পীরগঞ্জে কমলা চাষে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছেন জুয়েল

Staff Reporter Staff Reporter
প্রকাশিত: ১০:৪২ এএম, ৩০ জানুয়ারি ২০২১

পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি : ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে দার্জিলিং জাতের কমলা চাষ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন উদ্যোক্তা জুয়েল। ইতোমধ্যে জুয়েলের কমলা চাষের সাফল্যের কথা ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র। স্বাদে, আকারে ও রঙে অতুলনীয় দার্জিলিং জাতের এই কমলা গোটা বাগান জুড়ে এর প্রতিটি গাছে ২-৪ মণ করে কমলা শোভা পাচ্ছে তার বাগানে। বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রতিদিন মানুষ দেখতে আসছেন কমলা বাগান দেখতে। সেই সাথে কিনছেন সরাসরি গাছ থেকে তোলা কমলা।

সফল উদ্যোক্তা আবু সাইদ জুয়েল বলেন, ২০১১ সালের দিকে হবে আমি ঠাকুরগাঁও বিএডিসি অফিসে যাই বীজের চেক নেওয়ার জন্য। পাশে হর্টিকালচার সেন্টার থেকে আসার পথে ২৪ টি দার্জিলিং প্রজাতির চারা সংগ্রহ করে নিয়ে আসি। চারাগুলি যতœ সহকারে উপজেলার মালঞ্চা এবং বীরহলি গ্রামে আমার খালি জায়গায় রোপণ করি। গাছগুলি দুই বছরের মাথায় বড় সড় হয়ে ফুল আসে। যেহেতু কমলার চারাগুলো দার্জিলিং থেকে নিয়ে আসা তাই একে দার্জিলিং জাতের কমলা বলা হয়। অস্ট্রেলিয়া, কানাডা এবং আমেরিকার গেলে আমি সেখানকার কমলা বাগান দেখতে যাই এবং খুঁটিনাটি জ্ঞান নেওয়ার চেষ্টা করি। দেশে ফিরে আরো দুই জাতের কমলার চারা ঢাকা থেকে সংগ্রহ করি। যার একটি অস্ট্রেলিয়ার অপরটি চাইনিজ কমলার চারা। বাগানে তিন জাতের কমলা গাছে এখন পুরো দমে ফল আসছে।

 দার্জিলিং এর মাটির সাথে এ অঞ্চলের মাটির বেশ মিল রয়েছে সেই সাথে এ অঞ্চল একই অববাহিকায় হওয়ার দার্জিলিং জাতের এই কমলা চাষাবাদে এ ভূমি উর্বর। জুয়েলের কমলা বাগান দেখতে আসা পঞ্চগড়ের নাজিম উদ্দীনের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, ভাবাই যায় না এতো সুন্দর কমলা আমাদের দেশে হতে পারে। ইতোমধ্যে চিটাগাং এবং ঢাকা থেকে বিভিন্ন ফড়িয়া আসছেন কমলা কেনার জন্য। ঠাকুরগাঁও এবং আশেপাশের ফলের দোকানগুলোতে শোভা পাচ্ছে পীরগঞ্জের কমলা। দিনাজপুর  হর্টিকালচার সেন্টারের উপপরিচালক প্রদীপ কুমার গুহ জানান, জুয়েলের বাগানে একটি গাছে ৩ থেকে ৪শ’ কমলা যা প্রায় ২ থেকে ৩ মণ। যার বাজার মূল্য অনেক। আশাকরি দিনাজপুর অঞ্চলের শিক্ষিত তরুণরা এগিয়ে আসবে জুয়েলের কমলা চাষের সফলতা দেখে। এ অঞ্চলে কমলা চাষে কৃষি অর্থনীতিতে বিরাট অবদানের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কৃষি বাণিজ্যিকীকরণে যুগান্তকারী পরিবতর্ন আসবে।