বগুড়ায় করোনায় একের পর  এক আক্রান্ত হচ্ছেন পুলিশ

Online Desk Online Desk
প্রকাশিত: ০৭:১৫ পিএম, ১৪ মে ২০২০

নাসিমা সুলতানা ছুটু ঃ করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে সরাসরি মাঠে লড়াই করছেন যারা তাদের মধ্যে অন্যতম স্বাস্থ্য বিভাগ ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এরই মধ্য বগুড়ায় একের পর এক পুলিশ সদস্য করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্তওই বাহিনীর মোট ১১ জন সদস্যের করোনা পজেটিভ শনাক্ত হয়েছে। আর প্রথম বগুড়ায় একজন চিকিৎসক আক্রান্তের খবরও পাওয়া গেছে। আক্রান্ত ১১ জন পুলিশ সদস্যের মধ্যে ৯ জন বগুড়া জেলার এবং অপর দু’জনের বাড়ি বগুড়া হলেও তাদের কর্মস্থল অন্য শহরে। অপরদিকে আক্রান্ত চিকিৎসক বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে কর্মরত। 

বগুড়ায় প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত রোগীও পুলিশ সদস্য। জেলার আদমদীঘি উপজেলার শাঁওইল গ্রামের বাসিন্দা ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কনস্টেবল আহসান হাবীব ১৫ এপ্রিল বগুড়ায় প্রথম করোনা রোগী হিসেবে শনাক্ত হন। তাকে ওই রাতেই করোনার জন্য বিশেষায়িত মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। এ ক’দিন পরই তিনি সুস্থ হয়ে তিনি বাড়ি ফিরে যান। এরপর বগুড়ায় একের পর এক পুলিশ সদস্য আক্রান্ত হয়েছেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী জানান, করোনা আক্রান্ত ১১ জন পুলিশের মধ্যে ৯ জনই বগুড়া জেলার, বাকি ২ জন ঢাকায় কর্মরত। বগুড়ায় আক্রান্ত ৯ জনের মধ্যে একজন সাব-ইন্সপেক্টর, দু’জন এএসআই এবং ছ’জন কনস্টেবল রয়েছেন। অপর দু’জন ঢাকার। এদের একজন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কনস্টেবল এবং অপরজন এসআই। 

অপরদিকে পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য মতে, সারা দেশে এ পর্যন্ত এক হাজার ৯২৬ জন পুলিশ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। দেশের পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে আক্রান্ত সন্দেহে আরও এক হাজার ১৫৯ জনকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসায় কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে ৪ হাজার ৯৬১ জনকে। আক্রান্তদের মধ্যে অধিকাংশই মাঠপর্যায়ের সদস্য। এর মধ্যে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সদস্য রয়েছেন ৯০৭ জন। গত মঙ্গলবার পর্যন্ত ডিএমপিতে আক্রান্ত হয়েছিলেন ৮৬৫ জন।

নতুন করে আরও ৪২ জন ডিএমপির সদস্য আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে মাঠপর্যায়ের সদস্য ছাড়াও দুজন অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (এডিসি) ও একজন সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) পদমর্যাদার কর্মকর্তা রয়েছেন। করোনা ভাইরাসে এখন পর্যন্ত পুলিশের মোট ২৯৮ সদস্য সুস্থ হয়েছেন। আর মারা গেছেন সাতজন।

একের পর এক পুলিশ সদস্যদের আক্রান্ত হওয়ার বিষয়ে বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, করোনাভাইরাস একটি জাতীয় দুর্যোগ। এই দুর্যোগকে মোকাবেলা করতে গিয়ে পুলিশের যারা মাঠে কাজ করছেন তাদের পাশাপাশি কর্মকর্তারও আক্রান্ত হচ্ছেন। কিন্তু এতে করে তাদের কারো মনোবল নষ্ট হয়নি। মানসিকভাবে সবাই দৃঢ় অবস্থানে রয়েছেন। যারা আক্রান্ত হয়েছেন তাদেরও মানসিক শক্তি প্রবল। আমাদের পক্ষ থেকে তাদের যথাযথ খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘একজনও পুলিশ সদস্য যতক্ষণ পর্যন্ত সুস্থ থাকবেন ততক্ষণ পর্যন্ত করোনার বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতার লড়াই তিনি চালিয়ে যাবেন’।

বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের যে চিকিৎসক আক্রান্ত হয়েছেন তার বয়স ৪০ বছর। ওই চিকিৎসক করোনা আক্রান্ত কোন রোগীর সংস্পর্শে গিয়েছিলেন বলেই মনে করছেন চিকিৎসকরা। ওই হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) ডাঃ শফিক আমীন কাজল জানান, জরুরী বিভাগের ওই চিকিৎসক আক্রান্ত হওয়ার পরে হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ ১৭ জনকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। ওই চিকিৎসককেও হাসপাতালে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। 

ডাঃ শফিক আমীন কাজল আরও জানান, হাসপাতালের চিকিৎসক-নার্সসহ প্রতিটি স্টাফ প্রতিদিন সর্বোচ্চ স্বাস্থ্যবিধি মেনে এবং সুরক্ষার পোশাক পরেই হাসপাতালে প্রবেশ করছে। হাসপাতালের ভর্তিকৃত রোগীদের কাছে যাওয়ার আগে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মানার জন্য আধাঘন্টা ব্রিফিং করা হয়। চিকিৎসক এবং সেবিকা আক্রান্ত হওয়ায় অন্যান্য চিকিৎসক ও সেবিকা বা স্বাস্থ্যখাতে কর্মরতদের মধ্যে আতংক কাজ করছে কী-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সবার ক্ষেত্রে না হলেও কারো কারো মধ্যে আতংক কাজ করছে। তবে করোনা যেহেতু বৈশ্বিক মহামারী, তাই এর বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ সামর্থ্য দিয়ে আমাদের লড়াই করতে হবে’। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘চিকিৎসক বা সেবিকা আক্রান্ত হওয়ায় কিছুটা হলেও চিকিৎসা সংকট সৃষ্টি হয়’।