সাপাহারে জবই বিলে অসংখ্য পরিযায়ী পাখির কলরব থেমে যেতে বসেছে

Staff Reporter Staff Reporter
প্রকাশিত: ১০:৫৪ এএম, ০১ জানুয়ারি ২০২১

সাপাহার (নওগাঁ) প্রতিনিধি : শীতের শুরুতে নওগাঁর সীমান্তঘেঁষা সাপাহার উপজেলার ঐতিহ্যবাহী জবই বিলে পরিযায়ী পাখিদের আগমন ও বিচরণ শুরু হলেও দুর্ভাগ্যজনকভাবে বিলে মৎস্য শিকারীদের অবাধ বিচরণ ও ইঞ্জিনচালিত নৌকা দিয়ে মৎস্য আহরণের ফলে পাখিগুলো আবারও হারিয়ে যেতে বসেছে। বিলপাড়ে বসবাসরত অভিজ্ঞজনদের মতে, উত্তরে ভারতবর্ষের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা, দক্ষিণে চাঁপাইনবাবগঞ্জের মহানন্দা নদী ও পুর্নভবা নদী এবং পূর্ব ও পশ্চিমে সাপাহার উপজেলাকে দু’ভাগে বিভক্ত করে বয়ে যাওয়া দিগন্ত ছোঁয়া এই বিলে অতীতে প্রতি শীত মৌসুমে সাইবেরিয়াসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে হাজারো অতিথি পাখির সমাগম ঘটতো। জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক সম্পদে ভরা এ বিলে সেসময় পাখি শিকারে তেমন কোন বাধ্যবাধকতা না থাকায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল এমনকি রাজধানী ঢাকা শহর হতে সাহেবরা এসে পাখি শিকার করতেন এই বিলে।
দেশে মৎস্য ও কৃষির আধুনিকায়নের ফলে মাঝের কয়েক বছর ধরে বিলটি প্রায় মৎস্য ও পাখিশূন্য হয়ে পড়ে। গত ২০০৮ সালে ওই বিল এলাকার যুবক সোহানুর রহমান সোহান এলাকার বেশ কিছু উজ্জীবিত যুবককে নিয়ে জবই বিল জীব বৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও সমাজ কল্যাণ সংস্থা নামে একটি সংগঠন তৈরি করেন। পরবর্তীতে তারা তৎকালীন এমপি ও বর্তমান খাদ্যমন্ত্রী বাবু সাধন চন্দ্র মজুমদার উপজেলা প্রশাসন ও বন্যপ্রাণী ব্যাবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ রাজশাহীর সহায়তায় জেলে ও স্থানীয়দের নিয়ে বিভিন্ন সভা, সেমিনার, প্রচারের ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে বিলের অতিথি পাখিদের আগমন ঘটা ও তাদের আশ্রয়ের জন্য বিলের বিভিন্ন অংশে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এই বিলকে ঘিরে একটি অত্যাধুনিক ইকোপার্ক গঠনের ঘোষণা দেন। জবই বিল জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও সমাজ কল্যাণ সংস্থার সভাপতি সোহানুর রহমান জানান, প্রতিবছর এ বিলে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে অনেক পর্যটক আসে। শীতে বিলের জীববৈচিত্র্যের প্রতি খেয়াল না করে তারা ইঞ্জিনচালিত নৌকা নিয়ে সারা বিল ঘুরে বেড়ায়। এতে করে বিলে অবস্থানরত পাখির স্বাবাভিক বিচরণ বাধাগ্রস্ত হয়। তাছাড়া বিলে এখনও পাখি শিকারিদেরও অপচেষ্টা রয়েছে। জবই বিল জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও সমাজ কল্যাণ সংস্থার এক জরিপ মতে, গত ২০১৯ সালে এ বিলে পাতিসরালী ৩ হাজার, লাল ঝুঁটি ভুতি হাঁস ৫০টি, গিরিয়া হাঁস ২৫, পাতি-তিলি হাঁস ১২, টিকি হাঁস ৫০, পিয়াং হাঁস ৪শ’, কালা পাখ-ঠেঙ্গি ৫২, গেওয়ালা বাটান ৫০, চা-পখি ২শ’ ৮০, প্রশান্ত সোনা গিরিয়া ২শ’, পাতি ভুতি হাঁস ২শ’৫০, বেগুনী বক ৪, কানি বক ১শ’, বাজলা বক ১শ’২০, গো-বক ১শ’, শামুখ খোল ৪শ’ পানকৌড়ী ৫শ’টি সহ মোট ৫হাজার ৫শ’ ৯৩টি বিভিন্ন প্রজাতির পাখি ছিল। সংস্থার সভাপতি সোহানুর রহমান সোহানসহ এলাকার অভিজ্ঞজনদের মতে মৎস্য শিকারীদের অবাধ বিচরণ বন্ধ করে ভবিষ্যতে বিলে দেশি ও পরিযায়ী পাখির আবাধ বিচরণ ধরে রাখতে পরিকল্পিতভাবে বিলের কোন এক অংশে একটি বিশেষ পাখির জীববৈচিত্র্য সংরক্ষিত অঞ্চল গড়ে তুলতে পারলে দেশের বৃহত্তম ও অন্যতম জীববৈচিত্র্যে ভরপুর সহ পর্যটন সমৃদ্ধ বিল হিসেবে পরিচিত পাবে ঐতিহ্যবাহী জবই বিল।
 এবিষয়ে সাপাহার উপজেলার নির্বাহী অফিসার কল্যাণ চৌধুরীর সাথে কথা হলে তিনিও একই মত প্রকাশ করে বলেন মৎস্য শিকারীদের কারণে একটু হলেও পাখিদের ক্ষতিসাধিত হয়েছে। তবে অচিরেই মৎস্যজীবীদের সাথে বৈঠক করে এবিষয়ে একটি সমাধান করা হবে। এছাড়া বিলটিকে পর্যটক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারের খাদ্যমন্ত্রীও নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। তারই সহযোগিতায় ইতোমধ্যে বিলে অনেক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।