বগুড়ায় দ্রুত বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা, করোনা’র সামাজিক সংক্রমণ শুরু

Online Desk Online Desk
প্রকাশিত: ০৫:০৭ পিএম, ১৩ মে ২০২০

নাসিমা সুলতানা ছুটু ঃ বগুড়ায় করোনাভাইরাসের সামাজিক সংক্রমণ শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে জেলায় আক্রান্ত ৫২ জনের মধ্যে প্রায় অর্ধেকই সামাজিক সংক্রমণের শিকার হয়েছে বলে জানা গেছে। আর এ কারণেই দ্রুত বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। এদিকে সামাজিক সংক্রমণ ঠেকাতে শহরের নিউ মার্কেটসহ অন্যান্য মার্কেট ও বিপনীবিতানগুলো সীমিত পরিসরে খুলে দেওয়া হলেও মঙ্গলবার শহরে একসঙ্গে ১১ জন কোভিড পজিটিভ হয়। এ অবস্থায়  বুধবার থেকে নিউমার্কেট আবারও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং অন্যান্য মার্কেটসহ বিপনী-বিতানগুলোর উপর বিশেষ নজরদারি রাখা হয়েছে, প্রয়োজনে সেগুলোও বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। 

গত মঙ্গলবার বগুড়া শহরের জলেশ্বরীতলার এক ব্যবসায়ী পরিবারের ৭ সদস্য এবং ৪ পুলিশসহ নতুন করে আরও ১১ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫২ জন।

অন্যান্য সংবাদ সমূহ

করোনা ভাইরাস নির্মূল হওয়ার সম্ভাবনা নেই: হু

৩০ মে পর্যন্ত বাড়ালো সাধারণ ছুটি

বগুড়ায় এক চিকিৎসকসহ আরও ৫ জন করোনায় আক্রান্ত

সিরাজগঞ্জে করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর ঘটনায় ১৭ জনের নমুনা সংগ্রহ

৬৫ বছরের নানার সাথে অষ্টম শ্রেণী পড়ুয়া নাতনীর বিয়ে

এরমধ্যে ২৯ জনই বগুড়া সদরের। বগুড়ায় সামাজিক সংক্রমণ শুরু হয় গত মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে। শহরের ফুলতলা এলাকার করোনা পজিটিভ হওয়ার খবর শুনে পালিয়ে যায় এক ব্যক্তি। এরপর দেখা যায় ওই ব্যক্তির স্ত্রী, সন্তান ও শ্যালিকা করোনা পজিটিভ হন। এছাড়া আদমদীঘি উপজেলাধীন সান্তাহার পৌরসভার এক ব্যক্তি আক্রান্ত হন। তার সংস্পর্শে এসে তার স্ত্রীও আক্রান্ত হন। এছাড়া সোনাতলা এবং সারিয়াকান্দীতে স্বামীর সংস্পর্শে এসে স্ত্রী’রা আক্রান্ত হয়েছেন। জেলায় আক্রান্ত ৯ পুলিশ সদস্যর মধ্যে গত মঙ্গলবার যে ৪ জন আক্রান্ত হয়েছেন তারাও সামাজিক সংক্রমনের শিকার হয়েছেন বলে জানা গেছে। ওইদিন শহরের জলেশ্বরীতলা এলাকার একই পরিবারের যে সাত সদস্য আক্রান্ত হয়েছেন তারা নিজেদের মধ্যে থেকেই সংক্রমিত হয়েছেন বলে জানা গেছে। 

বগুড়ার সিভিল সার্জন ডাঃ গওসুল আজিম চৌধুরী বলেন, বগুড়ায় এ পর্যন্ত ৫২ জন করোনা পজিটিভ হয়েছেন। এদের আমরা কয়েকটি ভাগে ভাগ করেছি। এদের কেউ কেউ করোনা ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলো থেকে এসেছেন। কেউ পারিবারিকভাবে আক্রান্ত হয়েছেন কেউবা স্থানীয়ভাবে সংক্রমিত হয়েছেন। সামাজিক সংক্রমন প্রতিরোধে করোনীয় সম্পর্কে তিনি বলেন, সামাজিক ও ব্যক্তিগত দুরত্ব ছাড়া সামাজিক সংক্রমণ প্রতিরোধ সম্ভব নয়। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সবাইকে চলতে হবে তবেই সামাজিক সংক্রমণ প্রতিরোধ সম্ভব। 

করোনার জন্য বিশেষায়িত বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডাঃ শফিক আমীন কাজল বলেন, জেলায় আক্রান্ত ৫২ জনের মধ্যে অর্ধেকই সামাজিক সংক্রমনের শিকার। এখনই যদি সবাই ব্যক্তিগতভাবে সচেতন না হই, তাহলে এই সংক্রমণ রোধ সম্ভব নয়। জীবিকার প্রয়োজনে কেউ কেউ হয়তো বের হচ্ছেন। এর পাশাপাশি অপ্রয়োজনে অনেকেই বের হচ্ছেন। সামাজিক সংক্রমণ রোধে একটি কথাই শুধু বলবো, ‘স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন, ঘরে থাকুন’।

বগুড়ার পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভুঞা বিপিএম-বার সামাজিক সংক্রমণ রোধে সরকারি নির্দেশনা মানা ছাড়া আর কোনো ফলপ্রসূ সমাধান নেই বলে জানান। তিনি বলেন সামাজিক সংক্রমন রোধের একটাই উপায় লকডাউন মেনে ঘরে থাকতে হবে এবং ব্যক্তিগত সুরক্ষা মেনে চলতে হবে।

বগুড়ার জেলা প্রশাসক ফয়েজ আহাম্মদ বলেন, সামাজিক সংক্রমণ রোধের জন্যই নিউ মার্কেট খোলার তিনদিন পরই তা অনির্দিষ্টকালের জন্য আবার বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছে। এছাড়া শহরের অন্যান্য মার্কেট ও বিপনীবিতানগুলোর উপর বিশেষ নজরদারি রাখা হয়েছে। তারা যদি সামাজিক দুরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি না মানে তবে সেগুলোও বন্ধ করে দেওয়া হবে। মূলত সামাজিক সংক্রমণরোধে সামাজিক সচেতনতাই বড়। 

অপরদিকে স্বাস্থ্য বিষয়ক ভারতীয় একটি জার্নালে জানা গেছে, সামাজিক দূরত্ব না থাকলে মাত্র একজন করোনা আক্রান্ত রোগীর থেকে এক মাসে সংক্রমণ হতে পারে ৪০৬ জনের। আর সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখলে সেটাই নেমে আসতে পারে মাত্র ২ দশমিক ৫-এ।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তি যদি আইসোলেশন বা কোয়ারেন্টাইনে না থাকেন এবং সমস্ত স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে থাকেন, তা হলে তার থেকে মাত্র এক মাসের মধ্যেই ৪০৬ জন সংক্রমিত হতে পারেন। অথচ তিনি যদি কোয়ারেন্টিন বা আইসোলেশনে থাকেন এবং সমস্ত সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলেন, তাহলে তার থেকে সংক্রমণের হার মাত্র ২ দশমিক ৫। অর্থাৎ তার থেকে মাত্র আড়াই জনের মধ্যে সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা থাকে।