নান্দাইলে প্রায় ৪ কোটি টাকা কর্মসৃজন প্রকল্পে হরিলুট কাগজেপত্রে শ্রমিক তালিকা থাকলেও বাস্তবে কাজ হচ্ছে ভেকুমেশিনে

Staff Reporter Staff Reporter
প্রকাশিত: ০৮:৪৯ পিএম, ১৩ জানুয়ারি ২০২১

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি : ময়মনসিংহের নান্দাইলে অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির (ইজিইপি) আওতায় ২০২০-২০২১ অর্থবছরে প্রথম পর্যায়ে উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে ৯৭টি প্রকল্পে ৪৯৬৫ জন শ্রমিকের বিপরীতে মোট ৩ কোটি ৯৭ লাখ ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ হলেও বাস্তবে হরিলুট চলছে। এ নিয়ে ভুক্তভোগী বঞ্চিত শ্রমিক পর্যায়ে মিশ্রপ্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী শ্রমিকদের অভিযোগ সরকার ৪০ দিনের কাজ দিয়েছে শ্রমিকদের জন্য কিন্তু স্থানীয় প্রশাসন ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বারদের সাথে যোগসাজস করে প্রকল্পের টাকা লুট করছে। শ্রমিকদের কাজ কেড়ে নিয়ে মেশিন দিয়ে কাজ করছে।  
সরেজমিন দেখা যায়, উপজেলায় কর্মসংস্থান কর্মসূচি প্রকল্প বাস্ত—বায়ন কাজে কোনো নিয়মনীতি মানছেন না প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। কাগজ-কলমে কাজ শুরু হলেও মাঠপর্যায়ে দেখা গেছে বিপরীত চিত্র। সংশ্লিষ্ট একাধিক জনপ্রতিনিধি নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরুই করেননি। পরবর্তীতে সময় বাড়ানোর ফলে এরই মধ্যে স্ব-স্ব প্রকল্পের সভাপতিরা দ্রুত কাজ সম্পন্ন করতে শ্রমিকের বদলে ভেকুমেশিন দিয়ে তোড়জোড় কাজ শুরু করেন। প্রতিদিন ২০০ টাকা মজুরি হিসাবে কাগজে-পত্রে শ্রমিকের নাম থাকলেও বাস্তবে শ্রমিকের বিপরীতে ভেকু দিয়ে প্রকল্পের কাজ করানো হচ্ছে। গত ৮ জানুয়ারি থেকে ১২ জানুয়ারি মঙ্গলবার পর্যন্ত  বিভিন্ন প্রকল্প ঘুরে দেখা গেছে ব্যাপক অনিয়ম। অধিকাংশ প্রকল্পেই কোনো সাইনবোর্ড না টাঙিয়ে তথ্য গোপন করা হয়েছে। বেশিরভাগ প্রকল্পে কোনো শ্রমিকের উপস্থিতি নেই। ভেকু মেশিনে হচ্ছে কাজ। এতে প্রতি ঘন্টায় দুই হাজার টাকা ভাড়া নিচ্ছেন ভেকু মালিক।

 মূলত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তদারকির অভাবে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা সরকারি অর্থ লোপাট করছেন এভাবেই। উপজেলার মুশুল্লী, রাজগাতিসহ প্রায় সবকটি ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে দেখা গেছে এ চিত্র। মুশুল্লী ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মো. ইকবাল ও ফারুক মিয়া প্রকল্পে ভেকু মেশিনে মাটি কাটার কথা স্বীকার করে বলেন, এই কাজে শ্রমিকের প্রয়োজন নেই, আমার প্রকল্পে মাটি পড়েছে, সেটিই বড় কথা। তবে কেন শ্রমিক বাদ দিয়ে ভেকু মেশিনে কাজ হচ্ছে, তা চেয়ারম্যান বলতে পারবেন। স্থানীয় সচেতন মহল জানায়, কর্মসৃজন কর্মসূচির কাজ সরকার গরিব মানুষের জন্য চালু করেছে। গরিবের মজুরির টাকা আত্মসাৎ করা উচিত হচ্ছে না। মুশুল্লী ইউপি চেয়ারম্যান ইফতেকার উদ্দিন ভূইয়া বিপ্লব বলেন, শ্রমিক না পাওয়ায় কয়েকটি প্রকল্পে ভেকু লাগানো হয়েছে। খবরের সত্যতা স্বীকার করেছেন নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. এরশাদ উদ্দিন। তিনি বলেন, অতি দরিদ্রদের ৪০ দিনের কর্মসৃজন কর্মসূচিতে অনিয়মের বিষয়টি জানতে পেরে ভেকু মেশিনে কাজ বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ময়মনসিংহ জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা সানোয়ার হোসেন বলেন, বিষয়টি জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখব।