ শুরু হয়। ঈদ উপলক্ষে দেড় থেকে দুই মাস কারখানায় কাজ হয়। এ কাজ করে তারা প্রতিদিন গড়ে ২শ’ টাকা পান। এবার কাজ ছিল না। গত সপ্তাহ থেকে শুরু হয়েছে। অনেকদিন বাড়িতে বসে খেয়ে না খেয়ে কেটেছে। এখন অন্তত খাওয়াটা জুটছে।