যশোর অঞ্চলের জনগণ পদ্মা সেতু রেললাইনের সুফল পাবে : রেলওয়ে মহাপরিচালক

Staff Reporter Staff Reporter
প্রকাশিত: ০৯:২৩ পিএম, ১০ জানুয়ারি ২০২১

যশোর  প্রতিনিধি :  পদ্মা সেতু রেল সার্ভিস চালু হলে যশোর অঞ্চলের জনগণ সুফল ভোগ করবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ রেলওয়ে মহাপরিচালক মো. শামছুজ্জামান। তিনি বলেন, পদ্মা রেল সেতু চালু হলে খুলনা থেকে ঢাকাগামী ট্রেনগুলো বসুন্দিয়া হয়ে পদ্মা সেতুতে চলে যাবে। তবে, বেনাপোল এক্সপ্রেস, কলকাতার মৈত্রী এক্সপ্রেস সরাসরি যশোরের উপর দিয়ে পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকা যাবে। এছাড়াও পদ্মা সেতু চালু হলে যশোরবাসী ছাড়াও বেনাপোল বন্দর থেকে ভারতগামী যাত্রীদের সুবিধার্থে আরও একাধিক ট্রেন সংখ্যা বাড়ানো হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে এসব মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে রেলমন্ত্রীর নেতৃত্বে রেলওয়ে বিভাগ কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে খুলনা থেকে ঈশ্বরদী পর্যন্ত ডাবল লাইন নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। গতকাল রোববার দুপুরে বেনাপোল স্টেশনের গুডস ইয়ার্ড সম্প্রসারণ কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রেলওয়ে মহাপরিচালক এসব কথা বলেন।যশোরের কৃতী সন্তান ও বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক আবেগ আপ্লুত হয়ে বলেন, সেই ১৯৭২-৭৩ সালের দিকে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়াশুনাকালে বাড়ি থেকে বেনাপোল এসে নামতাম। এরপর হাফপ্যান্ট পরে পাসপোর্ট ছাড়াই ধাক্কা দিয়ে সীমান্ত টপকে ওপার বাংলায় যেতাম ...কত স্মৃতি ...১৯৪৯ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু এই রেলপথে কলকাতা কোর্টে মামলার হাজিরা দিয়েছেন, বেনাপোল রেলস্টেশনের একটি বটগাছের ছাঁয়ায় বিশ্রাম নিয়েছেন, যা জাতির জনক কারাগারে রোজনামচা বইয়ে লিখে গেছেন।

সেই বেনাপোল আর আজকের বেনাপোল কত তফাৎ। বঙ্গবন্ধু কন্যার উন্নয়নের মহাসড়কে বেনাপোল পিছিয়ে নেই। অবিলম্বে বেনাপোলে রেল টার্মিনাল নির্মাণ ও শার্শায় আধুনিক রেলস্টেশন তৈরির পরিকল্পনা আছে। জাতির জনকের পদধুলি পড়া বেনাপোল রেলস্টেশনে বঙ্গবন্ধু ম্যুরাল নির্মাণ, যশোর রেলস্টেশন আধুনিকায়ন করা হবে।এছাড়াও ফুলের রাজধানী গদখালীতে উৎপাদিত ফুল, প্রান্তিক চাষি বা খামারিদের উৎপাদিত ফসল পরিবহনের জন্য পার্সেল এক্সপ্রেস ট্রেন চালু করা হবে। এ উদ্দেশে রেল মহাপরিচালক নিজেই কৃষক বা উৎপাদকদের কাছে গিয়ে তাদের সুবিধার্থে বিভিন্ন পরামর্শ নিচ্ছেন। এরই অংশ হিসেবে গত শনিবার ঝিনাইদহের বারোবাজার রেলস্টেশনে আয়োজিত কৃষক, ব্যবসায়ী ও নাগরিকদের সাথে কৃষিজাত পরিবহন সংক্রান্ত অংশীজন সভায় সরাসরি উৎপাদকদের সাথে কথা বলেন।

এ অঞ্চলের ডাবল লাইন চালু হলে কৃষি ও ব্যবসার প্রসার ঘটবে। তখন রেল যোগাযোগ হবে এ এলাকার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। যে কারণে খুলনা থেকে ঢাকার পথে কয়েকটি স্টেশনে কাঁচা পণ্যবাহী ল্যাগেজ ভ্যানের স্টপেজ করা হচ্ছে। খুব তাড়াতাড়ি কৃষক পর্যায়ে বৈঠক করা হবে। সেখান থেকে উৎপানের সাথে সরাসরি জড়িত কৃষকদের মতামত নেওয়া হবে। এছাড়াও সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০২৪ সালে পদ্মা রেল সেতু চালু হওয়া মাত্রই যেন এ অঞ্চলের মান্ষু সুবিধা পায় সে লক্ষ্যে সকল কাজ চলমান আছে।বাংলাদেশ রেলওয়ে মহাব্যবস্থাপক (পশ্চিম, রাজশাহী) মিহির কান্তি গুহর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার আজিজুর রহমান, বেনাপোল স্থলবন্দর পরিচালক আব্দুল জলিল, পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের প্রধান প্রকৌশলী-আল ফাত্তাহ মো: মাসউদূর রহমান মাসুদ, প্রধান পরিবহন কর্মকতা শহিদুল ইসলাম।অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, যশোর নাগরিক অধিকার আন্দোলনের সভাপতি শেখ মাসুদুজ্জামান, বেনাপোল কাস্টমস ক্লিয়ারিং এন্ড ফরওয়ার্ডিং এসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজল।