একটি বাঁশের সাঁকো দুই উপজেলার নিবিড় বন্ধন

Staff Reporter Staff Reporter
প্রকাশিত: ১০:৪৬ এএম, ৩০ জানুয়ারি ২০২১

রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি : নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার ঘোষগ্রাম-আন্ধার কোটা নামক স্থানে নওগাঁর ছোট যমুনা নদীর উপর দিয়ে চলাচলের জন্য এলাকাবাসীর উদ্যোগে বাশের সাঁকো নির্মাণ করায় রাণীনগর ও আত্রাই দ’ু উপজেলার মানুষের মাঝে যোগ হয়েছে নিবিড় সেতু বন্ধন। আত্রাই উপজেলার বিল বেষ্টিত কালিকাপুর ইউপি’র অবহেলিত জনপদের মধ্যে আটগ্রাম, হরপুর, তারানগর, বাউল্লাপাড়া, ঝিয়াড়িগ্রাম, শলিয়া গ্রামসহ রাণীনগর উপজেলার কৃষ্ণপুর, মালঞ্চি, ঘোষগ্রাম, নান্দাইবাড়ি, বেতগাড়ী, ভবাণীপুর, কালিকাপুর গ্রামের প্রায় ৩ হাজার লোকের বসবাস হলেও যোগাযোগ ব্যবস্থার তেমন উন্নয়ন না হওয়ায় রাষ্টের অনেক জরুরি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছে এই দুই উপজেলার কয়েক গ্রামের অধিবাসী। যোগাযোগ ব্যবস্থার এই আধুনিকতার যুগে স্বাধীনতার ৫০ বছর চললেও নওগাঁর ছোট যমুনা নদীর উপর দিয়ে পারাপারের জন্য রাণীনগর উপজেলার ঘোষগ্রাম ও আত্রাই উপজেলার আন্ধার কোটা নামক স্থানে নদীর উপর একটি ব্রিজ তৈরির অভাবে দীর্ঘদিন ধরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বর্ষা মৌসুমে নৌকা এবং শুষ্ক মৌসুমে বাঁশের সাঁকোই তাদের চলাচলের ভরসা। প্রায় ১০টি গ্রামের কৃষক-শ্রমিক, স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীসহ প্রায় ৩ হাজার জনগণের বাস।
জানা গেছে, রাণীনগর উপজেলার সদর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দক্ষিণে সীমান্ত ঘেঁষা ও আত্রাই উপজেলার সদর থেকে ১২ কিলোমিটার পশ্চিমে বুক চিড়ে বয়ে গেছে নওগাঁর ছোট যমুনা নদী। বন্যা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগে বছরের বেশিরভাগ সময় ধরে বন্যার পানি চারিদিকে ঘিরে থৈ থৈ করে।  তখন পারিবারিক প্রয়োজনে যাতায়াতের এক মাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়ায় ভাড়ায় চালিত নৌকা।

 কিন্তু শুষ্ক মৌসুমের শুরুতেই বিলের পানি কমতে থাকায় পানি-কাদায় একাকার হওয়ায় পায়ে হেঁটেই উপজেলার আটগ্রাম, হরপুর, তারানগর, বাউল্লাপাড়া, ঝিয়াড়িগ্রাম, শলিয়া গ্রামসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষ প্রয়োজনের তাগিদে জেলা ও উপজেলা সদরে যেতে হয়। নওগাঁর ছোট যমুনা নদীর নাব্যতা সংকটের কারণে নৌকা চলাচল বন্ধ থাকা ঘোষগ্রাম-আন্ধার কোটা নামক স্থানে নদী পারাপারের জন্য একটি বাঁশের সাঁকোর উপরই ভরসা করতে হয়। যানবাহন চলাচলের উপযোগী সরাসরি কোন পথ না থাকায় আত্রাই উপজেলার ওই গ্রামগুলোতে সবচেয়ে বেশি ইরি ধান উৎপাদন এলাকা হিসেবে পরিচিত। স্থানীয় কৃষকেরা তাদের উৎপাদিত ধানসহ অন্যান্য কৃষি পণ্যসামগ্রী সহজভাবে বাজারজাত করতে না পারায় নায্য মূল্য প্রাপ্তি থেকে মোটা অংকের লোকসান গুণতে হয়। অনেকটা বাধ্য হয়েই ফরিয়া ও মহাজনদের কাছে চলমান বাজার মূল্যের চেয়ে কমদামে কৃষি পণ্য বিক্রি করতে হয়। এখানে একটি ব্রিজ নির্মাণের এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি থাকলেও প্রকল্প আসে প্রকল্প যায় এই এলাকাবাসীর ভাগ্য উন্নয়নের কারো যেন মাথা ব্যথা নাই।

আত্রাই উপজেলার আন্ধার কোটা গ্রামের সাহাদ আলী (৭০) মহিদুল ইসলাম (৪৫), কালিকাপুর গ্রামের রুহুল আমিন (৩৮) জানান, এখানে একটি ব্রিজ না থাকায় দুই পারের মানুষেরই চলাচলের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বিশেষ করে ইরি-বোরো মৌসুমে ধান কাটাসহ আনা নেওয়া খুব অসুবিধা হয়। তাই একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হলে সবাই উপকৃত হবে। আত্রাই উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নাজমুল হক নাদিম বলেন, শলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ হইতে অন্ধার কোটা পর্যন্ত পাকা সড়ক এবং ছোট যমুনা নদীর উপরে একটি ব্রিজ নির্মানের জন্য যাচাই বাচাই ও পরীক্ষা নিরিক্ষা চলছে। ব্রিজটি নির্মাণ করা হলে আমার ইউনিয়নবাসীসহ আশেপাশে বসবাসরত সর্বসাধারণের জীবনযাত্রার মান পাল্টে যাবে।