নাটোরে হাঁসের ডিমের হালি ২৪ টাকা লোকসানের মুখে খামারিরা

Staff Reporter Staff Reporter
প্রকাশিত: ০৫:৫৬ পিএম, ১৫ মে ২০২০

নাটোর প্রতিনিধি : করোনা পরিস্থিতিতে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় নাটোরের চলনবিলসহ সকল উপজেলায় হাঁসের ডিমের দাম অর্ধেকে নেমে এসেছে। বর্তমানে এক হালি ডিম ২৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এতে লোকসানের মুখে পড়ছে এসব এলাকার কয়েকশ’ খামারি।তবে ডিমের দাম কম হওয়ায় খুশি সাধারণ ক্রেতারা। কারণ বাজারে মাছের দাম আকাশ ছোঁয়া। তাই মাছের পরিবর্তে ডিম দিয়েই চাহিদা মেটাচ্ছেন তারা।

খামারিরা জানায়, চলনবিল  ও হালতিবিলসহ সকল উপজেলায় উন্মুক্ত জলাশয়ে পাঁচ শতাধিক হাঁসের খামার রয়েছে। তবে চলনবিল এলাকাতেই রয়েছে দেড় শতাধিক হাঁসের খামার। এসব খামার থেকে প্রতিদিন প্রায় লক্ষাধিক ডিম উৎপাদিত হয়। এসব ডিম আগে ৫০ টাকা হালিতে বিক্রি হয়েছে। কিন্তু  করোনার কারণে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় ডিম বাজারজাত করতে পারছেন না। আগে পাইকাররা এসে ডিম কিনে নিয়ে যেতো। আর ক্রেতার অভাবে চাহিদা অনুযায়ী ডিম বিক্রি করতে পারছেন না খামারিরা। ডিমের পচন ঠেকাতে লোকসান দিয়ে হলেও কম দামে ডিম বিক্রি করছেন তারা।

সিংড়ার শহরবাড়ি গ্রামের হাঁসের খামারি রিপন ও উজ্জল হোসেন জানান, চলনবিল গেট সংলগ্ন ডিমের আড়তে তারা সপ্তাহে দু’দিন ডিম বিক্রি করেন। আগে প্রতি হাটেই ৪৫ থেকে ৫০ টাকা হালিতে ডিম বিক্রি করেছেন তারা। এখন করোনার কারণে আড়তে ক্রেতা নেই। তাই বাধ্য হয়ে অর্ধেক দামে ডিম বিক্রি করছেন তারা। এতে তাদের খরচের টাকাই উঠছে না। ডিম ক্রেতা বালুয়া বাসুয়া মহল্লার রানা আহমেদ জানান, এতো কম দামে পাওয়ায় তিনি বাড়ির জন্য ১২০টি হাঁসের ডিম কিনেছেন। ডিমের আড়তের মালিক রুহুল আমিন জানান, করোনার কারণে পরিবহন স্বল্পতায় পাইকাররা আসছে না। তাছাড়া অনেক দোকানও বন্ধ রয়েছে। ডিম সময়মত বাজারজাত করতে না পারলে খামারিদের লোকসান গুনতে হবে। এতে খামার মালিকরা নিরুৎসাহিত হবে। তাই সরকারিভাবে ডিম বাজারজাতকরণে ব্যবস্থা করা জরুরি।