সাফারি পার্কে ফুটল চার উটপাখি ছানা

Staff Reporter Staff Reporter
প্রকাশিত: ০৯:১২ পিএম, ০৯ জানুয়ারি ২০২১

শ্রীপুর প্রতিনিধি : করোনাকালে দীর্ঘসময় সাফারি পার্ক বন্ধ রাখা হয়েছিল করোনা সংক্রমণ রোধে। তবে কিছু দিন হলো পার্ক উন্মুক্ত করা হয়েছে দর্শনার্থীদের জন্য। এরি মধ্য সুখবর দিল পার্ক কর্তৃপক্ষ। মরুভূমি অঞ্চলের প্রাণী উটপাখির ডিম থেকে ইনকিউভেটরের (তাপযন্ত্র) মাধ্যমে চারটি বাচ্চা ফুটিয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছে পার্ক কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে পার্কে আনন্দের হইচই পড়ে গেছে। আরো কিছু ডিম ইনকিউটেভেটরে এখনো রাখা আছে। আরো উটপাখির বাচ্চা ফুটবে বলে আশা করছে পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তবিবুর রহমান।

পার্ক কর্তৃপক্ষ জানান, ২০১৩ সালে দুই দফায় সুদূর দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে পশুপাখি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স ফ্যালকন ট্রেডার্সের মাধ্যমে ৬টি উটপাখি আমদানি করা হয় সাফারি পার্কের জন্য। পরে পার্কের দক্ষিণ পশ্চিম পাশের ইমু পাখির বেষ্টনীর পাশের বেষ্টনীতে রাখা হয় উটপাখিগুলো। কিছু দিন পর থেকেই নিয়মিত ডিম পাড়তে থাকে নারী উটপাখিগুলো। পরে ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে প্রাকৃতিক ভাবে উটপাখির একটি বাচ্চা ফোটে। এর পরের বছরই আরও দুটি বাচ্চা ফোটে। তারা আরও জানান প্রতি বছরই পর্যাপ্ত পরিমাণ ডিম পাড়লেও বাচ্চা ফুটছিল না। এ নিয়ে কর্তৃপক্ষ বেশ অসন্তুষ্টিতে ছিলেন। এবার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিশেষ চিন্তা ভাবনা থেকেই ইনকিউভেটরের মাধ্যমে উটপাখির ডিম থেকে উটপাখির বাচ্চা ফোটানোর চেষ্টা করেন। এর আগে ময়ূরের বাচ্চা ফোটানো হয়েছিল ইনকিউভেটরের মাধ্যমে। এবার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দূরদর্শী সে চিন্তা থেকেই ইনকিউভেটরের মাধ্যমে উটপাখির ডিম থেকে বাচ্চা ফোটানোর সফলতা পাওয়া গেল।

উটপাখির ছানাদের দেখবালের দায়িত্বে থাকা জুনিয়র ওয়াইল্ড লাইফ স্কাউট সমির সুর চৌধুরী বলেন নিয়মিত ঘরের তাপমাত্রা মাপা হয়। কলমি শাক, বাঁধাকপি কুুচি ও স্টাটার ফিড খেতে দেওয়া হয় বাচ্চাদের। বালুময় মরু অঞ্চলে এদের বেশি বিচরণ থাকে। আরবের বালুময় অঞ্চলেও রয়েছে এদের অবাদ বসবাস। আরও বলেন ন্যাচারে ৫-৫০টি পাখি দলবদ্ধ হয়ে বসবাস করে। পুরুষ পাখি দুলদুলে (বালুময়) স্থানে বাসা তৈরি করে। রাতে পুরুষ উটপাখি ডিমে তা দেয় আর দিনে নারী উটপাখি ডিমে তা দিয়ে থাকে। উটপাখি ২-৪ বছরে প্রাপ্তবয়স্ক হয়। একটি পাখি ৫-১০ ডিম পাড়তে পাড়ে। এক বাসায় একাধিক মা উটপাখি ডিম দিয়ে থাকে। উটপাখি ডিমে ৪০ দিন তা দেওয়ার পরে বাচ্চা ফোটে।সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (সহকারী বনসংরক্ষক) মো. তবিবুর রহমান বলেন, পার্কের উটপাখিগুলো সবসময় ব্রিডিং করে। সময়মত পর্যাপ্ত ডিমও দেয়। কিন্তু বাচ্চা ফুটতো না নিয়মিত। সমানে ডিম নষ্ট হতো। এ নিয়ে অসন্তুষ্টি ছিল আমাদের মাঝে। তবে দুবার প্রাকৃতিক ভাবে বাচ্চা ফুটেছিল এ বেষ্টনীতেই। তিনি বলেন এবার ভিন্ন চিন্তা করে ইনকিউভেটরের (তাপযন্ত্র) মাধ্যমে উটপাখির ডিম থেকে বাচ্চা ফোটানোর চেষ্টা করি প্রকল্প পরিচালকের সঙ্গে পরামর্শ করে। এ সাফল্য আমাদের এ সাফল্য আমাদের বড় আশা জাগিয়েছে।