ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রতিবন্ধী দুই সন্তান নিয়ে হাসিনা বেগমের সংগ্রামী জীবন

Staff Reporter Staff Reporter
প্রকাশিত: ১০:১০ এএম, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২১

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার অরুয়াইল ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চল রাজাপুর গ্রামের চক বাজারে চিতই পিঠা বানিয়ে বিক্রয় করেন হাসিনা বেগম। জন্মপ্রতিবন্ধী দুই সন্তান ও অসুস্থ স্বামী রফিকুল ইসলামকে নিয়ে সংসার তার। নিজের জীবিকার তাগিদে পিঠা বিক্রয় করা ছাড়া উপায় নেই হাসিনা বেগমের।অসুস্থ স্বামী ও দুই প্রতিবন্ধী সন্তান নিয়ে দুর্বিষহ জীবন যাপন করছেন হাসিনা বেগম। অসুস্থ স্বামী এবং দুই সন্তান প্রতিবন্ধী হওয়ায় তাদের মুখে খাবার আর দেখাশুনা করতে হিমশিম খাচ্ছেন তিনি। এ নিয়ে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করতে হচ্ছে তাকে।সরকারি সহায়তার আশায় বারবার জনপ্রতিনিধি আর প্রশাসনের কাছে ঘুরে দুই সন্তানের দুটি ভাতার কার্ডের ব্যবস্থা করতে পারলেও আর কোন সহায়তা জোটেনি তাদের কপালে। তবে প্রতিবন্ধী পরিবারটিকে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন সরাইল উপজেলা সমাজসেবা অফিস।

হাসিনার একমাত্র ছেলে সজল মিয়া (১৮) ও মেয়ে রচনা বেগম দুজনই  জন্ম থেকে শারীরিক ও বাক প্রতিবন্ধী। তারা দুজনের একজনও চলাফেরা করতে পারে না এমনকি উঠতে ও বসতেও পারে না। সারাদিন সরীসৃপের মতো বিছানায় পড়ে থাকে। মলমূত্র সবই হয় বিছানায়। নিজের হাতে খাবারও খেতে পারে না। হাসিনা বেগমই তিনবেলা পাশে বসে ভাত নিজ হাতে খাইয়ে দেন।অসুস্থ  স্বামী ও প্রতিবন্ধী ছেলে আর মেয়েকে নিয়ে বিপাকে পড়েছেন হাসিনা বেগম। স্বামী অসুস্থ হওয়ায় পরিবারে কর্মজীবী আর কেউ নেই। স্বামীর নিজের কোন জায়গা জমিও নেই। মাঝে মাঝে স্বামী নদীতে গিয়ে মাছ ধরলেও শারীরিক দুর্বলতার কারণে প্রায় অসুস্থ হয়ে পড়েন।

সংসারের আয়ের কোন পথ না থাকায় বসবাসের ঘরটিও জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। বাজারে পিঠা বিক্রি করে যা পান তা দিয়েই কোনরকমে চলে তাদের সংসার। খাবারের পানির জন্য অনেক কষ্ট করেন। এক বছর আগে আশুগঞ্জের এক ব্যক্তি একটা টিউবওয়েল দিয়েছিলেন কিন্তু দুর্ভাগ্য টিউবওয়েলটির পানি গোমূত্রের মতো লাল ও গাঢ় হওয়ার কারণে পানি ব্যবহারের অনুপযোগী। প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে মেঘনা নদী থেকে প্রতিদিন ৮/১০ কলসি পানি এনে গোসল করাতে হয় দুই প্রতিবন্ধী সন্তানকে। হাসিনা বেগম বলেন, এই অভাবী সংসার টানতে টানতে নিজেই অসুস্থ হয়ে যাচ্ছি।

 শত কষ্টে দিন কাটলেও কপালে সরকারি সহায়তা তো দূরের কথা খোঁজখবর নেয়নি কেউ। পিঠা বিক্রয় করে যা পাই, তা দিয়েই চলতে হয়। এছাড়া কি বা করার আছে! রাজাপুর গ্রামের ইউপি সদস্য জিন্নত আলী বলেন, রফিকের দুই সন্তানই প্রতিবন্ধী। রফিক নিজেও অসুস্থ। রোজগার করতে পারে না। রফিকের বউ চক বাজারে পিঠা বিক্রি করে সংসার চালায়। তাদের দুই প্রতিবন্ধী সন্তানেরই ভাতার কার্ড হয়েছে। সরাইল উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুল হক মৃদুল জানান, যেহেতু প্রতিবন্ধী দুইটি সন্তান প্রতিবন্ধী ভাতা পায়, এছাড়া আর কোন সহায়তা করার উপজেলা প্রশাসনের কাছে সুযোগ নেই।